MTA (এমটিএ) জামা‘তী সংবাদ – ১৫ই এপ্রিল, ২০২৩


আন্তর্জাতিক জামাতী সংবাদ
১৫ই এপ্রিল, ২০২৩

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বর্তমান ইমাম ও খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) গত ১৪ই এপ্রিল ২০২৩, শুক্রবার জুমুআর খুতবা প্রদান করেন। হুযূর (আই.) এই জুমুআর খুতবায় কলেমার প্রকৃত তাৎপর্য ও মর্ম বিষয়ে আলোচনা করেন। খুতবার শেষ দিকে হুযূর (আই.) রমযানের শেষ দশক থেকে কিভাবে পূর্ণরূপে উপকৃত হওয়া যায় এবং তা কাজে লাগানো যায় সেই কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন। হুযূর (আই.) বলেন, “আমাদেরকে নিজেদের মাঝে স্থায়ী পরিবর্তন সৃষ্টি করার অঙ্গীকার করতে হবে। মহানবী (সা.) বলেছেন, রমযানের শেষ দশক হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের দশক। আর যেমনটি বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি (সা.) এও বলেছেন, যে ব্যক্তি মন থেকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ কলেমা পাঠ করে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়। এই সবগুলো বিষয় এদিকেই মনোযোগ আকর্ষণ করে যে, মানুষের আমল বা কর্মের প্রয়োজন রয়েছে এবং অবিরত কর্মের প্রয়োজন রয়েছে। যেমনটি প্রতিশ্রুত মসীহ্ (আ.) বলেছেন, যা আমি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বলার সাথে সাথে কার্যত তা পালন করা আবশ্যক। সুতরাং এই শেষ দশক থেকে পুরোপুরি উপকৃত হবার ও প্রকৃত অর্থে লাইলাতুল কদর পাবার জন্য আমাদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ কলেমা নিজেদের মস্তিষ্ক ও মননের ধ্বনিতে পরিণত করতে হবে। নিজেদের প্রতিটি কাজে তা অবলম্বন করতে হবে। ঠিক যেভাবে প্রতিশ্রুত মসীহ্ (আ.) বলেছেন। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে তদনুসারে নিজেদের জীবন অতিবাহিত করার সামর্থ্য দান করুন। এই দিনগুলোতে পৃথিবীর সামগ্রিক শান্তি ও স্থায়িত্বের জন্য দোয়া করতে থাকুন। আল্লাহ্ তা’লা মানবতার প্রতি দয়া ও কৃপা করুন, আমীন”।

রোযা আমাদের ধর্মেরই অংশ । আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত আলডিঙ্গা (Aldinga), অস্ট্রেলিয়া

এই রমযানে ৬ই এপ্রিল ২০২৩ আহমদী মুসলিম জামা’ত আলডিঙ্গা (Aldinga), অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় শহর অ্যাডিলেড (Adelaide)-এর ক্রিস্টি ডাউন্স কমিউনিটি হাউসে তাদের প্রথম ‘ফাস্টিং ইন মাই রিলিজিওন’ বা ‘রোযা আমাদের ধর্মেরই অংশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার ও ইফতার পার্টির আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে ৮০ জন অতিথি অংশগ্রহণ করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের পর ইমাম কামরান মোবাশ্বের সাহেব রোযা সম্পর্কিত ইসলামিক বিশ্বাস এবং মুসলমানদের জন্য এর গুরুত্ব সম্পর্কে তার বক্তব্য পেশ করেন। নোয়ারলুঙ্গা ইউনাইটিং চার্চের (Noarlunga Uniting Church) যাজক নোলা গিবনস (Nola Gibbons) খ্রিস্ট ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে উপবাসের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। শ্রদ্ধেয় ইমাম কামরান মোবাশ্বের সাহেব অতিথিদের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্ব উন্মুক্ত রাখেন। এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি ছিল খুবই গঠনমূলক ও আকর্ষণীয়। তিনি বলেন, “আলডিঙ্গা জামা’ত তাদের প্রথম এই সেমিনারের আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে ৮০ জনেরও অধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটিতে ধর্মীয় নেতাদের বক্তৃতা শেষে শ্রোতারা ইসলাম সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর পর্বে অনেক আগ্রহ দেখিয়েছেন। একজন অতিথি যখন আজান শুনছিলেন তখন তিনি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে, তিনি তখনই আমার কাছে এসে তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন”। নোয়ারলুঙ্গা ইউনাইটিং চার্চের (Noarlunga Uniting Church) মিনিস্টার নোলা গিবনস (Nola Gibbons) এই আয়োজন সম্পর্কে তার মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “এই অনুষ্ঠানটি খ্রিস্ট ধর্ম এবং ইসলামিক বিশ্বাসের অভিজ্ঞতাকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে এবং আমাদের ধর্মের মিলগুলো সম্পর্কেও একটি চমৎকার উপস্থাপনা ছিল। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পরই ইফতারি পরিবেশন করা হয় এবং সেখানে জামা’তের সদস্যরা নামাজ আদায় করেন, যা আমন্ত্রিত অতিথিরা খুব কাছে থেকে দেখার এবং ইবাদত সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সুযোগ পান। আলহামদুলিল্লাহ, এটাই ছিল স্থানীয়দের মাঝে ধর্ম প্রচার এবং জামা’তের সদস্যদের সাথে তাদের ভাতৃত্ব বন্ধনের একটি দুর্দান্ত সুযোগ। এই সেমিনারে ওন্কাপারিঙ্গা (Onkaparinga) শহরের মেয়র মোয়ারা ওয়েরি (Moira Were AM) সহ বেশ কিছু বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন। মেয়র বলেন, “আমি এই অনুষ্ঠানে এসে খুবই আনন্দিত। আমরা রোযা সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছি এবং তারপর একটি সুস্বাদু নৈশভোজও উপভোগ করেছি। আমি ইসলাম সম্বন্ধে জানতে এসে দক্ষিণ অঞ্চলের অনেক সদস্যদের সাথে পরিচিত হওয়ারও সুযোগ পেয়েছি”। সাউদার্ন ভালেসের কাউন্সিলর মারিসা বেল (Marisa Bell) বলেন, “সকল বক্তা এবং ইমাম সাহেবের কাছ থেকে আপনাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের অনেক আকর্ষণীয় তথ্য জানতে পেরে সত্যিই অভিভূত হয়েছি এবং আপনাদের নামাজ পড়ার দৃশ্য ছিল খুবই আবেগপূর্ণ”। অতিথি এবং স্থানীয় জামা’তের সদস্যরা উভয়ই এই অনুষ্ঠান থেকে অনেক উপকৃত হয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ ।

বার্ষিক আন্তঃধর্মীয় সম্মেলন । লাজনা ইমাইল্লাহ, কানাডা

গত ১৯শে মার্চ ২০২৩ তারিখে কানাডার দুইটি রিজিওনের আহমদীয়া মুসলিম নারী সংগঠন লাজনা ইমাইল্লাহ্ স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী নারীদের নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, যা ‘বার্ষিক আন্তঃধর্মীয় সম্মেলন’ নামে পরিচিত। এই অনুষ্ঠানটি ভন শহরে অবস্থিত পিস ভিলেজের তাহের হলে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর এই অনুষ্ঠানটি এক বিশেষ মাইলফলক অতিক্রম করে। উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজক ফারজানা বলেন, “এ বছরের আন্তঃধর্মীয় সম্মেলন এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এবছর আমরা শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করছি”। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে আরেকজন আয়োজক শুমাইলা বলেন, “আমাদের আন্তঃধর্মীয় সম্মেলনের উদ্দেশ্য হল, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা ও ধর্মের নারীদের একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যে একত্রিত করা এবং তাদের নিজস্ব ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কিভাবে তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যায়- সেটি নিয়ে আলোচনা করা”।

এই সম্মেলনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ফারজানা বলেন, “আমরা জানুয়ারী মাস থেকে আন্তঃধর্মীয় সম্মেলনের জন্য পরিকল্পনা শুরু করি এবং মার্চ মাসে এই আয়োজন করা হবে বলে তারিখ নির্ধারণ করি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যাপক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য প্রতি সপ্তাহেই মিটিং করি, যেখানে প্রতিটি দপ্তর একযোগে কাজ করেছে। অতিথিদের সমস্ত চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিটি বিভাগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছে। আমাদের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ছিল অতিথি আপ্যায়ন বা যিয়াফত বিভাগ, রেজিষ্ট্রেশন, ডেকোরেশন ইত্যাদি। অনুষ্ঠানের আগের দিন প্রায় ৫০ জন লাজনা সদস্যা, ১৫ জন নাসেরাত এবং ১৫ জন খোদ্দাম কাজ করার জন্য উপস্হিত ছিলেন। উভয় রিজিওনের খেদমতে খালক বিভাগ একসাথে কাজ করে সবকিছু পরিষ্কার করেছে এবং সেটআপ অনুযায়ী সব সাজিয়েছে”। অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “অনুষ্ঠান পরিকল্পনার শুরু থেকেই আমরা চিন্তা করছিলাম, কিভাবে আমাদের মেয়েদের তথা নাসেরাতদের এই অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত করা যায়। আলহামদুলিল্লাহ্, নাসেরাতরা আমাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছে। যেমন, তারা অতিথিদের জন্য উপহার তৈরী করা, সেগুলো কাগজ দিয়ে মোড়ানো ইত্যাদি কাজে সাহায্য করেছে। অনেক সময় তাদের হয়তো একটি ‍উপহারই তিনবার মোড়াতে হয়েছে, কিন্তু তারা তা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই করেছে। আজকে তারা সকাল ১০টা থেকেই এখানে এসে পানির বোতলে লেবেল লাগানোতে সাহায্য করেছে”।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সাথে তরুণ লাজনাদের একটি দলও ছিল। তারা এই সম্মেলনকে পরিবেশ বান্ধব সম্মেলনে পরিণত করার জন্য ব্যাপক উৎসাহের সাথে কাজ করেছে। তারা এ উদ্দেশ্য একটি গ্রিন স্টেশন স্থাপন করেছে, যেখানে অতিথিদের ফেলে দেয়া ময়লাগুলো বাছাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ছিল খুবই প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ। তাদের এই উদ্যোগের পর আমরা পুরো সম্মেলনটিই পরিবেশ বান্ধব বানানোর উদ্যোগ নেই। দুইটি রিজিওনের লাজনা ইমাইল্লাহ্ এই সম্মেলনকে সফলভাবে আয়োজন করার জন্য একযোগে কাজ করেছে। প্রত্যেক মজলিসকে ১৫ জন অতিথি নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা যখন অতিথিদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন তখন তারা তেমন একটা ইতিবাচক সাড়া পাননি। কারণ, অতিথিদের ধর্ম নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ ছিল না। আমরা কী করব, ভেবে পাচ্ছিলাম না। এরপর আমরা সাধারণত যা সবসময় করি সেটিই করেছি। আমরা ক্রমাগত দোয়া করতে থাকি এবং এ বিষয়ে হুযূর (আই.)-এর কাছে দোয়ার জন্য চিঠি লিখতে থাকি। লাজনা সদস্যারা আশাহত হওয়া বা হাল ছেড়ে দেয়ার পরিবর্তে সবাই মিলে অধ্যবসায়ের সাথে কাজ করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। অনুষ্ঠানের প্রচারণা সম্পর্কে শুমাইলা বলেন, “আমরা বিভিন্ন স্কুল, ধর্মীয় উপাসনালয়, কমিউনিটি সেন্টার, লাইব্রেরীতে গিয়েছি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে এই সম্মেলনের প্রচার করেছি। এছাড়াও আমরা ফেব্রুয়ারী মাসের উইন্টার ফেস্ট এবং সিটি হলে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন্স ডে’-তে দুইটি বুথের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছি। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সকলের অক্লান্ত প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি”। এই সফল আয়োজন সম্পর্কে ফারজানা তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ্‌, আমি আজ সত্যিই অভিভূত যে, এত অতিথি এই সম্মলনের জন্য নাম লিখিয়েছেন এবং এত অতিথি এখানে এসেছেন। আর আজ যারা এসেছে তারা নিজেদেরকে আমাদের অংশ বলেই মনে করেছেন”।

খৃষ্টান, হিন্দু, ইহুদী, ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মের সম্মানিত অতিথিবৃন্দ একতা ও ঐক্য প্রদর্শনের জন্য এই সম্মেলনে এসেছেন। এতে বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মোট ৫১৬ জন অতিথি উপস্হিত ছিলেন। নিজেদের ধর্ম সঠিকভাবে পালনের মাধ্যমে কিভাবে নারীদের প্রকৃত ক্ষমতায়ন করা যায় সেটিই ছিল সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য। সম্মেলনে আগত অতিথি মেলোডি বলেন, “এ ধরণের সম্মেলনে আমি প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেছি। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মহিলাদের বক্তব্য শুনে সেগুলো আমি নিজেও গভীরভাবে অনুভব করতে পারছি”। আরেকজন অতিথি মেরিলিন বলেন, “সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আমরা সবাই এক, আমাদের মাঝে কোন ভেদাভেদ নেই। কারণ, আমরা সকলেই নারী। আমরা আমাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস পালন করি, যা আমাদের সমাজে নেতৃত্ব প্রদানে শক্তি ও সাহস যোগায়। এই বিশ্বাস আমাদের শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রেই আমাদের নিজেদের মূল্যায়ন করতে সহায়তা করে। এই ধর্মীয় বিশ্বাস সকল নারীদের মাঝে প্রচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”। এই সম্মেলন সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে আরেক অতিথি ডেব (Deb) বলেন, “এই সম্মেলনে নারী অধিকার নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তার ফলে আমি সত্যিই অত্যন্ত গর্বিত। আজ আমরা একত্রিত হবার একটি দারুণ সুযোগ লাভ করেছি। আর বক্তাগণও অসাধারণ বক্তব্য প্রদান করেছেন। যদিও তারা সবসময়ই ভাল বক্তব্য দেন, কিন্তু আজ তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আলোচনা করেছেন”। অতিথি লায়া (Laya) তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি ব্যক্ত করে বলেন, “এটি অত্যন্ত চমৎকার ও ফলপ্রসূ একটি সম্মেলন। এখানে এত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী একত্রিত হয়ে তাদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছে- এটি সত্যই একটি গর্ব করার মতই বিষয়। আমাদের সমাজে নারীদের সাহায্য করা, তাদের নিজেদের অধিকার সম্বন্ধে জানানো, তাদের অর্জন-অভিজ্ঞতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা- এটি সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠান সম্পর্কে আরেকজন অতিথি রেবেকা (Rebecca) বলেন, “আমাদের সবারই নিজস্ব মূল্যবোধ ও সম্মান রয়েছে। আর পরস্পরকে সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের নিজেদের এই সম্মানকে অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি। আমি মনে করি, আজকের এই সম্মেলনে এই বিষয়টিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে”। হিন্দু ধর্মাবলম্বী একজন অতিথি শান্তি (Shanty) এই আয়োজন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “লাজনা ইমাইল্লাহ্‌র শতবর্ষ পূর্তির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এই মাইলফলক অর্জন এটিই প্রমাণ করে যে নারী হিসেবে আপনারা অনেক দূর এসেছেন”।

বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের মাঝে আন্তঃধর্মীয় আলোচনার জন্য আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রচেষ্টা সুদীর্ঘ। শত বছরের চেয়েও পূর্বে যার সূচনা হয়েছিল জামা’তের পবিত্র প্রতিষ্ঠাতা প্রতিশ্রুত মসীহ্ ও ইমাম মাহদী হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর মাধ্যমে। এর ফলে ভারতবর্ষের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মাঝে আলোচনা ও নিজেদের মাঝে সম্প্রীতির ভিত্তি রচিত হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এই সম্মেলনে ভন শহরের মেয়র মি. স্টিফেন ডেলডুকা (Mr. Stephen DelDuca)-এর পক্ষ থেকে লাজনা ইমাইল্লাহ্ কানাডার সদর মোহতরমা আমাতুস সালাম মালিক সাহেবাকে লাজনা ইমাইল্লাহ্‌র শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। লাজনা ইমাইল্লাহ্‌ কানাডার যেসব সদস্যা ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সংগঠনের সেবায় নিয়োজিত আছেন তাদের সম্মানার্থে একটি বিশেষভাবে হাতে তৈরী একটি গাছ প্রদর্শনের ব্যবস্হা করা হয়, যাতে আল্লাহ্‌ তা’লার এসব সম্মানিত দাসীদের নাম রয়েছে। যেন সম্মেলনে আগত অতিথিরা এটি দেখেন এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে পারেন।

লাজনা ইমাইল্লাহর শতবর্ষ পূর্তির এই সফল আয়োজন সম্পর্কে ফারজানা তার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, “আমাদের তরুণ লাজনা সদস্যাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার এক অভিজ্ঞতা যে, আমাদের নিজস্ব ধর্মীয় পরিচয় প্রকৃতপক্ষে গর্বের সাথে বলার মত একটি বিষয়। এছাড়া আরও একটি বিষয় হল, আমাদের এই সম্মেলনের শুরু থেকেই পুরো হলরুম জুড়ে এক প্রকার শান্তি ও নিরবতা বিরাজ করছিল, যার ফলে আমি লাজনা ইমাইল্লাহ্র একজন সদস্যা তথা এমন একটি সফল আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্ববোধ করতে পারি, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আমি মনে করি, যদি কেউ শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করতে চান, তাহলে তাদের উদযাপনও এমনটাই হওয়া উচিৎ, আলহামদুলিল্লাহ্। এখন যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে, আপনি কি কোনো অলৌকিক নিদর্শন দেখেছেন? তাহলে আমি বলবো, আমার কাছে এই পুরো সম্মেলনটাই ছিল অতুলনীয় এক অলৌকিক ঘটনা! শুধু তাই নয়, এই ধরনের আয়োজনের ফলে তরুণ লাজনা সদস্যাদের মাঝে ভাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হচ্ছে। আর এই ঐক্যের মাধ্যমে তারা শক্তিশালী হয়ে প্রতিশ্রুত মসীহ্ ও ইমাম মাহদী (আ.) এর বার্তা তথা প্রকৃত ইসলাম সকলের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এবং নিজেদের মাঝেও সম্প্রীতি ও ঐক্য সৃষ্টি করছে”।