প্যারাগুয়ে-এ ‘শান্তির স্বপক্ষে উচ্চকিত ধ্বনি’ (VoicesForPeace) অনুষ্ঠিত


মিশেল বাতেন, প্যারাগুয়ে প্রতিনিধি, আল্‌ হাকাম

গত ২৪ শে নভেম্বর ২০২৩ তারিখে আহমদীয়া মুসলিম জামাত, প্যারাগুয়ে ‘শান্তির স্বপক্ষে উচ্চকিত ধ্বনি’ (VoicesForPeace) প্রচারাভিযানের অধীনে আছুনছিয়ন শহরে একটি আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন একটি জাতীয় টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক রিচার্ড মোরেরা। অনুষ্ঠানের শুরুতে অ্যাবেল লোপেজ পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন। এরপর ইলিয়াস অলিভেরা উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে আগত বিশ্বের প্রধান প্রধান ধর্মগুলোর প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন। খ্রিস্টান ধর্মের পক্ষ থেকে জর্জ এস্পিনোলা, বৌদ্ধ ধর্মের পক্ষ থেকে মার্সেলো গঞ্জালেজ, হিন্দু ধর্মের পক্ষ থেকে অ্যান্টোইন ডুক্রট এবং ইসলামের পক্ষে আবদুন নুর বাতেন সাহেব বক্তব্য রাখেন। বক্তৃতা শেষে শ্রোতাদের আলোচকদেরকে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। এই অধিবেশনটি অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ অনুষ্ঠানে সর্বমোট ৬০ জন অতিথি অংশগ্রহণ করেন।
প্রশ্ন-উত্তর পর্বের পরে, কার্লোস বার্নাল সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার বক্তব্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব সম্পর্কে হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস -এর বক্তব্য হতে উদ্ধৃতি প্রদান করেন।
রিচার্ড মোরেরা বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক; যেমনটি প্যারাগুয়ের আহ্‌মদীয়া জামা’ত দ্বারা আয়োজিত আজকের এই উদ্যোগ। বর্তমানের এই অশান্ত সময়ে যখন বিশ্বে যুদ্ধের হাওয়া বইছে, তখন শান্তির স্বপক্ষে ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত এই ধরনের উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। প্রতিটি ধর্মের, প্রতিটা বিশ্বাসের এবং প্রতিটি অভিব্যাক্তির এই বিষয়ে নিজস্ব শিক্ষা ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।এই শান্তির বাণীগুলিকে প্রচার করে সমাজে কীভাবে অবদান রাখা যায় এবং কীভাবে ঘৃণার স্থলে ভালবাসাকে স্থান দেয়া যায় – বর্তমানে এই মৌলিক বিষয়টির প্রতিফলন ঘটানো একান্ত প্রয়োজন।
ইলিয়াস অলিভেরা বলেন, “এই আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আমার দৃষ্টি ভঙ্গি বদলে দিয়ে আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। আমরা কিভাবে ধর্ম ও বিশ্বাসের বাধাকে অতিক্রম করে এক ও অভিন্ন ভিত্তি খুঁজে পেতে পারি – এই বিষয়টি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। যেখানে শান্তির সন্ধানে শ্রদ্ধা, ভালবাসা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বিকাশ লাভ করতে পারে। অন্য লোকেদের বিশ্বাস সম্পর্কে আলোচনা এবং শেখার জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আলেকজান্ডার গুতেরেস মন্তব্য করেন, “একজন খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ববিদ হিসেবে আমি শান্তি স্থাপনের লক্ষে আমি এই ধরনের সংলাপে বিশ্বাসী। আজকের এই আয়োজনে শান্তি সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তাদের বক্তব্য আমাকে খুবই সমৃদ্ধ করেছে। আমি এই অনুষ্ঠান থেকে শিখেছি, আমাদেরকে শান্তির বানী প্রচার করতে হবে এবং শান্তিতে থাকতে হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা প্রদর্শন করতে হবে, কারণ একটি সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য প্রত্যেকের অবদান অনস্বীকার্য। পরিশেষে আমি বলতে চাই, এই ধরনের আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।”
অনুষ্ঠানে আগত মির্থা কোলম্যান বলেন, “এটা অত্যন্ত আনন্দের যখন আমরা আলোচকদের বলতে শুনি, আসলে আমাদের সত্তার মাঝেই প্রেম ও শান্তি প্রোথিত …। এই ধরনের অনুষ্ঠান গুলো আমাদের সমাজে শান্তি প্রচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা অংশগ্রহণকারীদের উপরও এটি স্থায়ী প্রভাব ফেলে থাকে”।

আল্‌ হাকাম (https://www.alhakam.org/interfaith-dialogue-held-in-paraguay-to-raise-voices-for-peace/)