কৃষ্ণের বিশ্বরূপ ও কল্কি জগতপতি

জামা'তের বিভিন্ন বুজুর্গ ব্যাক্তিবর্গের লিখিত পুস্তকাবলী | আলহাজ্জ আহমদ তৌফিক চৌধুরী

কৃষ্ণ ঈশ্বর বা ভগবান ছিলেন না, তিনি ছিলেন ঈশ্বরের প্রেরিত পরুষ, আদর্শ মানব। কৃষ্ণ-ভক্ত বঙ্কিম চন্দ্র বলেছেন, “কৃষ্ণ কোন অতিমানুষ শক্তির অধিকারী ছিলেন না। ….. যে শক্তি মানুষের নাই, তাহার অনুকরণ মনুষ্য করিবে কি প্রকারে?” (রচনাবলী ২য় খন্ড, ৪৩৫, ৫০৭ পৃ:)।

আফসোস, অতিভক্তরা কৃষ্ণকে ভগবান ও শয়তানে পরিণত করার কারণেই অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা কৃষ্ণকে ভুল বুঝে আসছে। এজন্যে কৃষ্ণকে দায়ী করা যায় না। ইহুদী ও খ্রিষ্টানেরা দাউদ, সোলায়মান, লুত, ঈসা প্রভৃতি নবীদের চরিত্রকে বিকৃত করার কারণে আমরা যেমন তাদেরকে পরিত্যাগ করিনি, তেমনি প্রকৃত কৃষ্ণকেও আমরা ত্যাগ করব না। তাকে পবিত্র কোরআন হাদিসের আলোকে যাচাই বাছাই করে গ্রহণ ও বরণ করে নেব।
বাইবেল দাউদ নবীকে পরস্ত্রীর প্রতি প্রেমাসক্ত রূপে দেখিয়েছে। সোলায়মান নবীকে শত শত নারীর বল্লভরূপে বিকৃত করেছে। ঈসা নবীকে খোদার আসনে
বসিয়েছে। অপরদিকে তাকে অভিশপ্ত প্রমাণ করেছে।

দুঃখের বিষয়, মৌলানা মৌদুদীও তার তাফহীমুল কোরআনে দাউদ (আ.)-এর উপর আরোপিত এলজাম গুলিকে সত্য বলে স্বীকার করে নিয়ে তার পক্ষে ওকালতি করে যুক্তি প্রদানের চেষ্টা করেছেন। সবচাইতে পরিতাপের বিষয় মুসলমানরাও ইউসুফ (আ.)-কে প্রেমলীলায় অবতীর্ণ করে তালমুদের জুলেখাকে এনে উপন্যাস পর্যন্ত রচনা করে ফেলেছে। বিভিন্ন তফসীর কারকগণ তাদের তফসীরের মধ্যে জয়নাবের কল্প কাহিনী রচনা করে মহানবী বিশ্বনবী (সা.)-এর মহান ও পূত চরিত্রের উপর কলঙ্ক লেপনের ব্যর্থ প্রয়াস চলিয়েছে। আর এর উপর ভিত্তি করে শয়তান রুশদীরা সৃষ্টি করেছে পর্নোগ্রাফী ‘সেটানিক ভার্সেস’। খ্রিষ্টান পাদ্রীরা রচনা করেছে “উম্মাহাতুল মোমিনিন”, আর্য্যসমাজীরা লিখেছে ‘রঙ্গীলা রসূল’
ধিক, শত ধিক এইসব অপবাদকারীদের উপর।

গুগল বই গুগল প্লে ডাউনলোড