মুসলিমের দৃষ্টিতে কৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে ইসলাম

জামা'তের বিভিন্ন বুজুর্গ ব্যাক্তিবর্গের লিখিত পুস্তকাবলী | আলহাজ্জ আহমদ তৌফিক চৌধুরী

ঐক্য ও সম্প্রীতি চাই

মানুষের মাঝে মহত্ব ও হীনত্ব (যাকে অনেকে পশুত্ব বলে থাকে ) দুইই আছে । ধর্ম মানুষকে মহত্ব -বিকাশের ও পশুত্ব নিয়ন্ত্রণের পথ দেখায় । সঠিকভাবে নিষ্ঠার সাথে ধর্ম – পলিন দ্বারা যেমন মানুষ মহত্ব অর্জন করে থাকে , তদ্বিপরীত হীন স্বার্থের তাগিদে ধর্মের অপব্যবহার দ্বারা সে হীনত্বের চরম স্তরে পৌছে যেতে পারে। সামপ্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা তেমনই একটা নিমতম স্তর। এর দ্বারা আক্রমণকারী ও আক্রান্ত কোন সম্প্রদায়ই লাভবান হয় না। বরং যে ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতার আশ্রয় নেয়। হয় সে ধর্মই দুনিয়ার সামনে হেয় প্রতিপন্ন হয়। ধর্ম সাম্প্রদায়িকতার উৎস নয়, বরং ধর্মান্ধতাই সাম্প্রদায়িকতার উৎস। ধর্মান্ধরা বিবেক বুদ্ধিতে যতই অন্ধ হউক না কেন, দুনিয়ার সবাই ত তাদের মত অন্ধ নয়। তাই, তারা তাদের ধর্মের জন্য যে কলংক কুড়ায় তা অগোচর থাকে না।

সাম্প্রদায়িকতার ক্ষয় – ক্ষতির অনেক দিক আছে। এখানে একটি বিশেষ দিকের প্রতি দেশবাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই। কেননা এর সাথে দেশবাসী আমরা সবাই জড়িত। যে দেশেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়, সে দেশেই অশান্তি ও অস্থিরতা বিরাজ করে। এমন কি, প্রচুর জানমালের ক্ষয় – ক্ষতিও অনিবার্য হয়ে পড়ে। দাঙ্গার সংখ্যা ও ব্যাপকতা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্বাভাবিকভাবে ক্ষয়- ক্ষতির পরিমাণ ও পরিধি বেড়ে যায়। ধর্মান্ধরা, বিশেষ করে তারা যখন সংখ্যাগরিষ্ট হয়, তখন এ সব ক্ষয়ক্ষতিকে আক্রান্ত সংখ্যালঘুদের ক্ষয়ক্ষতি বলে গণ্য করে আত্মতৃপ্তি লাভ করে থাকে। অথচ একটু গভীরভাবে বিবেচনা করলে সহজেই উপলব্ধি করা যায় যে, দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত সমপ্রদায় যে ধর্মেরই হউক না কেন, তারা কোন না কোন ভৌগলিক সীমানায় একটা দেশে বাস করে। তাই তাদের ক্ষতি নিশ্চিতভাবে ঐ দেশেরই ক্ষতি। সুতরাং কোন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক এসব ক্ষয় ক্ষতির কারণকে কিছুতেই প্রশ্রয় দিতে পারে না, বরং তা রুখে দাঁড়াবেই।

সাম্প্রদায়িকতাকে রুখে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় উপায় হলো দেশে বসবাসকারী বিভিন্ন ধর্ম, সমপ্রদায় ও বর্ণের মাঝে সাহসিকতা ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে তোলা। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সাফল্য অর্জনের জন্যও চাই অনুরূপ ঐক্য ও সম্প্রীতি। বস্তুতঃ সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে এর কোন বিকল্প নেই। এই সহজ সত্য ভুলে গেলে, আমাদের দুঃখ -দৈন্য কখনও দূর হবে না। মহত্বকে অবহেলা করে ও হীনত্বকে প্রশ্রয় প্রাধান্য দিয়ে যেমন ব্যক্তি মহৎ হতে পারে না, তেমনি কোন মহান জাতি বা দেশও গড়া যায় না।

ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য চাই একে অন্যকে সঠিকভাবে জানা ও দরদ দিয়ে বুঝা। ‘মুসলিমের দৃষ্টিতে কৃষ্ণ ও বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে ইসলাম’ পুস্তিকাটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

গুগল বই গুগল প্লে ডাউনলোড