MTA (এমটিএ) জামা‘তী সংবাদ – ২৯শে এপ্রিল, ২০২৩


আন্তর্জাতিক জামাতী সংবাদ
২৯শে এপ্রিল, ২০২৩

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বর্তমান ইমাম হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্‌ আল খামেস (আই.) গত ২৯শে এপ্রিল ২০২৩, শুক্রবার টিলফোর্ডে অবস্থিত ইসলামাবাদের মসজিদে মোবারক হতে জুমুআর খুতবা প্রদান করেন। হুযূর (আই.) আজকের জুমুআর খুতবায় বিপদ-আপদ ও প্রতিকূলতার প্রেক্ষিতে প্রকৃত ধৈর্য প্রদর্শন বিষয়ে আলোকপাত করেন। বিরুদ্ধবাদীদের অত্যাচারের প্রেক্ষিতে আমাদেরও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত – এরূপ অভিমত যে কতিপয় আহমদী সদস্য চিঠি লিখে জানিয়েছেন তা হুযূর (আই.) উল্লেখ করেন। এরূপ চিন্তা যে ভুল এবং ধৈর্যধারণ ও অবিচল থাকার মাঝেই যে আমাদের প্রকৃত সফলতা নিহিত, সেকথা হুযূর (আই.) খুতবায় সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেন। হুযূর (আই.) বলেন, “কিছু মানুষ আমার কাছে চিঠি লেখেন এবং এ বিষয়ে নিজেদের পক্ষ থেকে অনেক জোরালো যুক্তিও দেয়ার চেষ্টা করেন যে, পাকিস্তান বা অন্যান্য কিছু স্থানে জামা’ত যেরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন, তার প্রেক্ষিতে আমাদের শুধু ধৈর্য প্রদর্শন না করে কিছু (বিরূপ) প্রতিক্রিয়াও দেখানো উচিত। তাদের মতে, যথেষ্ট ধৈর্য দেখানো হয়েছে! তারা হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ (রা.)-এর উদাহরণ দেয়ার চেষ্টা করেন যে, তাঁর (রা.) যুগে জামা’ত এভাবে (পাল্টা) প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং কিছু স্থানে তিনি (রা.) জামা’তকে (এভাবে) প্রতিক্রিয়া দেখানোর অনুমতি দিয়েছেন। এভাবে সম্পূর্ণ ভুল কথাবার্তা হযরত মুসলেহ মওউদ (রা.)-এর প্রতি আরোপ করা হয়। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আ.)-এর নির্দেশ অনুসারে আমরা যদি সঠিকভাবে ইস্তেগফার, তওবা, ধর্মীয় জ্ঞানের চর্চা ও পাঁচ বেলার নামাযের প্রতি মনোযোগী হতে থাকি, তবে আমরা সফল হবো। শত্রুরা যত বেশি হইচই-শোরগোল করছে তত বেশি আমাদের আল্লাহ্‌ তা’লার দরবারে বিনত হতে হবে। এটাই আমাদের সফলতার চাবিকাঠি। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আ.) বারংবার এটির প্রতিই গুরুত্ব আরোপ করেছেন, অন্য কোনো (নেতিবাচক) প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য নয়। যেমনটি তিনি (আ.) বলেছেন, আমাদের সফলতা অবশ্যম্ভাবী, ইনশাল্লাহ। তবে এটিও মনে রাখা উচিত, প্রজ্ঞার সাথে আমাদেরকে নিজেদের কাজও অব্যাহত রাখতে হবে। প্রজ্ঞার সাথে অনেক কাজই করা যায়। এজন্য প্রজ্ঞা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরী। যদি প্রত্যেক আহমদী নিজের এই দায়িত্ব অনুধাবন করে, তবে আমাদের আচার-আচরণ ও দোয়ার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব। আল্লাহ্‌ তা’লা আমাদের ধৈর্য দান করুন ও দোয়া করার সামর্থ্য দিন এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এসব বিষয় পালন করার সামর্থ্য দান করুন, আমীন”।

বার্ষিক বিগ ইফতার ইভেন্ট – ২০২৩ । আহমদীয়া জা’মাত, যুক্তরাজ্য

গত রমযান মাসে আহমদীয়া জা’মাত, যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে ইউরোপের বৃহত্তর মসজিদ বাইতুল ফুতুহ্‌-তে আয়োজিত হয়ে গেল ইফতার-নৈশভোজ, যার নাম ছিল ‘বিগ ইফতার’। যুক্তরাজ্যের তবলীগ বিভাগের আয়োজনে এবারের ‘বিগ ইফতার’ ইভেন্টে প্রায় ১২ হাজারেরও উপর গণ্য-মান্য অতিথি অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, কোভিড-১৯ এর কারণে গত বছর এই ইভেন্টটি অনলাইনের মাধ্যমে করা হলেও এবার ষষ্ঠ বারের মতো সবার অংশগ্রহণে আয়োজিত হয়।

রমযান ইসলামী পঞ্জিকার এক অত্যন্ত কল্যাণমণ্ডিত মাস। এই পবিত্র মাসে প্রত্যেক মুসলমান রোযা ও ইবাদতের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সংশোধনের বিষয়ে সজাগ ও সচেতন হয়। এবছরটি বার্ষিক ‘বিগ ইফতার’ আয়োজনের ৬ষ্ঠ বছর ছিল। এটি এমন এক অনুষ্ঠান যার মাধ্যমে নাস্তিকসহ সব ধর্মের অনুসারীদের সামনে রমযানের শিক্ষা তুলে ধরা হয়। আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত যুক্তরাজ্যের তবলীগ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১২শ’র অধিক অতিথি রমযান ও ইসলামের সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে বিখ্যাত বাইতুল ফুতুহ্‌ মসজিদে একত্রিত হন। মূল অনুষ্ঠানের পূর্বে অতিথিদের বাইতুল ফুতুহ্‌ মসজিদ এবং কিছু প্রদর্শনীও ঘুরিয়ে দেখানো হয়।

মূল অনুষ্ঠান আরম্ভ হয় পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। আহমদীয়া জামা’তের উপর একটি পরিচিতিমূলক ভিডিওচিত্র প্রদর্শনের পর জামা’তের ফাইন্যান্স সেক্রেটারী সুলতান লোন সাহেব অতিথিদের সামনে রমযান এবং এই মাসে আর্থিক কুরবানীর গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “রোযা এবং আর্থিক কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য কী- সেই বিষয়ে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোযার তিনটি উদ্দেশ্য রয়েছে। সূরা বাকারার ১৮৪ থেকে ১৮৬ নম্বর আয়াত থেকে জানা যায়, রোযার প্রথম উদ্দেশ্য হলো; রোযাদার যেন তাকওয়া অর্জন করে, দ্বিতীয়ত; আল্লাহ্ তা’লা যে তাদেরকে হেদায়েত দিয়েছেন সেজন্য তারা যেন আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষণা করে এবং তৃতীয়ত; তারা যেন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়”।

উদ্বোধনী বক্তৃতার পর অতিথিদেরকে বাইতুল ফুতুহ্‌ মসজিদের ইতিহাসের ওপর, এর সূচনালগ্ন থেকে সর্বশেষ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের পর বর্তমানে যেরূপ দৃশ্যমান- সেই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। যুক্তরাজ্য জামা’তের নায়েব আমীর নাসের খান সাহেব অতিথিদের সামনে মসজিদ ও রমযানের গুরুত্ব বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “আহমদীয়া জামা’তে মসজিদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এগুলো নির্মাণের অসাধারণ কিছু উদ্দেশ্য থাকে, পাশাপাশি উক্ত এলাকার সৌন্দর্য বর্ধনও এর উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। আর আপনারা নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন যে, আমরা এই কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে মার্টন শহরের এবং সার্বিকভাবে যুক্তরাজ্যেরও শোভা বর্ধনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছি। একটা পুরনো ডেইরি খামারকে পশ্চিম ইউরোপের বৃহত্তর মসজিদে পরিণত করা কোনো সহজ-সাধ্য বিষয় নয়। এক্ষেত্রে প্রথম থেকেই আল্লাহ্ তা’লার সাহায্য আমাদের সাথে ছিল, যা আজও রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে, ইনশাআল্লাহ্। আমি আশা রাখি, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই সুন্দর মসজিদ কমপ্লেক্স থেকে আমাদের চেয়েও আরো অনেক বেশি উপকৃত হবে”।

অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্যের আমীর মোহতরম রফিক হায়াত সাহেব। তিনি বলেন, “রমযান অত্যন্ত কল্যাণমণ্ডিত একটি মাস। যে মাসে পৃথিবী জুড়ে মুসলমানরা কেবলমাত্র আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের আশায় পানাহার থেকে বিরত থাকে। আর সেই সাথে তারা এই মাসে নিজেদেরকে আধ্যাত্মিকভাবেও আরো উন্নত করার চেষ্টা করে। আল্লাহ্ তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর খাতিরে সবকিছু বিসর্জন দেয়, তাকে তিনি ভালোবাসেন। আর এটি সেই বিশেষ মাস, যে মাসে পৃথিবী জুড়ে মুসলমানরা তাঁর ক্ষমা ও দয়া ভিক্ষা চেয়ে নিজেদের জীবনে পবিত্র পরিবর্তন সাধনের চেষ্টা করে, যেন তারা আরো ভালো মানুষ হতে পারে। আর তারা আশা রাখে, এই পরিবর্তন যেন তাদের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন হয়”। মোহতরম আমীর সাহেব দোয়ার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের ইতি টানেন। যখন মাগরিবের সময় হয় তখন অতিথিরা সরাসরি আযান দেয়ার দৃশ্য দেখতে পান, যার ধ্বনি পুরো হলরুমে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল, যা তাদের কাছে ছিল অত্যন্ত শ্রুতি মধুর। আগত অতিথিরা এরপর ইফতার-নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।

মসীহ্‌ মওউদ (আ.) দিবস – ২০২৩ । মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া, যুক্তরাষ্ট্র

আল্লাহ্‌ তা’লার অশেষ রহমতে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও যুক্তরাষ্ট্র জামা’তে ‘মসীহ্‌ মওউদ (আ.) দিবস’ ওয়েবিনারের আয়োজন করা হয়, যাতে প্রায় তিন হাজারেরও বেশি দর্শক অংশগ্রহণের কল্যাণ লাভ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া বছরব্যাপী দেশ জুড়ে সব খোদ্দামকে একত্র করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অনলাইন ওয়েবিনারের আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে ‘মহান মসীহ্‌ মওউদ (আ.) দিবস’ উপলক্ষ্যে একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়ার সদর ড. মাদিল আব্দুল্লাহ সাহেব বলেন, “২৩ মার্চ ১৮৮৯ তারিখে মসীহ্‌ মওউদ (আ.) ৪০ জন নিবেদিতপ্রাণ সেবকের কাছ থেকে ১০টি শর্তের ওপর বয়াত গ্রহণ করেন। খোদ্দামুল আহমদীয়া যুক্তরাষ্ট্র এই দিনকে স্মরণ করার মাধ্যমে তরুণদের মাঝে এই দিনের গুরুত্ব তুলে ধরছে”। মসীহ্‌ মওউদ (আ.)-এর জীবনী এবং বিশ্বজুড়ে আহমদীরা কেন তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য প্রতিনিয়ত নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন- সে ব্যাপারে ওয়েবিনারে আলোচনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র জামা’তের মোবাল্লেগ রিজওয়ান খান সাহেব বলেন, “অনেকেই খিলাফত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে বা কোনো জামা’ত দাঁড় করিয়ে মুসলমানদের অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু একমাত্র আহমদীয়া মুসলিম জামা’তই সেই জামা’ত যা ঐক্যবদ্ধভাবে এই মুখ্য উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নিয়ে, বাহ্যত এই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য অর্থাৎ অলৌকিকভাবে মুসলমানদের পুনর্জাগরণ এবং সুদিন ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ব্যাপৃত”।

যুক্তরাষ্ট্র জামা’তের আরেকজন মোবাল্লেগ উসামা রহমান সাহেব বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করছি। বয়াতের ১০টি শর্ত আমাদের সামনেই রয়েছে। আমরা মিথ্যাচারিতা বা সেই পাপ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে আলোচনা করি, যা সব পাপের মূল। মিথ্যার কারণেই আমরা ক্রমাগত আল্লাহ্‌র কাছ থেকে দূরে সরে যাই”। মহান আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে ওয়েবিনারে সমগ্র দেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন। খোদ্দামরা বিভিন্ন মসজিদ এবং নামায সেন্টারে একত্রে বসে ওয়েবিনার দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩৫০০ সদস্য এই ওয়েবিনারে অংশগ্রহণ করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ্‌।

এই অনুষ্ঠানে ২৫শে আগস্ট ২০০৬ তারিখের জুমুআর খুতবার অংশ বিশেষ প্রচার করা হয়, যেখানে হুযূর (আই.) বলেন, “হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আ.)-এর সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টার মূল ছিল দোয়া। তাঁর (আ.) জীবনের বেশির ভাগ অংশই দোয়ার মাঝে কেটেছে। তিনি সব কাজ দোয়ার মাধ্যমে শুরু করতেন। সাহাবীদেরও এই বিষয়ে তাগিদ প্রদান করতেন। তিনি (আ.) দোয়া করাকে পরম বরকত লাভের মাধ্যম বলে বিশ্বাস করতেন। কারণ, তিনি (আ.) দোয়ার মতো এত শক্তিশালী এবং প্রভাব বিস্তারকারী অন্য কিছু পাননি”।

মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারী তরবিয়ত ইব্রাহীম চৌধুরী সাহেব বলেন, “হুযূর (আই.) পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে, আমরা মসীহ্‌ মওউদ (আ.) এবং তাঁর খলীফাদের হাতে বয়াত গ্রহণ করেছি, অন্য কারো হাতে নয়। যদি আমরা প্রকৃতই এই বয়াতের অঙ্গীকার রক্ষা করতে চাই এবং সে অনুযায়ী আমল করি, তাহলেই আমরা উন্নতি ও সফলতার পথে অগ্রসর হতে পারবো। আহমদীয়া জামা’ত অবশ্যই সফলতা লাভ করবে এবং উন্নতি করবে, ইনশাল্লাহ্‌। আমরা সেই বিজয়ের অংশীদার হতে চাই কি না সেটি আমাদেরকেই নির্ধারণ করতে হবে”।

যুক্তরাষ্ট্র জামা’তের আমীর মোহতরম ড. মির্যা মাগফুর আহমদ সাহেব ওয়েবিনারের সভাপতিত্ব করেন। তিনি অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “এক ঘণ্টা যাবৎ আমরা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আ.) এবং আহমদীয়া জামা’তের খলীফাদের লেখনীর আলোকে বক্তব্য শুনেছি। আমরা মসীহ্‌ মওউদ (আ.)-এর প্রতি তাঁর সাহাবীগণের আত্মত্যাগ, ভালবাসা ও আনুগত্যের কথা শুনেছি। আল্লাহ্‌ তা’লা আমাদের সাহায্য করুন, আমরা যেন এসব বিষয় পালনে সমর্থ হই এবং আল্লাহ্‌ তা’লার সাথে প্রকৃত বন্ধন সৃষ্টি করতে সক্ষম হই। আমাদের সকল চাহিদার জন্য আমরা যেন একমাত্র আল্লাহ্‌র কাছেই প্রার্থনা করি। আল্লাহ্‌ তা’লা যেন আমাদেরকে মসীহ্‌ মওউদ (আ.)-এর আদর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার এবং তাঁর দিকনির্দেশনা মানার তৌফিক দান করেন এবং যুগ-খলীফার মাধ্যমে আমরা মসীহ্‌ মওউদ (আ.)-এর হাতে যে বয়াত গ্রহণ করেছি, সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করার সামর্থ্য দান করেন, আমীন”।

উক্ত অনুষ্ঠানে ১৭ই মার্চ ২০২৩ তারিখের আরও একটি জুমুআর খুতবার অংশ বিশেষ প্রচার করা হয়, যেখানে হুযূর (আই.) বলেন, “আল্লাহ্ তা’লা মুত্তাকী বান্দাদের ভালোবাসেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করেন এবং তা প্রদর্শন করেন। কাজেই আমাদের নিজেদের আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং আমাদের দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেগুলো দূর করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই আমরা সফল হবো এবং আমাদের কাজে আল্লাহ্‌ তা’লা বরকত দান করবেন, ইনশাল্লাহ্‌”।

এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের খোদ্দামরা মসীহ্‌ মওউদ (আ.)-এর আগমনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং জামা’তের সদস্যদের যে গুরুদায়িত্ব রয়েছে- সে বিষয়ে আরও বেশি সচেতন ও অনুপ্রাণিত হবে বলে আশা করা যায়, ইনশাল্লাহ্‌।