MTA (এমটিএ) জামা‘তী সংবাদ – ৮ এপ্রিল, ২০২৩


আন্তর্জাতিক জামাতী সংবাদ
৮ই এপ্রিল, ২০২৩
জুমুআর খুতবার সারমর্ম

নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বর্তমান ইমাম হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্ খামেস (আই.) গত ৭ই এপ্রিল শুক্রবার জুমুআর খুতবা প্রদান করেন। হুযূর (আই.) এই খুতবাতেও পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে আলোচনা অব্যাহত রাখেন। খুতবার শেষ দিকে হুযূর (আই.) দোয়া করেন, আমরা যেন পবিত্র রমযান মাসের পরেও পবিত্র কুরআনের কল্যাণরাজি দ্বারা আশীষ মন্ডিত হবার চেষ্টা অব্যাহত রাখি। সেই সাথে হুযূর (আই.) ফিলিস্তিনে মুসলমানদের জন্যও দোয়ার আহ্বান জানান। তিনি (আই.) বলেন, “আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে প্রকৃত অর্থে পবিত্র কুরআনের উপর আমলকারী, এর শিক্ষামালা পালনকারী, একে অনুধাবনকারী এবং নিজেদের জীবন এর অনুসরণে যাপনকারীতে পরিণত করুন। রমযানের পরও এই নেয়ামত দ্বারা সেই ভাবেই কল্যাণ মিলিত হবার চেষ্টা করতে থাকুন যেভাবে এখন রমযানে করছেন। রমযানে জামা’তের বিরুদ্ধবাদীদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করুন। আল্লাহ্ তা’লা প্রত্যেক অনিষ্টকারীর হাতকে বাধা দিন এবং তাদেরকে ধৃত করার ব্যবস্থা করুন। পৃথিবীর বিভিন্ন নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সার্বিকভাবে অনেক দোয়া করুন। এমনি ভাবে ফিলিস্তিনেও ইদানিং অনেক নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে। ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য দোয়া করুন। আল্লাহ্ তা’লা তাদেরকে অত্যাচারীদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করুন এবং মুসলিম বিশ্বের নেতাদেরকেও বিবেক বুদ্ধি দান করুন। তারা যেন নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মুসলমানদের সমষ্টিগত স্বার্থ রক্ষাকারী হয়। আল্লাহ্ তা’লা এই রমযানে আমাদের জন্য রহমত ও বরকতের দুয়ার গুলো পূর্বের চেয়ে অধিক অবারিত করে দিন, আমীন”।

অটোয়া, কানাডা

আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত কানাডা বিগত কয়েক বছরের ন্যায় এবারও অটোয়ায় অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনে পবিত্র রমযান মাস উপলক্ষ্যে বার্ষিক ইফতারের আয়োজন করে। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো ভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর সামনে মুসলিম সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ধর্মীয় রীতি-নীতি, ইবাদত পদ্ধতি ইত্যাদি তুলে ধরা। বিগত বছরগুলোতে সফলভাবে ইফতার আয়োজনের পর এ বছরও আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত আরো বৃহৎ পরিসরে এবং সফলভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে সক্ষম হয়েছে। এবছর ২৫০ জন অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগদান করেছেন। বিভিন্ন সংসদ সদস্য, সিনেটর, রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং দেশের রাজধানী অন্টারিওর বিভিন্ন সম্মানিত অতিথিগণ এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথি জুডি সগরো (Judy Sgro) বলেন, “আজকের অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কারণ অনেক মানুষ যারা ইসলাম সম্বন্ধে কোন ধারণাই রাখেন না, তাদেরকে ইসলাম এবং মুসলমানগণ কেন রোযা পালন করেন- সেই সম্পর্কে একটি সম্যক ধারণা দেয়া হয়েছে”।

সংসদ সদস্য ফ্রান্সেসকো সোরবারা (Francesco Sorbara)এই আয়োজন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, “অটোয়াতে এই ইফতারি অনুষ্ঠান সত্যি অসাধারণ। আমরা সংসদ সদস্যরা এবং সংসদের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ এখানে এসে রমযান এবং এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব সম্বন্ধে জানতে পেরেছি। আপনারা বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষকে এখানে সমবেত করেছেন যেন তারা রমযান সম্বন্ধে জানতে পারে, এটি সত্যিই অসাধারণ। এর ফলে তারা রমযানের গুরুত্ব এবং এর প্রকৃত তাৎপর্য সম্বন্ধে জানতে পারছে”।

আরেকজন অতিথি পিয়েরে পলিভ (Pierre Poilievre)বলেন, “আমি মনে করি এই আয়োজনের মাধ্যমে কানাডিয়ানরা ইসলাম এবং রমযান সম্বন্ধে আরো গভীরভাবে জানতে পেরেছে। তারা জেনেছে যে, রমযানের প্রকৃত তাৎপর্য হল আত্মত্যাগ। এ মাসে মুসলমানগণ রোযার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত স্বেচ্ছায় সকল ধরনের পানাহার থেকে বিরত থাকেন ও এরপর ইফতারের মাধ্যমে রোযা খোলেন। আমি মনে করি এটি অত্যন্ত সুন্দর একটি ঐতিহ্য। কানাডার মুসলমানগণ আমাকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোয় আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি”।

অনুষ্ঠানে আগত একজন শিখ নেতা জগমিৎ সিং (Jagmeet Singh) বলেন, “অটোয়ার মত শহরে সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের মানুষদের সংসদ ভবনে একত্রে সমবেত করে ইফতার আয়োজন করা একটি অসাধারণ উদ্যোগ। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত সকলেই এই আয়োজনকে সাদরে গ্রহণ করেছে। তাই আমি মনে করি, এটি অসাধারণ এক অনুষ্ঠান। জামা’তে আহমদীয়াকে এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এর মাধ্যমে দুইটি উদ্দেশ্য অর্জন হচ্ছে। প্রথমত মানুষ রমযান ও ইফতার সম্বন্ধে জানতে পারছে এবং একইসাথে তারা জামা’তে আহমদীয়া সম্বন্ধেও জানতে পারছে”।

এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে নতুন সম্পর্ক যেমন তৈরি হচ্ছে, তেমনি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে সম্পর্ক বন্ধনও আরো দৃঢ় হচ্ছে। বিভিন্ন সম্মানিত অতিথিদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সফল হয়েছে এবং এর মাধ্যমে অনেক নতুন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির পথ উন্মুক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, ইনশাল্লাহ।

ফিনল্যান্ড

আল্লাহ্ তা’লার অশেষ কৃপায় আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত ফিনল্যান্ড গত ২৬ মার্চ ২০২৩ হেলসিংকিতে অ-আহমদী অতিথিদের জন্য একটি ইফতার-নৈশভোজের আয়োজন করার সৌভাগ্য লাভ করে। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য মূলত সমাজের বিভিন্ন জাতি- ধর্মের মানুষের সামনে মুসলমানরা কেন রোযা রাখে এবং রোযার তাৎপর্য কী এটি তুলে ধরা।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরম্ভ হয়। এরপর ফিনল্যান্ড জামা’তের ন্যাশনাল আমীর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং তাদেরকে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে আহমদীয়া জামা’তের ওপর পরিচিতিমূলক একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর ফিনল্যান্ডের মোবাল্লেগ ইনচার্জ সাহেব রমযানে রোযা রাখা বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন; রোযা যে কেবলমাত্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভুক্ত থাকার নাম নয়, বরং এটি ধৈর্য ও অবিচলতার একটি শিক্ষা এবং আল্লাহ্ তা’লার খাতিরে নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি প্রশিক্ষণ- এই বিষয়টি তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। এই প্রেজেন্টেশন গুলোর পর আগত অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তরের সুযোগও রাখা হয়। এরপর যথাসময়ে আযান ও ইফতার পরিবেশন করা হয়।

এই অনুষ্ঠানে মোট ৩২ জন অ-আহমদী অতিথি অংশ নেন। অতিথিরা এরকম একটি আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তারা রমযান ও রোযা বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পেরে খুবই খুশি হন, আলহামদুলিল্লাহ্‌। আল্লাহ্ তা’লা জামা’তকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে প্রকৃত ইসলামের বাণী ছড়িয়ে দেবার সামর্থ্য দান করুন, আমীন।