তাহরীক-ই-জাদীদের ৬ষ্ঠ দফতরের ঘোষণা; ‘তোমরা যা ভালবাস তা থেকে খরচ’ করাই তাহরীক-ই-জাদীদের মূল কথা

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ - খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই.)

০৩-নভেম্বর, ২০২৩

মসজিদ মুবারক, ইসলামাবাদ, টিলফোর্ড, যুক্তরাজ্য

জুমুআর খুতবার সারমর্ম


এই জুমু’আর খুতবার সারাংশটিতে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

নিখিলবিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বর্তমান ইমাম ও আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.) গত ৩রা নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে যুক্তরাজ্যের (ইসলামাবাদস্থ) মসজিদ মুবারক-এ “তাহরীক-ই-জাদীদের ৬ষ্ঠ দফতরের ঘোষণা; ‘তোমরা যা ভালবাস তা থেকে খরচ’ করাই তাহরীক-ই-জাদীদের মূল কথা” বিষয়ক জুমুআর খুতবা প্রদান করেন। প্রদত্ত জুমুআর খুতবায় তাহরীকে জাদীদের নববর্ষের ঘোষণার প্রেক্ষাপটে আর্থিক কুরবানীর কতিপয় ঈমান উদ্দীপক ঘটনা, তাহরীকে জাদীদের ইতিহাস ও উদ্দেশ্য এবং বিগত বছরের সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট প্রদান করেন।
তাশাহ্‌হুদ, তা’ঊয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর (আই.) সূরা আলে ইমরানের ৯৩নং আয়াত পাঠ করেন, لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ شَيْءٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ এর অর্থ হলো, তোমরা কখনো প্রকৃত পুণ্য অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে খরচ করবে। এখানে আল্লাহ্ তা’লা স্পষ্ট করে বলেছেন, পুণ্যের সুউচ্চ মান তখনই অর্জিত হবে যখন কোনো ব্যক্তি তার সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কুরবানী করবে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, তোমরা প্রকৃত পুণ্য যা তোমাদেরকে মুক্তি দিতে পারে তা ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের প্রিয় সম্পদ এবং বস্তু কুরবানী না করবে। তিনি (আ.) আরো বলেন, সম্পদের প্রতি যেন ভালোবাসা না থাকে। তিনি (আ.) অন্যত্র বলেন, অকেজো ও অনর্থক বস্তু খরচ করে কোনো মানুষ পুণ্যার্জনের দাবি করতে পারে না। পুণ্যকর্মের দ্বার সংকীর্ণ। কাজেই, এ বিষয়টি ভালোভাবে মাথায় গেঁথে নাও যে, অকেজো বস্তু খরচ করে কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না কেননা তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের প্রিয় থেকে প্রিয়তর বস্তু খরচ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রিয় বান্দার মর্যাদা লাভ করতে পারবে না।
হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) আরেক স্থানে বলেন, সাহাবীরা কি এমনি এমনি এত বড় মর্যাদা লাভ করেছেন? তারা খোদার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিজেদের সবকিছু উৎসর্গ করে দিয়েছেন আর তাই তাদের প্রতি আল্লাহ্ তা’লা সন্তুষ্ট হয়েছেন। অতএব, আমাদের মাঝে সাহাবীদের আদর্শ সৃষ্টি করা উচিত। এই জামাত এবং প্রত্যেক আহমদীর প্রতি আল্লাহ্ তা’লার অশেষ কৃপা যে, তারা একথা অনুধাবনের মাধ্যমে নিজেদের ধনসম্পদ ধর্মের খাতিরে উৎসর্গ করে থাকে। জামাতের সদস্যদের মাঝে একটি বিরাট অংশ নিজেদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সর্বাত্মকভাবে আর্থিক কুরবানী করে থাকে। বর্তমানে আমরা দেখছি, উন্নয়নশীল দেশ, এমনকি উন্নত দেশগুলোও অর্থনৈতিক মন্দার শিকার। তা সত্ত্বেও আহমদীরা নিজেদের আর্থিক কুরবানীর মানদণ্ডে পূর্বের চেয়ে অগ্রসর হচ্ছে। জগতপূজারীদের এ বিষয়টি মেনে নেয়া কষ্টকর, কিন্তু যারা দৃঢ় ঈমানের অধিকারী তারা জানে যে, এ কুরবানীর ফলে আল্লাহ্ তা’লার কৃপা বর্ষিত হয়। হুযূর (আই.) বলেন, আপনার অবগত আছেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তাহরীকে জাদীদের নববর্ষের ঘোষণা করা হয়। আজ এ প্রেক্ষাপটে আমি কিছু ঘটনা উপস্থাপন করব।
লাহোরের লাজনার প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, এক সভায় তাহরীকে জাদীদের চাঁদা দেয়ার প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করলে সেখানকার নারীরা দারিদ্রতা সত্ত্বেও অধিক হারে কুরবানী করে। আমি অবাক হয়েছি, স্বল্প আয়ের লোকেরা এমনভাবে কুরবানী করেছে যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। নগদ অর্থ এবং অলংকারাদি প্রদানের মাধ্যমে তারা কয়েক লক্ষ রুপি চাঁদা দিয়েছে। উকিলুল মাল আউয়ালেরও কয়েক পৃষ্ঠা রিপোর্ট রয়েছে যেখানে একটি বড় তালিকা রয়েছে যারা আল্লাহ্ তা’লার খাতিরে নিজেদের অলংকার উপস্থাপন করেছে।
হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, “দরিদ্ররা নিজেদের পেট কেটে চাঁদা দেয়, এমন অনেকে আছে যাদেরকে আল্লাহ্ তা’লা প্রতিদান দিয়ে থাকেন। ধনীরা এত্থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন এবং কুরবানীর মান বৃদ্ধি করুন। দরিদ্রদের মাঝে এমনও আছে যারা নিজেদের মাসিক আয়ের ৪৫ভাগ অর্থ চাঁদা দিয়ে দেয় অথচ ধনীরা এক শতাংশ প্রদান করে।” অতএব এ দৃষ্টিকোণ থেকে দরিদ্রদের কুরবানীর মান অনেক উন্নত। তাই স্বচ্ছল লোকদের নিজেদের কুরবানীর মানের বিষয়ে আত্মজিজ্ঞাসা করা উচিত। স্মরণ রাখবেন! আল্লাহ্ তা’লা কখনো ঋণী থাকেন না যেভাবে পবিত্র কুরআনের এক স্থানে বলা হয়েছে, তিনি সাত’শ গুণ বা এর চেয়েও অধিক বাড়িয়ে প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
গিনি বিসাও এর মাহমুদ সাহেব মটর সাইকেল মেকানিক। তাকে মিশনারী সাহেব চাঁদার কথা বললে তিনি তার পকেটে যত টাকা ছিল অর্থাৎ দশ হাজার ফ্রাঙ্ক সিফা- পুরোটাই চাঁদা দিযে দেন। ঠিক সে সময় তার স্ত্রী তার কাছে এসে বাজার করার জন্য টাকা চায়। তিনি স্ত্রীকে ধৈর্য ধরতে বলেন। কিছুক্ষণ পর তাকে সরকারি এক অফিস থেকে ফোন করে বলে, গত বছর তুমি আমাদের যে কয়েকটি মটর সাইকেল ঠিক করে দিয়েছিল তার পারিশ্রমিক ১লক্ষ ৯০হাজার ফ্রাঙ্ক সিফা দেয়া হয়নি। তুমি এসে এর চেক নিয়ে যাও। তিনি বলেন, এটি তাহরীকে জাদীদের কল্যাণে হয়েছে।
ফিজি’র আশফাক সাহেব লিখেছেন, একবার সফরে থাকা অবস্থায় আমি হুযূর (আই.) এর খুতবা শুনছিলাম, হুযূর (আই.) তাহরীকে জাদীদ সম্পর্কিত ঘটনা বর্ণনা করছিলেন; আমার ওপর যার অনেক ভালো প্রভাব পড়ে। অতঃপর সফরে থাকা অবস্থায়ই সেক্রেটারী সাহেবকে ফোন করে আমি আমার চাঁদা দুইগুণ বাড়িয়ে দেই। এর ফলে আমার ব্যবসায় দ্বিগুণ লাভ হয় আর এ সবকিছু তাহরীকে জাদীদের চাঁদার কল্যাণেই হয়েছে।
তানজানিয়ার এক ব্যক্তি একটি কোম্পানিতে চাকরী করতেন। সেই কোম্পানিতে আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয় যার ফলে কোম্পানি ঘোষণা দেয়, আপনাদের বেতন থেকে এ ক্ষতির অর্থ কর্তন করা হবে। এদিকে তখন তাহরীকে জাদীদের বছরের শেষ মাস ছিল। মুয়াল্লিম সাহেব তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো ধরনের সমস্যার উল্লেখ না করে আল্লাহ্র ওপর ভরসা করে চাঁদা দিয়ে দেন। পরের দিন কোম্পানির পক্ষ থেকে ফোন আসে যে, আপনার পরিশ্রম এবং ঈমানদারির কারণে আপনার বেতন থেকে কোনো অর্থ কেটে রাখা হবে না।
মালাবী’র এক পুণ্যবতী মহিলা কৃষিকাজ করেন। তিনি তাহরীকে জাদীদের চাঁদার ওয়াদা করেন, কিন্তু পরিশোধ করতে পারছিলেন না, কোনো ব্যবস্থাই হচ্ছিল না। তাই অনেক দোয়া ও চেষ্টা করেন যেন তাহরীকে জাদীদের চাঁদা প্রদান করা যায়। একদিন আসরের নামাযের পর তিনি জানতে পারেন তার নাতী তাকে ৪৫ হাজার স্থানীয় মুদ্রা উপহারস্বরূপ প্রেরণ করেছে। তিনি তৎক্ষণাৎ তাঁর ওয়াদা পরিশোধ করে দেন এবং বারংবার আল্লাহ্ তা’লার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে থাকেন।
গিনি বিসাও এর একজন নবাগত আহমদী উসমান সাহেবের জীবনে অনেক কষ্ট ছিল। যে ব্যবসাই করতেন, ব্যর্থ হতেন। এক রাতে ঘুমানোর সময় তার কানে আওয়াজ আসে, হে উসমান! তুমি নিয়মিত তোমার চাঁদা পরিশোধ করো। এরপর উসমান সাহেব মাল সাহেবকে স্বপ্নের কথা বললে তিনি তাকে তার চাঁদার হিসাব অবগত করেন। এরপর তিনি তাহরীকে জাদীদের চাঁদা পরিশোধ করেন, এরপর অন্যান্য চাঁদাও নিয়মিত দেয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত চাঁদা প্রদানের পর থেকে আমার সমস্যা ও কষ্ট দূরীভূত হয়েছে।
গিনি কোনাক্রির সেক্রেটারী মাল সাহেব একজন নবাগতা আহমদীকে চাঁদার কথা বললে তিনি কিছু অর্থ চাঁদা দেন আর দিতে দিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন, হে আল্লাহ্! আমি আমার কাছে যা ছিল তার সবটুকু তোমাকে দিয়ে দিচ্ছি। এরপর সেক্রেটারী মাল সাহেব চলে আসলে তিনি ফোন করে আনন্দের সাথে বলেন, আপনারা চলে আসার পর এক ব্যক্তি আমাকে ৮০হাজার ফ্রাঙ্ক প্রদান করেছে।
জার্মানীর এক বন্ধু বলেন, আমার ফার্মের আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় আমার আয় কমে যায়। যেদিন তাহরীকে জাদীদের সেমিনার ছিল সেদিন ঈমানোদ্দীপক ঘটনাবলী শুনে আমি মনে মনে আল্লাহ্ তা’লার কাছে ওয়াদা করি যে, আমি আরো ৫০০ ইউরো অতিরিক্ত চাঁদা প্রদান করবো। আল্লাহ্ তা’লা তার প্রতি দয়া করেন এবং তাহরীকে জাদীদের ওয়াদা পূর্ণ করার পরও তিনি আরো ছয়শ ইউরো অতিরিক্ত প্রদান করার সৌভাগ্য পান। কিছুদিন পর আরেকটি ফার্ম থেকে ফোন আসে যে, আপনি যদি পূর্বের ফার্ম ছেড়ে আমাদের ফার্মে কাজ করেন তবে পূর্বের ফার্মের চেয়ে এক হাজার ইউরো বেতন বেশি পাবেন। আমি চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেই যে, সেই নতুন ফার্মে যোগদান করব। অধিকন্তু সেই ফার্মের মালিক বলে, যেহেতু আপনি আপনার পূর্বের ফার্ম ছেড়ে এসেছেন এজন্য আপনাকে আগামী তিন মাস নিয়মিত দুই হাজার ইউরো বোনাসও দেয়া হবে।
সেনেগালের মুয়াল্লিম সাহেব বলেন, এক নিষ্ঠাবান বন্ধু ১০হাজার ফ্রাঙ্ক চাঁদা দেয়ার ওয়াদা করেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আপাতত আমার কাছে নেই, কিন্তু নিশ্চিন্ত থাকুন যে, আমি কাপড় বিক্রয় করে হলেও যথাসময়ে এ চাঁদা প্রদান করব। কয়েকদিন পর তিনি চাঁদা নিয়ে আসেন এবং বলেন, আমার মেয়ে আমাকে অর্থ পাঠিয়েছে।
আহমদীদের আর্থিক কুরবানীর এমন অনেক ঘটনা রয়েছে। বিরোধীরা জামাতের জ্যোতি নির্বাপিত করতে চায় অথচ দেখুন! আল্লাহ্ তা’লা নবাগত আহমদীদের হৃদয়ে কীভাবে আর্থিক কুরবানীর প্রেরণা সৃষ্টি করছেন এবং এর পরিবর্তে অনেক প্রতিদানও দিয়েছেন।
অতঃপর হুযূর (আই.) হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.)’র বরাতে তাহরীকে জাদীদের প্রেক্ষাপট ও এর উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন। ১৯৩৪ সালে কাদিয়ানে ও এর আশেপাশে বিরোধীদের নৈরাজ্য ও অশান্তি যখন চরম পর্যায়ে উপনীত হয় তখন হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বিশ্বব্যাপি আহমদীয়াত তথা প্রকৃত ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ তাহরীক প্রবর্তন করেন যার মাঝে আর্থিক কুরবানীর বিষয়টিও নিহিত ছিল। আজ আমরা অবলোকন করছি, এ তাহরীকের ফলে পৃথিবীর সর্বত্র আহমদীয়াত পৌঁছে গেছে। যাহোক, তিনি (রা.) প্রথমে ১০ বছরের জন্য তাহরীকে জাদীদের প্রথম দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে এর সুফল অনুধাবন করে ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী খলীফাগণের মাধ্যমে এটি স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপর ১৯বছর অন্তর অন্তর পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় দপ্তর, তৃতীয় দপ্তর, চতুর্থ দপ্তর এবং পঞ্চম দপ্তর অতিবাহিত হয়েছে। অতঃপর হুযূর (আই.) এ বছর নভেম্বর মাস থেকে তাহরীকে জাদীদের ষষ্ঠ দপ্তরের সূচনা করেন। হুযূর (আই.) আরো বলেন, আল্লাহ্ তা’লার ব্যবহারিক সাক্ষ্য হলো, এটি আল্লাহ্ তা’লার সমর্থনকৃত এক তাহরীক। এটি নিযামে ওসীয়্যতের ইরহাস তথা সহযোগী তাহরীক। যেভাবে আমি নিযামে ওসীয়্যতের তাহরীক করতে গিয়ে ২০০৫ সালে বলেছিলাম এদিকেও মনোযোগ দিন। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে এর তৌফিক দিন।
বিগত বছরগুলোতে তাহরীকে জাদীদের কল্যাণে বর্তমানে পৃথিবীর ২২০টি দেশে ৯৩০০ এর অধিক মসজিদ, ৩৪০০ এর অধিক মিশন হাউজ, ৫০০০ এর কাছাকাছি মুবাল্লিগ ও মুয়াল্লিমীন, ৭৭টি ভাষায় পবিত্র কুরআনের অনুবাদ প্রভৃতি অনেক কাজ সাধিত হয়েছে। গত বছর জামাতের সদস্যরা এ খাতে ১৭.২০ মিলিউন পাউ- কুরবানী করার তৌফিক পেয়েছে। এ বছর তাহরীকে জাদীদের ৯০তম বছরের সূচনা হবে। তাহরীকে জাদীদের কুরবানীর ক্ষেত্রে পাকিস্তান ছাড়াও শীর্ষ দশটি জামাত হলো যথাক্রমে, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দেশ এবং ঘানা। এছাড়া হুযূর (আই.) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।