হযরত মুহাম্মদ (সা.)

وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ

অর্থ: আর আমরা তোমাকে গোটা বিশ্বের জন্য কেবল রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া: ১০৮)

আল্ হাদীস

হযরত জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকেও দেয়া হয় নি। (১) আমাকে এমন প্রতাপ দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, এক মাস দূরত্বেও তা প্রতিফলিত হয়; (২) সমস্ত যমীন আমার জন্য পবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযােগী করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মতের যে কোন লােক নামাযের ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে; (৩) আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করা হয়েছে, যা আমার আগে আর কারাে জন্য হালাল করা হয় নি; (৪) আমাকে শাফা’আতের অধিকার দেওয়া হয়েছে ; (৫) সমস্ত নবী প্রেরিত হতেন কেবল তাদের নিজ সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা। হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য। (সহীহ বুখারী)

অমৃতবাণী

“সেই সর্বোচ্চ মানের জ্যোতি যা মানবকে দেয়া হয়েছে অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মানবকে, যা ফিরিশতাদের মাঝে ছিল না, নক্ষত্ররাজিতে ছিল না, চন্দ্রে ছিল না আর সূর্যেও ছিল না। যা পৃথিবীর সমুদ্র এবং নদনদীতেও ছিল না, ছিল না মণি-মানিক্যে, পদ্মরাগ মণিতে, চুনিপান্না এবং হীরা-জহরতে। মােটকথা, আকাশ ও পৃথিবীর কোন কিছুতেই তা ছিল না। তা ছিল কেবল মানবের মাঝে অর্থাৎ পূর্ণ-মানবের মাঝে, যাদের মধ্যে সবচাইতে পরিপূর্ণ, সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোচ্চ এবং সবচাইতে মহান ব্যক্তিত্ব হলেন, আমাদের নেতা ও মনিব, নবীকুল শিরােমণি, জীবনপ্রাপ্তদের সর্দার মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)। (আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম; রূহানী খাযায়েন, ৫ম খণ্ড)

যুগে যুগে তাঁর আগমনের সংবাদ


তাঁর জ্যোতির্ময় গৌরব ও মহিমা – খাতামান্‌নবীঈন


‘আমাদের নেতা ও প্রভু আঁহযরত সাল্লাল্লাহে আলাইহে ওয়া সাল্লামের প্রতি খোদাতায়ালার তরফ থেকে যে সকল নিদর্শন ও মোজেজা প্রকাশিত হয়েছিল তা কেবল সেই যুগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং, তার ধারাবাহিকতা কেয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। অতীতে যে নবীরা এসেছিলেন, তারা কেউই তাদের পূর্ববর্তী নবীর উম্মতরূপে নিজেকে গন্য করতেন না, এবং নিজেকে উম্মতি বলে প্রচারও করতেন না। যদিও তারা পূর্ববর্তী নবীর ধর্মেরই সাহায্য করতেন এবং তাদেরকে সত্য বলে জানতেন। কিন্তু, আঁহযরত সাল্লাল্লাহে আলাইহে ওয়া সাল্লামকে এক বিশেষ এই গৌরব দান করা ৬৫ হয়েছিল যে, তিনি-খাতামুন্নবীঈন। এর এক অর্থ হচ্ছে, নবুয়্যতের সমস্ত পূর্ণতা উৎকর্ষতা বা কামালাত তার উপরে খতম হয়ে গেছে; এবং এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে,- তার (সা.) পরে আর নতুন শরীয়তওয়ালা কোন রসূল নেই; এবং তার (সাঃ) পরে এমন কোন নবী নেই যিনি তার উম্মত বহির্ভূত। – (সংযুক্ত প্রবন্ধ: চশমা মারেফাত, পৃ: ৮)

তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী


মানবতার সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)


“মানবদরদী, সমগ্র বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ ও আল্লাহ্ তা’লার প্রিয়পাত্র মহানবী (সা.) মানুষের দুঃখে রাতের পর রাত বিনিদ্র কাটিয়েছেন, মানুষকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য স্বয়ং এত বেদনা ভারাক্রান্ত হয়েছেন আর নিজেকে এমন দুঃখ-কষ্টে নিপতিত করেছেন যে, স্বয়ং আরশের অধিপতি হুযুর (সা.)-কে সম্বোধন করে বলেছেন, ‘এরা তাদের সৃষ্টিকর্তা প্রতিপাল-প্রভুকে কেন চিনছে না- একথা ভেবে তুমি কি নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবে?’ ” (“হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য প্রশ্নাতীত”, পৃষ্ঠা: ০৪)

সহানুভূতিশীলতার আদর্শ হজরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)


অতএব খোদার সাথে তাঁর পরম ভালোবাসার কারণেই তিনি (সা.) তাঁর সৃষ্টির প্রতিও ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন । সৃষ্টির কষ্ট তিনি সইতে পারতেন না । আল্লাহ্‌ তা’লা যেখানে স্বীয় সৃষ্টির সাথে রহমানিয়্যাত এবং রহীমিয়্যাত বৈশিষ্ট্যের আলোকে ব্যবহার করেন সেখানে সে সত্তা যাঁর উঠা-বসা, যাঁর সকল গতি ও স্থিতি, আল্লাহ্‌ তা’লার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ছিল, তিনি (সা.) খোদার বান্দাদের সাথে সেরূপ ব্যবহার করবেন না এটি কিভাবে সম্ভব? – ( সহানুভূতিশীলতার আদর্শ হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) – জুমুআর খুতবা – ২৩শে ফেব্রুয়ারী, ২০০৭ইং)

পুস্তক