যায়োনে ‘সুমহান বিজয়’-এর মসজিদ উদ্বোধন – প্রকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার এক প্রতীক – সংবর্ধনা: ফাতহে আযীম মসজিদ যায়োন (Zion), ইলিনিয়স, যুক্তরাষ্ট্র – ২০২২

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস

০২-অক্টোবর, ২০২২

ফাতহে আযীম মসজিদ, যায়োন, ইলিনিয়স, যুক্তরাষ্ট্র

যায়োনে ‘সুমহান বিজয়’-এর মসজিদ উদ্বোধন – প্রকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার এক প্রতীক

শনিবার, ১লা অক্টোবর ২০২২, ইলিনয়ের যায়োন শহরে ফতহে আযীম (সুমহান বিজয়) মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্ হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.)-এর মূল ভাষণ

১লা অক্টোবর ২০২২, ইলিনয়ের যায়োন শহরে ফতহে আযীম (সুমহান বিজয়) মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মূল ভাষণ প্রদান করেন আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্ হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.)। সাপ্তাহিক জুমুআর খুতবার মাধ্যমে এর এক দিন আগে হুযূর আনুষ্ঠানিকভাবে এই মসজিদটির উদ্বোধন করেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, ধর্মীয় নেতা এবং স্থানীয় অধিবাসীসহ ১৪০ জনের অধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। হুযূর আকদাস প্রদত্ত বক্তৃতার বঙ্গানুবাদ নিম্নে উপস্থাপন করা হলো।

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম – আল্লাহর নামে, যিনি অযাচিত অসীম দাতা, বারবার দয়াকারী।
সকল সম্মানিত অতিথিবর্গ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু – আপনাদের সকলের ওপর আল্লাহর শান্তি ও আশিস বর্ষিত হোক।
প্রথমত, আমি আপনাদের সকলকে আজ এই সন্ধ্যায় আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। এটি কোন পার্থিব অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি ইসলামী সম্প্রদায়ের আয়োজিত একটি পুরোপুরি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, আর তাই এতে আপনাদের অংশগ্রহণ আপনাদের উন্মুক্ত হৃদয়, সহিষ্ণুতা এবং উদারচিত্ততার এক সাক্ষ্য বহন করে। অতএব, আমি আপনাদের সকলের কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ যে, আপনারা আজকে আমাদের সাথে যোগদান করেছেন যখন আমরা এখানে এই যায়োন শহরে আমাদের নতুন মসজিদের উদ্বোধন উদযাপন করছি।
বেশ কয়েক দশক পূর্বে এই শহরে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল; কিন্তু, ইবাদতের জন্য আমাদের একটি যথাযথ মসজিদ ছিল না। সুতরাং, আজকের দিনটি আমাদের জামা’তের জন্য একটি অত্যন্ত আনন্দের এবং তাৎপর্যপূর্ণ দিন। প্রকৃতপক্ষেই, সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, তাদের যেন এমন উপাসনার স্থান থাকে যেখানে তাদের সদস্যগণ ইবাদতের জন্য সমবেত হতে পারেন। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমরা বিশ্বাস করি একটি মসজিদ থাকার মাঝে দুই প্রকারের সর্বজনীন কল্যাণ রয়েছে। প্রথমত, এটি মুসলমানদেরকে খোদা তা’লার ইবাদতের উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার এবং তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব এবং ধর্মবিশ্বাসের দাবি পূরণ করার সুযোগ করে দেয়। ইসলামে একজন মুসলমানকে প্রতিদিন পাঁচবার নামায পড়ার নির্দেশ রয়েছে। এছাড়াও, একটি মসজিদ নির্মাণের দ্বিতীয় বড় কল্যাণ এই যে, এটি বিস্তৃত পরিসরে সমাজের মাঝে ইসলাম এবং এর শিক্ষাকে পরিচিত করতে সাহায্য করে। যদি মসজিদে ইবাদতকারীগণ আন্তরিকভাবে ইসলামের শিক্ষার প্রতিফলন ও প্রতিনিধিত্ব করতে সচেষ্ট হন, তবে প্রকৃতিগতভাবেই এটি স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে কৌতূহল এবং আগ্রহের উদ্রেক ঘটাবে। তাদের মাঝে মুসলমানদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে দেখে ইসলাম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান এবং উপলব্ধি বৃদ্ধি পাবে এবং এ নিয়ে তাদের অন্তরে বিদ্যমান ভীতি বা শঙ্কা, ইনশা’আল্লাহ্‌ (আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়) মিলিয়ে যাবে। সুতরাং, এই উদ্দেশ্য দু’টি পূরণ করার লক্ষ্যে আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বিশ্বজুড়ে মসজিদ নির্মাণ করে থাকে।

একটু অগ্রসর হওয়া যাক। আপনাদের অনেকেই হয়তো জানতে আগ্রহী হবেন অন্যান্য মুসলমানদের সাথে আহমদী মুসলমানদের পার্থক্য কী। এই ক্ষেত্রে, পবিত্র কুরআনের এক মহান ভবিষ্যদ্বাণী এবং মহানবী (সা.) এর প্রদত্ত সংবাদ অনুযায়ী এটি নির্ধারিত ছিল যে, শতাব্দীর পর শতাব্দী অতিক্রান্ত হতে হতে মুসলমানগণ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাবেন। পরিণামে, এমন হবে যে, তাদের অধিকাংশই ইসলামের শিক্ষাকে পরিত্যাগ করবেন এবং নামমাত্র মুসলমান হবেন। একই সময়ে আল্লাহ্‌ তা’লা এবং মহানবী (সা.) এই শুভ সংবাদ প্রদান করেছিলেন যে, এমন আধ্যাত্মিক অবক্ষয়ের যুগে, খোদা তা’লা এক প্রতিশ্রুত সংস্কারক প্রেরণ করবেন যিনি ইসলামের শিক্ষাকে পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবন দান করবেন এবং তিনি মুহাম্মদী মসীহ্‌ (আ.) হিসেবে পরিচিত হবেন। সেই মসীহ্‌ ঘোষণা করবেন যে, ইসলামের শিক্ষা ছিল ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতা নির্বিশেষে শান্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির শিক্ষা। আহমদী মুসলমান হিসেবে, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমাদের জামা’তের প্রতিষ্ঠাতা কাদিয়ানের হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) ছিলেন সেই প্রতিশ্রুতি মসীহ্‌ ও সংস্কারক যার সম্পর্কে পবিত্র কুরআন এবং মহানবী (সা.)-এর হাদীসে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল।
তাঁর জীবদ্দশায়, আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রতিষ্ঠাতা তাঁর অনুসারীদেরকে এই নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন যে, তারা যেন সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসা, কল্যাণ এবং সহানুভূতির ইসলামী শিক্ষার ওপর আমল করার মাধ্যমে ইসলামের বাণীকে ছড়িয়ে দেন এবং মানবজাতির হৃদয় ও মন জয় করে নেন। বস্তুত, প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) দাবি করেন যে, মূসায়ী মসীহ্‌, হযরত ঈসা (আ.)-এর আধ্যাত্মিক পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনি ইসলামের শিক্ষা প্রচার করবেন। তাই নবী ঈসার মত প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) মানবজাতির জন্য সহানুভূতি ও সৌহার্দ্য প্রদর্শন করেন। তার প্রতিটি কথা এবং কর্মের উদ্দেশ্য ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে সকলের মাঝে সৌহার্দ্য সৃষ্টির এক প্রেরণা লালন করা। তিনি তাঁর অনুসারীদেরকে স্মরণ করিয়েছেন যে, ‘ইসলাম’ শব্দটির অর্থই ‘শান্তি ও নিরাপত্তা’। আর, তাঁর আগমনের পরে, ইসলাম তার আধ্যাত্মিক উৎসমূলে প্রত্যাবর্তন করবে এবং একদিন বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা, সহিষ্ণুতা, শান্তি ও সৌহার্দ্যের ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে। প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) ব্যাখ্যা করেন যে, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী ইসলামের প্রাথমিক যুগের যুদ্ধগুলো একেবারেই প্রতিরক্ষামূলক ছিল এবং সম্ভাব্য সবচেয়ে গুরুতর নিপীড়নের প্রত্যুত্তরে লড়া হয়েছিল। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর কল্যাণময় যুগে, কিংবা তাঁর চার জন খুলাফায়ে রাশেদীনের সময়কালে কখনো একটিবারও মুসলিম সেনাবাহিনী যুদ্ধের সূচনা করে নি অথবা কোন প্রকারের নিষ্ঠুরতা বা অবিচারের আশ্রয় নেয় নি। বরং, যে যুদ্ধেই তারা অংশ নিয়েছেন, তা সকল ধরনের অমানবিকতা এবং নির্যাতন বন্ধ করার জন্যই করা হয়েছিল।

আধুনিক যুগে যখন বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতসমূহ অরাজকতা ও ধ্বংসের বিস্তার করে চলেছে, প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) বলেন যে, ধর্মীয় যুদ্ধের অবসান হয়েছে। সুতরাং, মুসলমানদের জন্য বা অন্য কোন ধর্মাবলম্বীদের জন্য তাদের নিজ ধর্মের নামে যুদ্ধ করার কোন যথার্থতা নেই। সুতরাং, এটি একেবারে স্পষ্ট হওয়া উচিত যে, কোনো ভূমির ওপর বিজয় লাভ করা, কোনো এলাকা দখল করা, কোনো শহরের ওপর বিজয়ী হওয়া বা কোনো জাতিকে নির্মূল করে দেওয়া আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের উদ্দেশ্য নয়। আর সেই সকল দেশে যেখানে আমাদের শিক্ষা এবং আমাদের ধর্মবিশ্বাস বহুল সংখ্যক মানুষ গ্রহণ করেছে, সেখানেও আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন বা পার্থিব প্রভাব বিস্তারের কোনো আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করি নি।
আমাদের একমাত্র মিশন এবং আমাদের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ভালোবাসার মাধ্যমে মানবজাতির হৃদয় জয় করা এবং তাদেরকে খোদা তা’লার নিকটবর্তী করা; যেন তারা তাঁর প্রকৃত ইবাদতকারীতে পরিণত হয় এবং একে অপরের অধিকার রক্ষা করে। একটি মনমুগ্ধকর পঙ্‌ক্তিতে প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) ঘোষণা করেন যে, রাজনৈতিক ক্ষমতা বা পার্থিব মর্যাদার জন্য তাঁর কোন আকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি লেখেন: ‘কোনো দেশের সাথে আমার কী সম্পর্ক? আমার দেশ তো সবার চেয়ে পৃথক। কোনো মুকুটের সাথে আমার কী সম্পর্ক? আমার মুকুট তো আমার প্রিয়তম (খোদার) সন্তুষ্টির মাঝেই নিহিত।’ [১]

জাগতিক বা পার্থিব ক্ষমতার প্রতি এই যে পরিপূর্ণ বিমুখতা — এটি আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের সূচনালগ্ন থেকে এর একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা কেবল ইসলামের ভালোবাসা ও শান্তির বাণীকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য উদগ্রীব; যেমনটি আমরা গত ১৩০ বছর ধরে করে আসছি, আর আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ ও করুণায় প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত থেকে আমাদের জামা’তে যোগদান করে থাকেন। আমাদের কোনো ব্যক্তি বা কোনো ধর্মের সাথে কোনো প্রকারের ক্ষোভ, বিবাদ বা শত্রুতা নেই। যারা খোদা তা’লার বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হয় বা তাঁর ধর্মকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়, তাদের জন্য আমাদের প্রত্যুত্তর কখনোই এটা হবে না যে, আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নেব বা কোনো ধরনের সহিংসতার আশ্রয় নেবো। বরং, এর বিপরীতে আমাদের একমাত্র উত্তর এই হবে যে, আমরা আল্লাহ্‌ তা’লার সামনে পরিপূর্ণ বিনয়ের সাথে নত হবো। আমাদের একমাত্র অস্ত্র হলো দোয়া, আর আমরা নিশ্চিত যে, আল্লাহ্‌ আমাদের দোয়া শুনে থাকেন। বস্তুত, আমাদের জামা’তের ১৩৩ বছরের ইতিহাস এ কথারই সাক্ষ্য বহন করে।
ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং চিন্তার স্বাধীনতার বিষয়ে, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ধর্ম এবং বিশ্বাস কারো ব্যক্তিগত বিষয় এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের পথ বেছে নিতে পারেন। আমাদের এই অবস্থান সাম্প্রতিককালে গৃহীত কোন অবস্থান নয়; বরং, এর ভিত্তি পরিপূর্ণরূপে পবিত্র কুরআনের মূল শিক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
যেমনটি আমি নিশ্চিত যে, আপনারা অবহিত আছেন, সম্প্রতি ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মৃত্যুবরণ করেন এবং তার পুত্র রাজা তৃতীয় চার্লস তার উত্তরসূরি হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন। যুক্তরাজ্যে সম্রাটের একটি আনুষ্ঠানিক উপাধি হলো ‘ধর্মের রক্ষক’ (Defender of the Faith)। বিভিন্ন সময়ে, রাজা চার্লস সকল ধর্মের প্রতি তার শ্রদ্ধাবোধ ব্যক্ত করেছেন। তিনি ‘ধর্মের রক্ষক’ (Defender of the Faith)-এর পরিবর্তে ‘সকল ধর্মের রক্ষক’ (Defender of all Faiths) হিসেবে পরিচিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেছেন। এই উক্তি সন্দেহাতীতভাবে প্রশংসার যোগ্য এবং এতে রাজা চার্লস-এর উদারমনা প্রকৃতি এবং সকলকে নিয়ে চলার দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়। কিন্তু, তার সিংহাসনে আসীন হওয়ার পর, কিছু ভাষ্যকার এমন অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, ভাষার এই পরিবর্তনকে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মাঝে, বা এমনকি খ্রিস্টান ধর্মের বাইরেও কারো কারো মাঝে, সর্বজনীনভাবে হয়তো স্বাগত জানানো হবে না। একটি পত্রিকার শিরোনামে বলা হয়েছে যে, সকল ধর্ম-বিশ্বাসের সুরক্ষা ও সমর্থন দানের রাজার এমন আকাঙ্ক্ষা হয়তো শেষ পর্যন্ত ‘কল্পনাপ্রবণ চিন্তা’ সাব্যস্ত হবে। যদিও ধর্মীয় সৌহার্দ্যকে লালন করার এমন প্রচেষ্টাকে কেউ কেউ বৃথা অথবা ‘কল্পনাপ্রবণ চিন্তা’ আখ্যায়িত করতে পারেন, আমার দৃষ্টিতে, সকল ধর্মের সুরক্ষা এবং প্রকৃত অর্থেই ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মাঝেই বস্তুত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচনা নিহিত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আমি যুক্তরাষ্ট্র সরকারকেও তাদের স্টেট ডিপার্টমেন্ট (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)-এর অধীনে অফিস অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা দপ্তর) প্রতিষ্ঠা করার জন্য সাধুবাদ জানাই, যা বর্তমানে বৈশ্বিক ধর্মীয় স্বাধীনতার সমর্থনে একটি বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে, সর্বজনীন ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে একটি অসাধারণ কালজয়ী মূলনীতি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হাজ্জ-২২:৪০-৪১ আয়াতে গ্রথিত আছে। আল্লাহ্ তা’লা বলেন: “যুদ্ধ করার অনুমতি তাদেরকে দেওয়া হল যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সূচনা করা হয়েছে; এই কারণে যে, তাদের ওপর যুলুম করা হয়েছে এবং নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করতে করার আল্লাহ্‌ পূর্ণ ক্ষমতাবান। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ি থেকে কেবল এই কারণেই অন্যায়ভাবে বিতাড়িত করা হয়েছে যে, তারা বলে, ‘আল্লাহ আমাদের প্রতিপালক’।” এতে আরো বলা হয়েছে, ‘আর যদি আল্লাহ একদল মানুষকে অন্যদের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে নিশ্চিতভাবে তারা মঠ, গির্জা, ইহুদি উপাসনালয় ও মসজিদ ধ্বংস করত যেখানে আল্লাহ্‌র নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা তাঁকে সাহায্য করেন। এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অতিশয় শক্তিমান, মহা পরাক্রমশালী।’
এই দু’টি আয়াতে আল্লাহ্ তা’লা মহানবী (সা.)-কে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি এটিও একেবারে স্পষ্ট করেছেন যে, অনুমতি একারণেই দেওয়া হয়েছে যে, আগ্রাসীপক্ষ পৃথিবীর বুক থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা নির্মূল করতে চেয়েছিল। কেবল মুসলমানদেরকে এবং তাদের মসজিদকে রক্ষা করা বা ইসলামের অগ্রগতি সাধন করার জন্য যুদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হয় নি; বরং, পবিত্র কুরআন স্পষ্ট ঘোষণা করে যে, যদি মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে অবিচার পরিচালনা করা হচ্ছে তার শক্তিশালী জবাব না দেওয়া হয়, তবে কোনো গির্জা, ইহুদি উপাসনালয়, মন্দির, মসজিদ বা অন্যান্য উপাসনালয় নিরাপদ থাকবে না। সুতরাং, পবিত্র কুরআন সেই একমাত্র ধর্মীয় গ্রন্থ যা কেবলমাত্র সকল ধর্ম ও বিশ্বাসের অনুসারী মানুষের পরিপূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতাই প্রদান করে না, বরং, আরও অগ্রসর হয়ে মসজিদে ইবাদতকারী মুসলমানদের ওপর অমুসলিমদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করার নির্দেশও প্রদান করে। এটা সেই ঐশী গ্রন্থ যা সকল ধর্ম, বিশ্বাস এবং মত ও পথের নিরাপত্তা প্রদানকারী ও রক্ষক। এই হলো সেই সকল পবিত্র এবং সর্বজনীন ইসলামী শিক্ষা যা বিশ্বের সকল প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা জোর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি।

এই মসজিদের বিষয়ে, আপনারা ভাবতে পারেন কেন আমরা যায়োনকে মসজিদ নির্মাণের জন্য বেছে নিয়েছি। স্পষ্টতই, মূল উদ্দেশ্য সেটিই, যা আমি উল্লেখ করেছি। দ্বিতীয়ত, যারা এই শহরের ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক অবহিত তারা খুব সম্ভবত জানবেন যে, এই শহরের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক মি. আলেকজান্ডার ডোই, যিনি এই শহর থেকে দাবি করেছিলেন যে, তাকে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন। মি. ডোই ইসলামের এবং মুসলমানদের প্রতি কঠোর শত্রুতা প্রকাশ করেন, যা এক পর্যায়ে আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রতিষ্ঠাতার দৃষ্টিতে আসে আর তিনি সরাসরি মি. ডোই-কে উত্তর প্রদান করেন। আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারেন কেন প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) মি. ডোইকে সম্বোধনকালে শক্ত ভাষা ব্যবহার করেছেন, আর এটাও বলতে পারেন যে, তাঁর দাবিকৃত ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বাণীর সাথে এটি কীভাবে সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে। বস্তুতপক্ষে, প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.)-এর শান্তিপূর্ণ শিক্ষা এবং ডোই-কে প্রদত্ত প্রত্যুত্তরের মধ্যে একেবারেই কোন বিরোধ নেই। প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) একটিবারের জন্যও কোনো প্রকারের সহিংস কিংবা চরমপন্থী প্রতিক্রিয়ার আহ্বান জানান নি। বস্তুত, যখন তিনি প্রথমবারের মতো ইসলাম এবং এর প্রতিষ্ঠাতা (সা.) এর বিরুদ্ধে মি. ডোই-এর বিষাক্ত উচ্চারণ সম্পর্কে অবহিত হন তখন প্রথমে তিনি তার সাথে সম্মানজনকভাবে যুক্তি প্রদর্শন করে তাকে সংযত হতে এবং মুসলমানদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে, মি. ডোই ছিলেন সেই পক্ষ যিনি ইসলামের সাথে সংঘাত চেয়েছিলেন এবং তার আকাঙ্ক্ষার অভিব্যক্তির মধ্যে এটি স্পষ্ট ছিল। উদাহরণস্বরূপ, মি. ডোই লেখেন, ‘আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যে, ইসলাম যেন এ ধরাপৃষ্ঠ থেকে শীঘ্র নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। হে ঈশ্বর, আমার প্রার্থনা কবুল করো, হে ঈশ্বর, ইসলামকে ধ্বংস করো।’ [২]
উপরন্তু, তার লেখনীতে মি. ডোই উৎসাহের সাথে সেই সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন যাকে তিনি খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে এক মহাযুদ্ধ বলে অভিহিত করেন। তিনি লেখেন যে, যদি মুসলমানগণ খ্রিস্টধর্ম অবলম্বন না করে, তবে তারা মৃত্যু এবং ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। এরূপ কট্টর ভাষা এবং কটূক্তির প্রত্যুত্তরে আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রতিষ্ঠাতা এটি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যে, হাজার হাজার এমনকি লক্ষ-কোটি নিরীহ মানুষের যেন ক্ষতি না হয়, যা মি. ডোই-এর আকাঙ্ক্ষা অনুসারে খ্রিস্টান ও মুসলমানদের মধ্যে ধর্মযুদ্ধ হলে সংঘটিত হতো। সুতরাং, তিনি মি. ডোই-কে দোয়ার এক লড়াইয়ের দিকে আহ্বান করলেন। তিনি বললেন যে, মৃত্যু এবং ধ্বংসের আহ্বান জানানোর পরিবর্তে, তিনি এবং মি. ডোই যেন নিবেদিত চিত্তে দোয়ায় নিমগ্ন হন, এবং খোদা তা’লার কাছে এই প্রার্থনা করেন যে, তাদের দু’জনের মধ্যে যিনি মিথ্যাবাদী, তিনি যেন অপর পক্ষের জীবদ্দশাতেই মৃত্যুমুখে পতিত হন। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল সহানুভূতির একটি আচরণ এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে প্রশমিত করার এক মাধ্যম। মুসলমান এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে সর্বশক্তি নিয়ে মুখোমুখি সংঘাতের ঝুঁকি এড়িয়ে, প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) এই দাবি করেছিলেন যে, তিনি এবং মি. ডোই-এর উচিত হবে দোয়াতে মনোনিবেশ করা, এবং বিষয়টিকে খোদা তা’লার হাতে ছেড়ে দেওয়া। সত্য নির্ধারণের জন্য এটি ছিল একটি ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ পন্থা। এমনটি বলা মোটেই বাহুল্য হবে না যে, এটি ছিল প্রবল প্ররোচনা ও বৈরিতার মুখে সংযম প্রদর্শনের অসাধারণ দৃষ্টান্ত। এই চ্যালেঞ্জের বার্তা পাওয়ার পর মি. ডোই প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.)-এর বর্ণনা চরম আপত্তিকর ভাষায় করেন।
লিপিবদ্ধ আছে যে, মি. ডোই বলেন, ‘ভারতবর্ষে এক মোহাম্মদী মসীহ্ আছেন যিনি আমাকে লিখতে থাকেন। আপনারা কি মনে করেন আমার এমন মশা-মাছির উত্তর দেওয়া উচিত? যদি আমি তাদের ওপর পা রাখি, তারা পদতলে পিষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করবে’। [৩]
প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.) তাঁর চ্যালেঞ্জ পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যত্র এটি ব্যাপক প্রচারণা লাভ করে। সাংবাদিকগণ প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে, মি. ডোই-এর নিজ সম্প্রদায়ের মাঝে তার সুউচ্চ মর্যাদা, তার ধন-সম্পদ ও ক্ষমতার সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে, ভারতবর্ষের এক সুদূর পল্লীতে আগত প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.)-কেই পিছিয়ে রাখেন; পার্থিব সম্পদ ও ক্ষমতায় মি. ডোই-এর সাথে যার কোনো তুলনাই চলে না। উপরন্তু, শারীরিকভাবেও মি. ডোই প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আ.)-এর চেয়ে বয়সে কম এবং তুলনামূলকভাবে ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। বস্তুগত সকল ক্ষেত্রে এমন ব্যাপক বৈষম্য থাকা সত্ত্বেও আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রতিষ্ঠাতা কখনো বিন্দুমাত্র দ্বিধা প্রকাশ করেন নি, কখনো এক কদম পিছনে যান নি, অথবা এই চ্যালেঞ্জ প্রত্যাহারের কথা বিবেচনা করেন নি। আর পার্থিব সকল হিসাব-নিকাশের বিরুদ্ধে, অল্প সময়ের ব্যবধানেই তাঁর সপক্ষে ফলাফল প্রকাশিত হলো। একের পর এক, ডোই তার সমর্থনকারী, সম্পদ, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা হারিয়ে ফেললেন। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের ভাষায় তিনি এক ‘করুণ পরিণতি’-র মুখোমুখি হলেন। বস্তুত, যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময়ের গণমাধ্যম কৃতিত্বের দাবিদার; কেননা, তাদের সাংবাদিকগণ এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলাফল সততার সাথে বর্ণনা করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, বস্টন হেরাল্ড পত্রিকার একটি বিখ্যাত শিরোনাম ঘোষণা করেছিল, ‘মহান সেই মির্যা গোলাম আহমদ, (প্রতিশ্রুত) মসীহ্’ (‘Great is Mirza Ghulam Ahmad, The Messiah’)।
সংক্ষেপে বলা যায়, আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রতিষ্ঠাতা কখনো কারো ওপর বলপূর্বক তাঁর মতামত বা মূল্যবোধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন নি। আর, মি. ডোই বা ইসলামে অন্যান্য শত্রুদের ঘৃণা-বিদ্বেষের উত্তরও তিনি কখনও বল প্রয়োগের মাধ্যমে দেওয়ার কথা ভাবেন নি। আহমদী মুসলমানদের জন্য, এই ঘটনাটি আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতার সত্যতার একটি নিদর্শন। আর তাই, এই দিক থেকে, আমাদের ইতিহাসে যায়োন সিটির এক বিশেষ তাৎপর্যবহ স্থান রয়েছে। … সময়ের সীমাবদ্ধতার দিকে দৃষ্টি রেখে, আমি আর বিস্তারিত বিবরণের মধ্যে যেতে পারছি না। তবে, দোয়ার এ লড়াই সম্পর্কে একটি প্রদর্শনী এই মসজিদে স্থাপন করা হয়েছে; আর তাই, যদি আপনারা এ সম্পর্কে আরও বেশি জানতে আগ্রহী হন তাহলে আপনারা বিদায় নেওয়ার পূর্বে এটি দেখে যেতে পারেন অথবা এমনও হতে পারে যে, আপনারা হয়তো এটি ইতোমধ্যেই দর্শন করেছেন।

আজ, প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ ও মাহ্‌দী হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর অনুসারীরা আল্লাহ্‌ তা’লার কাছে কৃতজ্ঞ যে, সত্যিকারের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে আমরা আজ যায়োন শহরে ফতহে আযীম মসজিদ (মহান বিজয়ের মসজিদ) উদ্বোধন করার সৌভাগ্য লাভ করছি। এর দরজাগুলো এই আলোকিত বাণীর সাথে উন্মোচিত হচ্ছে যে, সকল মানুষের এবং সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ ধর্মবিশ্বাস চিরদিনের জন্য সুরক্ষিত এবং সম্মানিত। এটি আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষ্য যে, মানবজাতিকে আধ্যাত্মিক মুক্তির পথে পরিচালিত করা এবং নিশ্চিত করা যে, সকল মানুষ, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সহানুভূতি ও সৌহার্দ্যের সাথে এবং প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশে যেন মিলেমিশে বসবাস করে।
আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে, আমি দোয়া করি যেন এই মসজিদ, ইনশা’আল্লাহ্‌ (আল্লাহ্‌র ইচ্ছায়), সর্বদা সমগ্র মানবজাতির জন্য শান্তি, সহিষ্ণুতা ও ভালবাসার এক আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। আমি দোয়া করি এটি যেন এমন এক স্থান সাব্যস্ত হয় যেখানে মানুষ বিনীত চিত্তে তাদের স্রষ্টাকে চেনার জন্য, তাঁর সামনে সেজদাবনত হওয়ার জন্য এবং মানবজাতির অধিকার পূর্ণ করার জন্য সমবেত হয়। কেননা, আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে, আমরা কেবল তখনই সফলকাম এবং উন্নতি লাভ করতে পারব যদি আমরা খোদা তা’লার ইবাদতের অধিকার এবং মানবজাতির অধিকার যথাযথভাবে আদায় করি। এই কথাগুলোর সাথে আমি আর একটিবার আপনাদের সকলকে আজ এই অপরাহ্ণে আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। আল্লাহ্‌ তা’লা আপনার সকলকে আশিসমণ্ডিত করুন, আমীন।

টীকা
১. বারাহীনে আহমদীয়া, ৫ম খণ্ড (ইংরেজি অনুবাদ) পৃ. ১৯৩
২. লীভ্‌স অফ হীলিং, ফেব্রুয়ারি ১৪, ১৯০৩
৩. লীভ্‌স অফ হীলিং, ডিসেম্বর ২৭, ১৯০৩

অনুবাদ: আব্দুল্লাহ শামস বিন তারিক
মূল: https://www.reviewofreligions.org/40118/opening-of-the-mosque-of-the-grand-victory-in-zion-a-symbol-of-true-religious-freedom/