খিলাফত

وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُم مِّن بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً يَعْبُدُونَنِي لَا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئاً وَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

তোমাদের মাঝে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্‌ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদের খলীফা বানাবেন, যেভাবে তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের খলীফা বানিয়েছিলেন। (আন্‌ নূর: ৫৬)

আল্ হাদীস

قَالَ حُذَيْفَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةٌ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيَّةً فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةً عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ ثُمَّ سَكَتَ*
(احمد بیحقی، مشکوۃ جلد۲، ص۴۶۱)

‘হযরত নু’মান বিন বশীর হোযায়ফা (রা.) হতে বর্ণিত, ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে নবুয়্যত ততদিন পর্যন্ত বর্তমান থাকবে যতদিন তা আল্লাহ্ তা’লা চাইবেন। এরপর আল্লাহ্ তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর নবুয়্যতের পদ্ধতিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা ততদিন বিদ্যমান থাকবে যতদিন আল্লাহ্ চাইবেন। এরপর আল্লাহ্ তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর উৎপীড়নের রাজত্ব কায়েম হবে। এটি ততদিন থাকবে যতদিন আল্লাহ্ চাইবেন। এরপর আল্লাহ্ তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর জরবদস্তিমূলক সাম্রাজ্য কায়েম হবে এবং এটি ততদিন থাকবে যতদিন আল্লাহ্ চাইবেন। এরপর আল্লাহ্ তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর নবুয়্যতের পদ্ধতিতে পুনরায় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। এরপর তিনি (সা.) নীরব হয়ে যান।’

(আহমদ-বাইহাকী, মিশকাত, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৪৬১)

অমৃতবাণী

অতএব হে বন্ধুগণ! যেহেতু আদি কাল হইতে আল্লাহ্ তা’লার বিধান ইহাই যে, তিনি দুইটি শক্তি প্রদর্শন করেন যেন বিরুদ্ধবাদীগণের দুইটি মিথ্যা উল্লাসকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে দেখান; সুতরাং এখন ইহা সম্ভবপর নহে যে, খোদা তা’লা তাঁর চিরন্তন নিয়ম পরিহার করিবেন। এজন্য আমি তোমাদিগকে যে কথা বলিয়াছি তাহাতে তোমরা দুঃখিত ও চিন্তিত হইও না। তোমাদের চিত্ত যেন উৎকন্ঠিত না হয়। কারণ তোমাদের জন্য দ্বিতীয় কুদরত দেখাও প্রয়োজন এবং ইহার আগমন তোমাদের জন্য শ্রেয়। কেননা, ইহা স্থায়ী, যাহার ধারাবাহিকতা কিয়ামত পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হইবে না। সেই দ্বিতীয় কুদরত আমি না যাওয়া পর্যন্ত আসিতে পারে না। কিন্তু যখন আমি চলিয়া যাইব, খোদা তখন তোমাদের জন্য সেই ‘দ্বিতীয় কুদরত’ প্রেরণ করিবেন, যাহা চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকিবে, যেহেতু বারাহীনে আহ্‌মদীয়া গ্রন্থে খোদার প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি আমার নিজের সম্বন্ধে নহে বরং উহা তোমাদের সম্বন্ধে। যেমন খোদা তা’লা বলিতেছেন:

میں اس جماعت کو جو تیرے پیروں ہیں قیامت تک دوسروں پر غلبہ دوں گا ۔

ম্যাঁয় ইস জামা’তকো জো তেরে পায়রু হ্যাঁয় কিয়ামত তক দোসরো পর গালবা দুঙ্গগা

অর্থাৎ- ‘আমি তোমার অনুবর্তী এই জামা’তকে কিয়ামত পর্যন্ত অন্যের উপর প্রাধান্য দিব’। (অনূবাদক)

সুতরাং তোমাদের জন্য আমার বিচ্ছেদ দিবস উপস্থিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী, যেন এরপর সেই চিরস্থায়ী প্রতিশ্রুত দিবস এসে যায়। আমাদের খোদা প্রতিশ্রুতি পালনকারী, বিশ্বস্ত এবং সত্যবাদী খোদা। তিনি তাঁর অঙ্গীকারকৃত সব কিছুই তোমাদেরকে দেখাবেন। যদিও বর্তমান যুগ পৃথিবীর শেষ যুগ এবং বহু বিপদাপদ রহিয়াছে যা এখন অবতীর্ণ হবার সময়, তবুও সেই সব বিষয় পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ দুনিয়া অবশ্যই কায়েম থাকবে, যাহর সম্বন্ধে খোদা সংবাদ দিয়াছেন। আমি খোদার পক্ষ থেকে এক প্রকার কুদরত হিসাবে আবির্ভূত হয়েছি। আমি খোদার মূর্তিমান কুদরত। আমার পরে আরো কয়েকজন ব্যক্তি যাঁরা দ্বিতীয় বিকাশ হইবেন। অতএব, তোমরা খোদার কুদরতে সানীয়ার (দ্বিতীয় কুদরতের) অপেক্ষায় সমবেতভাবে দোয়া করতে থাকো। প্রত্যেক দেশে নিষ্ঠাবান্দের জামা’তের সমবেতভাবে দোয়ায় নিয়োজিত থাকা বাঞ্ছনীয় যেন দ্বিতীয় কুদরত আসমান থেকে অবতীর্ণ হয় এবং তোমাদের খোদা কত মহাপরাক্রমশালী তাও তোমাদেরকে দেখানো হয়। নিজ মৃত্যুকে নিকটবর্তী জানবে; তোমরা জান না, সেই মুহূর্ত কখন আসবে। জামা’তের পবিত্রচেতা বুযুর্গগণ আমার পর আমার নামে লোকদের বয়’আত (দীক্ষা) নিবেন। *খোদা তা’লা চাচ্ছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত সব সাধু প্রকৃতি বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরকে, তওহীদের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং তাঁর ভক্ত দাসদেরকে এক ধর্মে একত্রিত করেন তারা ইউরোপেই বাস করুক বা এশিয়াতেই বাস করুক। এটাই খোদা তা’লার অভিপ্রায় আর এজন্যই আমি পৃথিবীতে প্রেরিত হয়েছি।

(আল ওসীয়্যত পু্‌স্তক, মে ২০০৮ সংস্করণ [বাংলায় অনুদিত], পৃ: ১৫-১৭)

খোলাফায়ে রাশেদীন

নাম খিলাফত কাল
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) ৬৩২-৬৩৪ খ্রীস্টাব্দ
হযরত উমর ফারুক (রা.) ৬৩৪-৬৪৪ খ্রীস্টাব্দ
হযরত উসমান গণী (রা.) ৬৪৪-৬৫৬ খ্রীস্টাব্দ
হযরত আলী বিন আবি তালিব (রা.) ৬৫৬-৬৬১ খ্রীস্টাব্দ

খেলাফতে আহ্‌মদীয়া

নাম খিলাফত কাল
হযরত মওলানা হেকীম নূর উদ্দীন – খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা.) ২৭শে মে, ১৯০৮ইং – ১৩ই মার্চ, ১৯১৪ইং
হযরত মির্যা বশীর উদ্দীন মাহমুদ আহমদ – খলীফাতুল মসীহ্ সানী (রা.) “আল্‌-মুসলেহ মওউদ” ১৪ই মার্চ, ১৯১৪ইং – ৭ই নভেম্বর ১৯৬৫ইং
হযরত মির্যা নাসের আহমদ – খলীফাতুল মসীহ্‌ সালেস (রাহে.) ৮ই নভেম্বর ১৯৬৫ইং – ৯ই জুন ১৯৮২ইং
হযরত মির্যা তাহের আহমদ – খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহে.) ১০ই জুন ১৯৮২ইং – ১৯শে এপ্রিল ২০০৩ইং
হযরত মির্যা মসরূর আহমদ – খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই.) ২২শে এপ্রিল ২০০৩ইং – বর্তমান

শতবার্ষিকী জুবিলী উপলক্ষ্যে অঙ্গীকারনামা


أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله

আহ্‌মদীয়া খিলাফতের শত বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ আমরা আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে এই অঙ্গীকার করছি যে, আমরা ইসলাম ও আহ্‌মদীয়াতের প্রসার আর হযরত মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর নাম পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য আমরা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। পবিত্র এই দায়িত্ব সম্পাদনের লক্ষ্যে আমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল (সা.)-এর জন্য আমাদের জীবন সর্বদা উৎসর্গ করে রাখবো এবং বৃহৎ থেকে বৃহত্তর সব ত্যাগ স্বীকার করে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের পতাকাকে বিশ্বের প্রতিটি দেশে সমুন্নত রাখবো। আমরা আরও অঙ্গীকার করছি যে, খিলাফত ব্যবস্থার সুরক্ষা এবং এর দৃঢ়তার লক্ষ্যে জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আমরা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাবো, অধিকন্তু বংশ পরম্পরায় নিজ সন্তান-সন্ততিদেরকে খিলাফতের সাথে সংবদ্ধ থাকা ও এর কল্যাণরাজি অর্জনে সচেষ্ট থাকার বিষয়ে নসীহত করে যাবো যেন কিয়ামত কাল পর্যন্ত আহ্‌মদীয়া খিলাফত সুরক্ষিত থাকে এবং আহ্‌মদীয়া জামাতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার কিয়ামতকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। আর মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর পতাকা যেন অন্য সব পতাকার ঊর্ধ্বে উড্ডীন থাকে। হে খোদা! এই অঙ্গীকার পূর্ণ করার সামর্থ তুমি আমাদের দাও। আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহুম্মা আমীন !