হযরত ঈসা (আ.) বনী ইসরাঈলের নবী

وَقَفَّيْنَا عَلَىٰ آثَارِهِم بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ ۖ وَآتَيْنَاهُ الْإِنجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ

অর্থ: আর আমরা মরিয়মের পুত্র ঈসাকে তার পূর্ববর্তী তওরাতে যা ছিল তার সত্যায়নকারী করে তাদের (পূর্ববর্তী নবীগণের) পদাঙ্ক অনুসরণে প্রেরণ করেছিলাম, আর তাকে ইনজীল প্রদান করেছিলাম যাতে হেদায়াত ও নূর ছিল এবং তা তার পূর্ববর্তী তওরাতে যা ছিল তার সত্যায়নকারী এবং মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত এবং উপদেশরস্বরূপ ছিল। (সূরা মায়েদা: ৪৭)

হাদীস

হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, তিনি হযরত উমর (রা.)-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন যে, হযরত রসূলে করীম (সা.) বলেছেন, ‘সাবধান! আমার প্রশংসা করতে অতিরঞ্জিত করো না যেমন পরিয়ম পুত্র ঈসা সম্পর্কে নাসারাগণ করেছিল। আমি একমাত্র আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল। (বুখারী, কিতাবুল আম্বিয়া)

অমৃতবাণী

‘তওরাত যেখানে কেবল ইহুদীগণের জন্য নাযেল হয়েছিল এবং হযরত ঈসা (আ.) কেবল বনী ইসরাঈলের মেষগণের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, সেখানে অন্যের সাথে তার কি সম্বন্ধ ছিল যে, তাদের বিচার বা তাদের প্রতি অনুগ্রহের শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন হতে পারে? অতএব ঐ সকল আদেশাবলী বনী ইসরাঈলীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। যদি সীমাবদ্ধ না থাকতো, তবে হযরত ঈসা (আ.) জনৈক স্ত্রীলোকের সকরুণ কান্নাকাটি এবং কাতর নিবেদন শুনেও কীরূপে তিনি তার প্রতি দয়া পরবশ হলে না এবং উত্তর দিলেন, আমি কেবল বনী ইসরাঈলদের জন্য প্রেরিত হয়েছি?’ (খ্রিস্টান সিরাজ উদ্দীনের চারটি প্রশ্নের উত্তর)

হযরত ঈসা (আ.)-এর স্বাভাবিক মৃত্যু

পবিত্র কুরআনের বাণী


مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللَّـهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۚ وَكُنتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ ۖ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنتَ أَنتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ ۚ وَأَنتَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ

অর্থ: আমি তাদেরকে কিছুই বলি নাই, কেবল তা ব্যতিরেকে যার আদেশ তুমি আমাকে দিয়েছিলে যে, তোমরা ইবাদত কর আল্লাহর যিনি আমারও প্রভু এবং তোমাদেরও প্রভু। আর আমি যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম, কিন্তু যখন তুমি আমার মৃত্যু দিলে তখন তুমিই তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক ছিলে, প্রকৃতপক্ষে তুমিই সকল বিষয়ের সাক্ষী।

(সূরা মায়েদা, ১১৮)

হাদীসের বাণী


অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, হযরত রসূলে করীম (সা.) একদিন খুতবা দেয়ার সময় বলেন, জেনে রাখ, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের কিছু লোককে আনা হবে। তাদেরকে পাকড়াও করে দোযখের দিকে নিতে শুরু করলে আমি বলব, ‘হে রব! এ দেখছি আমার উম্মতের কিছু লোক।’ তখন আমাকে বলা হল, ‘তুমি জান না, তোমার পৃথিবী থেকে বিদায় নেয়ার পর তারা কী কী অন্যায় কাজ করেছে। তখন আমি আল্লাহর বান্দা ঈসা (আ.)-এর ন্যায় বলব, আর আমি যতদিন তাদের মধ্যে ছিলাম আমি তাদের ওপর সাক্ষী ছিলাম, কিন্তু যখন তুমি আমার মৃত্যু দিলে তখন তুমিই তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক ছিলে। প্রকৃতপক্ষে তুমিই সকল বিষয়ের সাক্ষী বা তত্ত্বাবধায়ক। এরপর আমাকে বলা হবে, যখন থেকে আপনি তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন তখন থেকেই তারা দীনকে পরিত্যাগ করেছে। (বুখারী, কিতাবুত তফসীর)

হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বাণী


‘খুব স্মরণ রেখ, হযরত ঈসা (আ.)-এর মৃত্যুর ঘটনা সাব্যস্ত না হলে ক্রুশীয় মতবাদ কখনো উৎপাটিত হবে না। এমতাবস্থায় কুরআনের শিক্ষার বিরুদ্ধে তাকে জীবিত মনে করে কী লাভ? তাকে মরতে দাও তবেই একত্ববাদ পুনর্জীবিত হবে। আল্লাহ তালা আপন কালামে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যু সম্বন্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং হযরত রসূলে করীম (সা.) মে’রাজের রাতে অন্যান্য মৃত ব্যক্তিদের সাথে তাকেও দেখেছিলেন।’

(কিশতিয়ে নূহ)