প্রাগে অনুষ্ঠিত আন্তঃধর্মীয় শান্তি সম্মেলন


উজাইর আহমেদ, প্রচার এবং জনসংযোগ সম্পাদক, আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’ত চেক প্রজাতন্ত্র

২০২৩ -এর ১লা ডিসেম্বর চেক প্রজাতন্ত্রের ঐতিহাসিক প্রাণকেন্দ্র প্রাগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো এক অনন্য মিলনমেলা। দেশের প্রাচীনতম স্বনামধন্য বেসরকারী আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাংলো-আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃধর্মীয় শান্তি সম্মেলনে বিশিষ্ট জনদের বক্তব্য শোনার জন্য শহরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ সমবেত হয়ে ছিল।ছিল ।
ঐতিহাসিক এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন কক্ষটি ধারণ ক্ষমতারও অতিরিক্ত শতাধিক দর্শক দ্বারা পরিপূর্ণ ছিলো। এই সম্মেলনে বক্তব্য শোনার জন্য এসে ছিলেন যার মধ্যে অধ্যাপক, কূটনীতিবিদ, প্রবাসী, সাংবাদিক, ছাত্র এবং অন্যান্য পেশার আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাংলো-আমেরিকান ইউনিভার্সিটির ইসলামিক কমিউনিটির সহযোগিতায় আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’ত চেক প্রজাতন্ত্র “আন্তঃধর্মীয় সম্মেলন – সমাজে শান্তির প্রচার” শিরোনামে এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’ত চেক প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সভাপতি কাশিফ জানুয়া সাহেব। তিনি উপস্থিত সকল অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং বিশ্বের মুক্তি ও প্রকৃত সামাজিক অগ্রগতি কেবলমাত্র শান্তির লক্ষ্যে একত্রে কাজ করার মধ্যেই অর্জন করা সম্ভব বলে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
এর পরে মাসারিক ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক এবং প্রভাষক অধ্যাপক জোসেফ ক্রাউস চেক ভূমিতে ইসলামের ইতিহাসের উপর এক প্রজ্ঞাপুর্ন বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনে তিন প্রধান আব্রাহামিক ধর্মের প্রতিনিধিদের বক্তৃতাও ছিলো, তার তাদের নিজ নিজ পবিত্র গ্রন্থ থেকে শান্তির মূল শিক্ষা ব্যাখ্যা করেন।
ইহুদি ধর্ম বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করেন মিসেস সিলভি উইটমানভা। প্রাগের চার্লস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোটেস্ট্যান্ট থিওলজিক্যাল ফ্যাকাল্টির অধ্যাপক পাভল বারগার উপস্থাপন করেন খ্রিস্টীয় ধর্ম বিশ্বাসের শিক্ষা। আর ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করেন আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’ত জার্মানির আমির সাহেব, তিনি – “খোদাকে চিনতে পারাই শান্তি অর্জনের চাবিকাঠি” শিরোনামে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সব শেষে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য জামা’তের প্রচার এবং জনসংযোগ সম্পাদক জনাব ইব্রাহিম ইখলাফ, তিনি কেন্দ্রীয় জামা’তের প্রতিনিধি হিসাবে যুক্তরাজ্য থেকে এসে ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধর্মকে এক অপরিহার্য অংশ বলে উল্লেখ করেন।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় উপস্থিত অতিথিদের প্রশ্ন-উত্তর পর্ব।
দোয়ার মাধ্যমে এই আয়োজন সন্ধ্যার ইতি টানা হয়। এরপর অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয় বিভিন্ন প্রদর্শনী দেখার জন্য, এর মধ্যে পবিত্র কুরআন প্রদর্শনী, বিনামূল্যে বিতরণের জন্য জামা’তের বই স্টল এবং ক্যালিগ্রাফি স্টল উল্লেখযোগ।
আয়োজনে আগত অনেক অতিথিরাও তাঁদের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করেন। তার মধ্যে অ্যাংলো-আমেরিকান ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মি. জিরি শোয়ার্জ, রিপাবলিক অফ দ্য ইউনিয়ন অফ মায়ানমার দূতাবাসের চার্জ ডি’ অ্যাফেয়ার্স মি: হুয়ান নাউং, সাবেক জেনারেল ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন কাউন্সেলর মাননীয় গ্রোভার জোসেফ রিস, ইহুদি প্রতিনিধি ও অতিথি বক্তা মিসেস সিলভি উইটমানভা, এবং খ্রিস্টান প্রতিনিধি ও অতিথি বক্তা অধ্যাপক পাভল বারগার উল্লেখযোগ্য।
বিগত আট বছর চেক প্রজাতন্ত্রে বসবাসকারী এক তুর্কি নারী জানান, তিনি এখানে একটি মুসলিম সংস্থার দ্বারা আয়োজিত এতো সুন্দর অনুষ্ঠান এর আগে কখনও দেখেননি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মানুষদের ইসলাম সম্পর্কে জানাতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন আরো বেশী করা উচিত।
কয়েকজন মুসলমান ছাত্র জানান, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামা’তের প্রজ্ঞাপন দেখে অনুষ্ঠানটি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং সাথে সাথেই এখানে উপস্থিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন কেননা প্রাগে এ ধরনের ইসলামিক সমাবেশ বিরল।স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সমূহে আয়োজনটির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়, বিশেষ করে এর উচ্চমানের পেশাদারিত্ব এবং জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যের জন্য।

আল্‌ হাকাম (https://www.alhakam.org/inter-religious-forum-for-peace-held-in-prague/)