মৌলবী সানাউল্লাহ অমৃতসরীর সাথে মির্যা সাহেবের মোবাহেলা সংক্রান্ত আপত্তির উত্তর


মোবাহেলাকে মৌলভী সানাউল্লাহ অমৃতসরীর ভয় ও অস্বীকার:

পাঠকগণের হয়ত স্মরণ আছে আমরা ১৮৯৬ইং এর অবস্থা বর্ননা করার সময় হযরত আকদাসের উলামা ও সূফীদের মোবাহেলার চ্যালেঞ্জ দেয়ার কথা উল্লেখ করেছি। সেই চ্যালেঞ্জ হিন্দুস্থানের ৫৮ জন প্রখ্যাত আলেম ও সূফীদের মধ্য থেকে ৪৯ জন সুপরিচিত সূফীদের নাম লিপিবদ্ধ করে তাদেরকে মোবাহালার জন্য আহ্বান করেন। সেই নামের সাথে মৌলভী সানাউল্লাহর নামও এগারতম নম্বরে ছিল। যেভাবে কোন আলেমের মোবাহালার ময়দানে আসার সাহস হয়নি। সেইরূপ সানাউল্লাহ সাহেবেরও হয় নি। কিন্তু এই বিষয়ে অন্য সকল আলেমদের থেকে মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবের বিশেষভাবে এই প্রার্থক্য ছিল সে কতিপয় আলেমদের ন্যায় দুই একবার মোবাহালা করার ব্যাপারে পিছপা ও নিরব অজুহাত দেখিয়ে চুপ হয়ে যায় নি। বরং যে দুমুখি পদ্ধতি অবলম্বন করেছিল। সে সেটার উপরই চলতে থাকে কখনো এ পদ্বতিকে পরিত্যাগ করে নি। তার চালাকী এটা ছিল, সে কখনো মন থেকে হযরত আকদাসের সাথে মোবাহালায় লিপ্ত হতে চাইত না। কিন্তু লোকদের নিকট এটাই প্রকাশ করতে চাইত যে আমি মোবাহালার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। কখনো নিজের সমমনাদের জিজ্ঞাসাবাদ আপনি মোবাহালা করছেন না কেন। আপনার অবশ্যই মোবাহালা করা উচিত। সে তখন এটা প্রকাশ করে দিত আমি মোবাহালায় লিপ্ত । আবার কখনো কখনো নিজেও আবেগতাড়িত হয়ে বড় বাগারম্বরভাবে মোবাহালা মোবাহালা বলে চিৎকার করত। কিন্তু যখন হযরত আকদাসের পক্ষ থেকে জবাব দেয়া হত তো তখন সে এটা বলে দিতে কোন সংকোচবোধ হত না যে, আমি তো কখনো মোবাহালার কথা বলিনি। সে শুধু অস্বীকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত না, মানবিকতা ও মানুষ্যত্বকে বিসর্জন দিয়ে মন্দভাষা দ্বারা মান সম্মানকে ভষ্মিভূত করে দিত। নিম্নে কয়েকটি দৃষ্টান্ত বর্ণিত হল। মৌলভী সাহেব নিজের চরিত্র মোতাবেক বন্ধুদের মাঝে বড়ই জোরের সাথে মোবাহালায় লিপ্ত হওয়ার কথা প্রকাশ করে। কেননা তার বন্ধুরা তাকে মৌখিক মোবাহালা করার জন্যও বলত এবং লিখে লিখে পাঠাত। সে মৌখিকভাবে লিপ্ত হওয়ার প্রকাশ না করে আবেগী হয়ে নিজের এক বন্ধুকে মোবাহালায় লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে একটি পত্র লিখে পাঠিয়ে দেয়। সেই পত্র হযরত আকদাস পর্যন্ত পৌঁছায়। হুযূর নিজের লিখিত এজাযে আহমদী পুস্তকে বলেন,

“আমি শুনেছি বরং মৌলভী সানাউল্লাহ অমৃতসরীর স্বাক্ষরিত পত্রও দেখেছি। যাতে সে নিবেদন করেছে যে, আমি সেই সিদ্ধান্তের জন্য আকাংখী, দুইজন অর্থাৎ আমি এবং সে যেন এই দোয়া করি। আমাদের দুইজনের মধ্যে থেকে যে মিথ্যাবাদী সে যেন সত্যবাদীর জীবদ্দশাতেই মারা যায়।…… সুতরাং মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেব যদি এই আকাংখা কপটতা বশত নয় বরং মন থেকে প্রকাশ করে। তাহলে এ থেকে উত্তম আর কি সে এই উম্মতের উপর এই মতবিরোধের যুগে অনেক বড় অনুগ্রহ করবে। সৎসাহসী হয়ে সেই দুটি মাধ্যম দ্বারা সত্য মিথ্যার সিদ্ধান্ত চিহ্নিত করে নিবে। এটা তো সে ভাল প্রস্তাব বের করেছে। এখন যদি সেটাতে প্রতিষ্ঠিত থাকে তাহলে কথা।

তারপর হুযূর আরো লিখেন:

“যদি এই চ্যালেঞ্জের উপর মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেব প্রস্তুত হয়, মিথ্যাবাদী সত্যবাদীর পূর্বে মৃত্যুবরণ করবে তাহলে অবশ্যই সে প্রথমে মারা যাবে”।

মৌলভী সাহেব হযরত আকদাসের এই পুস্তক প্রকাশিত হওয়ার ফলে নিজের মোবাহালার জন্য পত্র লিখার কোন উল্লেখ করেনি আর হযরত আকদাসের পত্রের উত্তরে শুধু এটুকু লিখে দিয়েছে,

“কেননা এই ব্যক্তি না আপনার মত নবী বা রসূল অথবা ইবনুল্লাহ বা ইলহাম প্রাপ্ত এ কারনে এই ধরনের প্রতিযোগীতা করার মত দুঃসাহস দেখাতে পারি না”।

কিন্তু তা সত্ত্বেও কয়েকদিন পরে মৌলভী সাহেব পুনরায় লিখেন যে

“সুতরাং তৃতীয় আয়াত (অর্থাৎ কুল তায়ালু নাদয়ু আবনায়ানা) এর উপর আমল করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। আমি এখনো এ ধরনের মোবাহালার জন্য প্রস্তুত আছি। যা লিখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। যাকে স্বয়ং মির্যা সাহেব নির্বাচিত করেছেন।”

মৌলভী সাহেবের এই লিখনীর পরে যখন হযরত আকদাস ফেব্রুয়ারী ১৯০৭ইং কাদিয়ানের আড়ীয়াদের মোকাবেলায় নিজের পুস্তক “”কাদিয়ান কে আড়ীয়া আওর হাম”” প্রকাশ করেন। সেখানে লালা শরমপত ও মালাওয়ামালকে তার মোকাবেলায় কসম খাওয়ার জন্য আহ্বান করেন। সেই লেখনীর এক কপি মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবকেও পাঠান। যার ব্যাপারে আল হাকামের সম্পাদক সাহেব লিখেন,

“এই লিখনীর এক কপি মৌলভী সানাউল্লাহ অমৃতসরীকেও পাঠানো হয়। কাদিয়ানের আড়ীয়ারা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ সাহেবের অলৌকিক নিদর্শন সমূহকে দেখেও মিথ্যা বলে এবং বলছ। এই লিখনীতে তাদের ব্যাপারে মোবাহালার চ্যালেঞ্জ দেয়া হয়। যদি সানাউল্লাহ নিজে কোন আলৌকিক নিদর্শন না দেখে তাহলে সেও কসম খেয়ে পরীক্ষা করে নিক। অর্থাৎ জেনে নিক খোদাতা’লা কাকে রক্ষা করেন এবং কার কসমকে সত্য করে দেখান আল হাকামের সম্পাদক সাহেবের এই লিখনীর জবাবে সানাউল্লাহ সাহেব লিখেন “মির্যায়ীগন! যদি সত্যবাদী হও তো আস নিজের জামা’তকে সাথে নাও। সেই ঈদগাহ মাঠ প্রস্তুত রয়েছে। যেখানে একদা তোমরা সূফী আব্দুল হক গজনবীর সাথে মোবাহালা করে ঐশী লাঞ্চনা সহ্য করেছ। যদি অমৃতসরে না হয় তাহলে বাটালায় আস। সবার সম্মুখে প্রমাণিত হবে। কিন্তু ফলাফলের বিস্তারিত ও ব্যাখ্যা কাদিয়ানির কৃশ্নের সাথে প্রথমে করিয়ে দাও। তাকে আমাদের সম্মুখে নিয়ে আস। যিনি আমাদেরকে ‘আনজামে আথম’ পুস্তকে মোবাহালার জন্য দাওয়াত দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও মৌলভী সাহেবের এটা বলা যে, আমি মোবাহালার কথা বলিনি যেরূপ অহেতুক ও মিথ্যা তা বর্ণনার যোগ্য নয়। এটা তো সত্য সে মন থেকে কখনো মোবাহালার জন্য প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু নিজের সমমনাদের ধোকা দেয়ার জন্য সে অবশ্যই সে মোবাহালার জন্য প্রস্তুত এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। যদি এই উদ্দেশ্য না হয় তাহলে সে এটা কি কারনে লিখেছে, “অমৃতসরের সেই ঈদগাহ মাঠ যেখানে তোমরা সূফী আব্দুল হক গযনবীর সাথে মোবাহেলা করে ঐশী লাঞ্চনার শিকার হয়েছ। আর তাঁকে আমাদের সম্মুখে আন যিনি আমাদেরকে আনজামে আথম পুস্তকে মোবাহেলার জন্য দাওয়াত দিয়েছেন।

যাই হোক মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবের উপরের বর্ণনা যা তিনি ২ মার্চ ১৯০৭ইং আহলে হাদীস পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন। হযরত আকদাস জানতে পারার পর হুযূর মুফতী মোহাম্মদ সাদেক সাহেবকে এটার জবাব দেয়ার জন্য দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। হযরত মুফতী সাহেব লিখেন,

মোবাহেলার জন্য মৌলভী সানাউল্লাহ অমৃতসরীর চ্যালেঞ্জ গ্রহন করা হয়েছে।হযরত মসীহ মাওউদ (আঃ)’র নির্দেশে লিখা হয়েছে।”
এই বিষয়ের নীচে প্রথমে মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবের লিখনীকে নকল করা হয়েছে। তারপর নিজেদের জবাব লিখে দেয়া হয়েছে। জবাব যেহেতু অনেক বিস্তারিত তাই আমরা এখানে কেবল সার সংক্ষেপ উপস্থাপন করছি। তা হচ্ছে এই,

এই প্রবন্ধের জবাব, মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবকে সুসংবাদ দিচ্ছি হযরত মির্যা সাহেব তার এই চ্যালেঞ্জকে গ্রহন করেছেন। সে নিঃসন্দেহে কসম খাক যে এই ব্যক্তি নিজের দাবীতে মিথ্যাবাদী আর অবশ্যই এটা বলুক যদি আমি এই কথায় মিথ্যাবাদী হই তাহলে লানাতুল্লাহে আলাল কাযেবিন। এটা ছাড়াও তার অধিকার আছে নিজের মিথ্যাবাদী হওয়ার ব্যাপারে ধ্বংসের জন্য যা খুশি খোদার শাস্তি নিজের জন্য যাচনা করুক। কামনা করুক।

হযরত আকদাস পুনরায় তার প্রতি রহম করে বলেন এই মোবাহেলা কয়েকদিন পরে হোক। যখন আমাদের পুস্তক হাকীকাতুল ওহী ছাপানোর পর প্রকাশিত হয়ে যাবে। সেই পুস্তকের সাথে আমাদের পক্ষ থেকে একটি ইস্তেহারও থাকবে। যাতে আমরা এটা প্রকাশ করে দিব আমরা মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবের চ্যালেঞ্জ গ্রহন করেছি। আমরা প্রথম কসম খাচ্ছি যে, সেই পুস্তকে আমরা যে সকল ইলহামসমূহ লিপিবদ্ধ করেছি সেগুলো খোদার পক্ষ থেকে। যদি আমাদের পক্ষ থেকে বানানো হয় তাহলে লানাতুল্লাহে আলাল কাযেবীন। অনুরূপ মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবও যেন এই ইস্তেহার ও পুস্তক পাঠের পর একটি ছাপানো ইস্তেহারের মাধ্যমে কসম সহকারে এটা লিখে দেন, আমি সেই পুস্তকের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়েছি আর সেটাতে যে সকল ইলহাম রয়েছে তা খোদার পক্ষ থেকে নয় এবং মির্যা গোলাম আহমদ সাহেবের নিজের বানানো। যদি আমার কথা মিথ্যা হয় তাহলে লানাতুল্লাহি আলাল কাযেবীন। সেই সাথে সে নিজের জন্য খোদার পক্ষ থেকে যা ইচ্ছা শাস্তি কামনা করুক। এই ইস্তেহার প্রকাশিত হওয়ার পর খোদাতা’লা স্বয়ং ফয়সালা করে দিবেন এবং সত্য ও মিথ্যাবাদীর মাঝে প্রার্থক্য করে দেখিয়ে দিবেন।

আমরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখি যদি মৌলভী সানাউল্লাহ কোন প্রতারণা না করে নিজের উপর থেকে সেই মোবাহেলাকে টলিয়ে না দেয় তাহলে খোদাতা’লা অবশ্য অবশ্যই দেখাবেন। তিনি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পুরো প্রার্থক্য করে দিবেন। আমাদের বিশ্বাস এখন মৌলভী সানাউল্লাহ তার নিজের প্রস্তাবিত মোবাহেলা থেকে পলায়নের রাস্তা অন্বেষন করার কোন প্রয়োজন অনুভব করবেন না। মৌলভী সাহেব যা কিছু লিখেছিল। হযরত মুফতী সাহেব সেটার যথেষ্ট জবাব দিয়ে দিয়েছেন। এই সুযোগও দিয়েছেন যে মোবাহেলা লিখিতও হতে পারে। কিন্তু মৌলভী সানাউল্লাহ শুধুমাত্র লোকদের দেখানোর জন্য নিজের লিখনীতে এই শব্দও লিখে দিয়েছিল,

মির্যায়ীগণ! সত্যবাদী হলে আস! নিজের জামা’তকেও সাথে নাও অমৃতসরের সেই ঈদগাহ মাঠ প্রস্তুত রয়েছে। যেখানে তোমরা সূফী আব্দুল হক গযনবীর সাথে মোবাহালা ঐশী লাঞ্চনা সহ্য করেছ”।

এ কারনে হযরত মুফতী সাহেব সেটার ব্যাপারেও প্রস্তাব প্রেরণ করেন।

“কিন্তু যদি আপনি এ বিষয়ে রাজি থাকেন, সামনাসামনি দাঁড়িয়ে মৌখিক মোকাবেলা হোক তাহলে আপনি কাদিয়ান আসতে পারেন। নিজের সাথী হিসাবে দশজনকে সাথে আনতে পারেন। আপনার এখানে আসার রাস্তার খরচ ও মোবাহেলা করার পর পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত প্রদান করতে পারি। কিন্তু এই বিষয় আবশ্যকীয় হবে যে, মোবাহালা করার পূর্বে উভয়ের মাঝে শর্ত সমূহ লিখিত হবে। মোবাহেলার শব্দসমূহ লিখার পরে সেটাতে উভয়ে ও তাদের সাথীদের স্বাক্ষী হিসাবে স্বাক্ষর হতে হবে।

হযরত আকদাসের পক্ষ থেকে মুফতী মোহাম্মদ সাদেক সাহেবের এই জবাবের পরে মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবের পক্ষ থেকে ১২ এপ্রিল ও ১৯ এপ্রিল ১৯০৭ইং এর পত্রিকায় যাতে এক সাথে ১২ এপ্রিল ১৯০৭ইং এর টিও প্রকাশিত হয়েছিল। সেটাতে মৌলভী সাহেব পুনরায় লিখেন,

“আমি আপনাদের মোবাহেলার জন্য আহ্বান করি নি। আমি কসম খাওয়ার কথা বলেছি। আপনারা সেটাকে মোবাহেলা বলছেন। বরং মোবাহেলা তো উভয়ে সম্মুখে কসম খাওয়াকে বলা হয়। আমি তো প্রতিজ্ঞার কথা বলেছি মোবাহেলার কথা নয়। কসম পৃথক জিনিস আর মোবাহেলা আলাদা বিষয়”।

যখন মৌলভী সাহেবের নিজের লিখনীতে বারবার একই অযৌক্তিক কথার পুনরাবৃত্তি করার ফলে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তিনি মোবাহেলার প্রবণতা তো প্রকাশ করতে থাকবেন। কিন্তু মোবাহেলার ময়দানে কখনো আসবেন না। তো তাকে হাকীকাতুল ওহী প্রেরণ করা জরুরী মনে না করে হযরত আকদাস নিজের পক্ষ থেকে“মৌলভী সানাউল্লাহকে সাথ আখেরী ফয়সালাহ” শিরোনামে মোবাহেলার দোয়া প্রকাশ করে দেন। এটা চেয়েছেন, মৌলভী সাহেব জবাবস্বরূপ সেই লিখনীর নীচে নিজের পক্ষ থেকে যা খুশি মোবাহেলার দোয়া স্বরূপ লিখে নিজের পত্রিকায় প্রকাশ করে দিক। সুতরাং হযরত আকদাসের সেই দোয়া নিম্নে বর্ণিত হল:

“মৌলভী সানাউল্লাহ কে সাথ আখেরী ফয়সালাহ”

বরাবর,

মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেব। আসসালামু আলা মানিতাবেয়াল হুদা (যে হেদায়েতের অনুসরন করে তার প্রতি শান্তি- অনুবাদক)

দীর্ঘদিন থেকে আপনার আহলে হাদীস পত্রিকায় আমার মিথ্যাবাদী ও নাফরমানের বিষয়টি জারি রয়েছে। সর্বদা আপনি আমাকে নিজের পত্রিকায় মুরতাদ, কায্যাব, দাজ্জাল ও মুফছেদ নামে অভিহিত করতেন। মানুষের মাঝে আমার ব্যাপারে প্রচার করতেন, এই ব্যক্তি মিথ্যা রটনাকারী, কায্যাব দাজ্জাল এবং এই ব্যক্তির মসীহ মাওউদের দাবী সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি আপনার পক্ষ থেকে অনেক কষ্ট পেয়েছি এবং ধৈর্য্য ধারণ করেছি। কেননা আমি চিন্তা করেছি আমি সত্যের প্রচারের জন্য প্রত্যাদিষ্ট। আপনি আমার প্রতি অনেক মিথ্যা আরোপ করে পৃথিবীবাসীকে আমার দিকে আসতে বাধা দিচ্ছেন। আর আমাকে সেই সকল গালি ও সেই সকল অপবাদ এবং ঐ সকল শব্দ দ্বারা স্মরন করতেন যা থেকে কষ্টদায়ক আর কোন শব্দ হতে পারে না। যদি আমি এরূপই কাযযাব ও মিথ্যারটনাকারী হই যেমন কিনা আপনি আপনার পত্রিকায় প্রায় সময় প্রকাশ করেন তাহলে আমি আপনার জীবদ্দশাতেই ধ্বংস হয়ে যাবো। কেননা আমি জানি মুফসেদ ও কাযযাব দীর্ঘ জীবন পায় না। পরিশেষে তারা লাঞ্চিত ও পরিতাপের সাথে নিজের শত্রুদের জীবদ্দশাতেই ধ্বংস হয়ে যায়। তার ধ্বংস হওয়াই তার জন্য ভাল হয় যেন খোদার বান্দাদের ধ্বংস না করে। যদি আমি কাযযাব ও মিথ্যারটনাকারী না হই এবং খোদার বাক্য সম্ভাষন দ্বারা সম্মানীত হই ও মসীহ মাওউদ হই। তাহলে আমি খোদার ফযলে আশা রাখি আল্লাহর সুন্নত অনুযায়ী আপনি মিথ্যাবাদীর শাস্তি থেকে রক্ষা পাবেন না। সুতরাং সেই শাস্তি যা মানুষের হাতে নয় বরং খোদার হাতে যেমন: প্লেগ, কলেরার ন্যায় রোগ আপনার উপর আমার জীবদ্দশাতেই না হয় তাহলে আমি খোদাতা’লার পক্ষ থেকে নই। এটা কোন ওহী ইলহামের আলোকে ভবিষ্যদ্ধানী নয়। বরং খোদার মাধ্যমে আমি খোদার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত চাচ্ছি। আমি খোদার কাছে দোয়া করছি হে আমার খোদা! সর্বদ্রষ্টা ও সর্বশক্তিমান যিনি সর্বদা ও সবজান্তা যিনি আমার হৃদয়ের অবস্থা জানেন। যদি এই মসীহ মাওউদ হওয়ার দাবী শুধু আমার নিজের মিথ্যারটনা ও আমি তোমার দৃষ্টিতে মুফছেদ ও কাযযাব হই এবং রাত দিন মিথ্যারটনা করাই আমার কাজ হয়। তাহলে হে আমার প্রিয় খোদা! আমি বিনয়ের সাথে তোমার নিকট দোয়া করছি, মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবের জীবদ্দশাতেই আমাকে ধ্বংস করে দাও। আমার মৃত্যুতে তাকে এবং তার দলকে আনন্দিত করে দাও। আমীন। আমার কামেল ও সত্যবাদী খোদা! মৌলভী সানাউল্লাহ আমার প্রতি যে সকল অপবাদ আরোপ করে যদি তাতে সে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত না থাকে তাহলে আমি বিনয়ের সাথে তোমার নিকট দোয়া করছি আমার জীবদ্দশাতেই তাকে ধ্বংস করে দাও। কিন্তু মানুষের হাত দ্বারা নয় বরং প্লেগ, কলেরা ও এ ধরনের রোগ দ্বারা আক্রান্ত কর। কেবল এই অবস্থা ব্যতীত যে, সে পরিস্কারভাবে আমার ও আমার জামাতের সম্মুখে এ সকল গালি সমূহ ও মন্দ কথা থেকে তওবা করে। যেটাকে সে মর্যাদাশীল মনে করে সর্বদা আমাকে দুঃখ দিত। আমিন ইয়া রাব্বাল আলামিন।

আমি তার হাত দ্বারা অনেক কষ্ট পেয়েছি কিন্তু ধৈর্য্য ধারন করেছি। কিন্তু এখন আমি দেখছি তার মন্দ কথা সীমাতিক্রম করেছে। সে আমাকে চোর ও ডাকাতের থেকেও নীচ মনে করে। যাদের অস্তিত্ত্ব পৃথিবীবাসীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারন। সে এই অপবাদ সমূহে ও মন্দ কথায় ”লা তাকফু মা লাইসা লাকা বিহী ইলমুন” এর উপরও আমল করেনি এবং আমাকে সমস্ত পৃথিবী থেকে নীচ মনে করেছে। দূর দূরান্তের দেশ সমূহে পর্যন্ত এটা প্রচার করেছে এ ব্যক্তি আসলে মুফসেদ, ঠক ব্যবসায়ী, মিথ্যাবাদী, মিথ্যা রটনাকারী এবং অত্যন্ত জঘন্য ব্যক্তি। সুতরাং এরূপ কথা যদি সত্য সন্ধানীদের উপর কোন প্রভাব না ফেলত তাহলে আমি এই অপবাদ সমূহের ব্যাপারে ধৈর্য্য ধারন করতাম। কিন্তু আমি দেখি মৌলভী সানাউল্লাহর এই অপবাদ সমূহ দ্বারা আমার জামা’তকে ধ্বংস করতে চায় এবং এই আপবাদ ভূমিতে বিরাজ করতে চায়। হে আমার প্রভূ ও আমাকে প্রেরণকারী খোদা যা তুমি নিজ হাতে বানিয়েছ। এর কারনে আমি এখন তোমারই পবিত্রতা ও রহমতের হাত ধরে তোমারই নিকট আবেদনকারী, আমার এবং সানাউল্লাহর মাঝে সত্যের ফয়সালা করে দাও। যে তোমার নিকট প্রকৃতই মুফসেদ ও মিথ্যাবাদী তাকে সত্যবাদীর জীবদ্দশাতেই পৃথিবী থেকে তুলে নাও। অথবা অন্য কোন কঠিন বিপদে যা মৃত্যুর সমতুল্য তাতে নিমজ্জিত কর। হে আমার প্রিয় খোদা তুমি এরুপই কর। আমিন সুম্মা আমিন।

”রাব্বানাফতাহ ওয়া বাইনা কাউমিনা বিল হাক্কে ওয়া আনতা খাইরুল ফাতেহীন” আমীন।

পরিশেষে মৌলভী সাহেবের নিকট অনুরোধ তিনি আমার এই প্রবন্ধটি নিজের পত্রিকায় ছাপিয়ে দিন আর যা ইচ্ছা সেটার নিচে লিখে দিন।

এখন ফয়সালা খোদার হাতে”

লেখক: আব্দুল্লাহ ওয়া আইয়্যাজ

রোজ ১৫ই এপ্রিল ১৯০৭ ইং ১লা রবিউল আউয়াল ১৩২৫ হিজরী।/

হযরত আকদাসের মোবাহেলার এই দোয়া প্রকাশিত হওয়ার পর সুবিচারের দৃষ্টিতেও লজ্জা শরম থাকলে সেও নিজের মোবাহেলার দোয়া সেটার নিচে সংযুক্ত করে নিজের পত্রিকায় প্রকাশ করে দিত। হযরত আকদাস যেভাবে সিদ্ধান্ত খোদার উপর ছেড়ে দিয়েছেন মৌলভী সাহেবও সেভাবে সিদ্ধান্ত খোদার উপর ছেড়ে দিতো। কিন্তু তার এ সাহস কিভাবে হতে পারে, প্রথম থেকেই দুমুখী ভাব অবলম্বন করে আসছে। এখনো সেটাই সে অবলম্বন করেছে। হযরত আকদাসের লিখনী এক কপি করে নিজের পত্রিকায় ২৪ এপ্রিল ১৯০৭ইং সর্বপ্রথম নিজের এসিসটেন্ট এডিটর দ্বারা এটা লিখিয়েছে,

“আপনি এই দাবীতে কোরআন শরীফের স্পষ্ট বিরোধী কথা বলছেন, কোরআন তো বলে, খারাপ লোকদের খোদার পক্ষ থেকে অবকাশ দেয়া হয়।

শুনুন! ” মান কানা ফিয যালালাতে ফালইয়ামদুদ লাহুর রহমানু মুদ্দান। ওয়া ইন্নামা নুমলী লাহুম লেইয়াযদাদু ইসমান এবং ইয়ামুদ্দুহুম ফিতুগইয়ানিহীম ইয়ামাহুন। এ আয়াতসমূহ তোমাকে দাজ্জাল বলে সাব্যস্ত করে। আরো শুনুন! ” বাল মাত্তা’না হাউলায়ে ওয়া আবায়াহুম হাত্তা ত্বালা আলাইহিমুল উমুর”

এটার স্পষ্ট অর্থ হচ্ছে খোদাতা’লা মিথ্যাবাদী, ধোকাবাজ, বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী, অবাধ্য লোকদেরকে দীর্ঘ আয়ু প্রদান করেন যেন তারা সেই সুযোগে আরো মন্দ কাজে লিপ্ত হয়। তাহলে কিভাবে তুমি মনগড়া নিয়ম বল, এরূপ লোকেরা দীর্ঘ আয়ু পায় না। কেননা দাবী তো খোদার পক্ষ থেকে মসিহ কৃষ্ণ ও মোহাম্মদ আহমদ। কোরআনের মাপকাঠিতে এ যোগ্যতা? ” যালিকা মাবলাগুহুম মিনাল ইলমে” এসিষ্টেন্ট অডিটর।”

এই লিখনীর ব্যাপারে আহলে হাদীস পত্রিকা ৩১ জুলাই ১৯০৭ইং লিখে, “আমি সেটাকে সঠিক জানি”। উপরে বর্নিত নায়েব অডিটরের এই লিখনী মিথ্যাচারীতা ও প্রতারনা বৈ ছাড়া কোন সত্যতা রাখে না। কেননা এই আয়াতে তো আল্লাহর প্রতি মিথ্যা রটনাকারীর দীর্ঘ জীবন লাভের কথা বলা হয় নি বরং এটা ছাড়া যে মিথ্যাবাদী এবং কাযেবের কথা আছে।

হযরত আকদাস আল্লাহর প্রতি মিথ্যা রটনাকারীর দীর্ঘ জীবন না লাভ করার উল্লেখ করেছেন। এ দুটির মাঝে প্রার্থক্য তো স্পষ্ট। এখানে এটা উল্লেখেরও দাবী রাখে, এসিসটেন্ট সম্পাদকের এরূপ লিখার কি উদ্দেশ্য? মৌলভী সানাউল্লাহ সেটার সমর্থন কি উদ্দেশ্যে করেছে? তো জানা যায়, দুইজনের হৃদয়ে এই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যদি মোবাহেলায় রত হই তাহলে মৌলভী সানাউল্লাহ অবশ্যই প্রথমে মারা যাবে। তখন তাদের এটা বলার সুযোগ হবে, মিথ্যাবাদীকে দীর্ঘায়ু দেয়া এটা তো আমরা পূর্বেই লিখেছি। যদি মোবাহেলার সুযোগ না আসে তার (হযরত আকদাস) মির্যা সাহেব প্রথমে মৃত্যুবরণ করেন তাহলে আমরা বলব এটা একতরফা বদদোয়া করার পরিণাম। তারপর মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেব স্বয়ং হযরত আকদাসের লিখনী মোবাহেলা সংক্রান্ত দোয়ার নীচে নিজের মোবাহেলার দোয়া লিখার পরিবর্তে অভিশাপ গালিগালাজ, মন্দভাষা, কষ্টদায়ক কথা অহেতুক কথা, প্রতারণা দ্বারা পরিপূর্ণ একটি লিখনী লিপিবদ্ধ করে। আমরা তার প্রতারণা ও অযথা কথাকে ছেড়ে দিয়ে সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি লিপিবদ্ধ করছি:

১) প্রথমত সেই দোয়ার অনুমতি আমার কাছ থেকে নেয়নি এবং অনুমতি ব্যতিত সেটাকে প্রকাশ করে দিয়েছেন।

২) তোমার এই লিখনী কোন ভাবেই সিদ্ধান্তকারী হতে পারে না।

৩) আমার প্রতিযোগীতা তো আপনার সাথে। যদি আমি মৃত্যুবরণ করি। তাহলে আমার মৃত্যুতে অন্যদের জন্য কি দলিল হবে।”

৪) খোদার রসূল যেহেতু রহীম ও করীম হোন আর তাঁর সর্বদা এই মনোবাসনা থাকে যেন কোন ব্যক্তি ধ্বংস না হয়। কিন্তু এখন তাহলে আপনি কেন আমার মৃত্যুর জন্য দোয়া করছেন।

৫) খোদাতা’লা মিথ্যাবাদী, প্রতারক, মুফসেদ ও অবাধ্য লোকদেরকে দীর্ঘ জীবন দিয়ে থাকেন। যেন সে সেই সময়ে আরো মন্দ কাজ করতে পারে।

নোট: এই শেষ লাইন এসিসটেন্ট সম্পাদকের পক্ষ থেকে লিখা হয়েছে। কিন্তু মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেব সেটার সত্যায়ন করে এবং লিখে “আমি এটাকে সঠিক মনে করি।”

৬) সংক্ষিপ্ত হচ্ছে- তোমার এই পত্র আমার নিকট গ্রহণীয় নয়। আর না কোন বুদ্ধিমান এটাকে গ্রহন করতে পারে।

এরপর মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেব লিখেন:

৭) আঁ হযরত (সাঃ) সত্য নবী হওয়া সত্ত্বেও মুসায়লামা কায্যাবের পূর্বে ইন্তেকাল করেন। আর মুসায়লামা মিথ্যাবাদী হওয়া সত্ত্বেও পরে মৃত্যুবরন করে।

৮) যে এরূপ নিদর্শন দেখাও যা থেকে আমরাও শিক্ষা নিতে পারি। মরে গেলে কি দেখব আর কি হেদায়েত পাব।

কেননা যেহেতু মৌলভী সানাউল্লাহ নিজের পুরনো অভ্যাস অনুযায়ী মোবাহেলা থেকে পলায়নের পথ অবলম্বন করেছেন এ কারনে মোবাহেলা হয় নি। বর্ণিত মৌলভী সাহেবকে খোদাতা’লা তার নিজের সমর্থীত নিয়মের আলোকে “মিথ্যাবাদী, প্রতারক, মুফসেদ ও অবাধ্য লোকদের মত দীর্ঘ জীবন দান করেন। যেন সে এই সুযোগে আরো মন্দ কাজ করে।

যদি সে দুঃসাহস দেখিয়ে মোবাহেলা করত তাহলে অবশ্যই সে হযরত আকদাসের পূর্বে মারা যেত। কিন্তু যেহেতু সে নাজরানের খৃষ্টানদের ন্যায় মোবাহেলা থেকে পলায়ন করেছে! এ কারনে সে হুযূরের জীবদ্দশাতে মৃত্যু থেকে বেঁচে গেছে।

সুতরাং যেভাবে সেখানে নাজরানের খৃষ্টানদের পলায়ন ‘খোদার ফয়সালা বারদে মোবাহেলা’ এর রাস্তায় প্রতিবন্ধকতর কারন হয়েছে। অনুরূপভাবে এখানেও মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবের পলায়ন তাকে ধ্বংস থেকে রক্ষা করেছে।

হযরত আকদাসের ইসতেহারের পান্ডুলিপি মোবাহেলা ছিল না এই আপত্তির উত্তর: মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেব ও অন্যান্য বাধাদানকারীরা হযরত আকদাসের মৃত্যুর কিছুদিন পর মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেবের মোবাহেলা থেকে পলায়নের বিষয়কে ঢাকার জন্য এটা বলা আরম্ভ করে দেয় হযরত আকদাসের দোয়া “দোয়ায়ে মোবাহেলা ছিল না। কিন্তু এই আপত্তি নিম্নের কারণগুলোর আলোকে ভুল প্রমানীত হয়:

প্রথম:স্বয়ং মৌলভী সানাউল্লাহ ইস্তেহারের প্রকাশনায় দোয়ায়ে মোবাহেলা” ই মনে করেছে। তা না হলে নিম্নে অস্বীকারের কথা লিখার কি প্রয়োজন ছিল। বিশেষভাবে একতরফা দোয়ার গ্রহণীয়তার ঘোষনা তো অবশ্যই অযৌক্তিক ছিল।

দ্বিতীয়ত:মৌলভী সানাউল্লাহ সাহেব হযরত আকদাসের মৃত্যুর একমাস পরে লিখে,

“কাদিয়ানের কৃষ্ণ ১৫ এপ্রিল ১৯০৭ইং আমার সাথে মোবাহেলার ইস্তেহার প্রকাশ করেছিলেন।”

তৃতীয়: হযরত আকদাসের ইস্তেহারের শিরোনাম হচ্ছে “মৌলভী সানাউল্লাহ কে সাথ আখেরী ফয়সালাহ “মৌলভী সানাউল্লাহ কে মুতায়াল্লেক আখেরী ফয়সালাহ” নয়। আর কোন ব্যক্তির সাথে শেষ ফয়সালার উদ্দেশ্য সর্বদাই হতে পারে। কিন্তু যতক্ষন পর্যন্ত দুইজন সম্মিলিতভাবে কোন ফয়সালার পদ্ধতিকে গ্রহন না করে। কোন সিদ্ধান্তই ফলাফলের রূপ নিতে পারে না।

উল্লেখিত ঘটনাবলী থেকে স্পষ্ট যে, হযরত আকদাস “মৌলভী সানাউল্লাহ কে সাথ আখেরী ফয়সালা” নামক ইস্তেহারে নিজের পক্ষ থেকে দোয়ায়ে মোবাহেলাই প্রকাশ করেছিলেন। মৌলভী সাহেবও সেটাকে দোয়ায়ে মোবাহেলা মনে করেই মোকাবেলা দোয়ায়ে মোবাহালা প্রকাশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল।

প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বলেন: “এটা কোথায় লিখা আছে মিথ্যাবাদী সত্যবাদীর জীবদ্দশাতেই মারা যায়। আমরা তো এটা লিখেছি মোবাহেলাকারীর মধ্য থেকে যে মিথ্যাবাদী সে সত্যবাদীর জীবদ্দশাতেই মারা যায়। হযরত রসূল করিম (সা) র জীবদ্দশায় কি তার সকল শত্রু ইন্তেকাল করেছিল। হাজার হাজার বিরুদ্ধবাদী তার মৃত্যুর পরে জীবিত থাকে। হা মিথ্যা মোবাহেলাকারী সত্যবাদীর জীবদ্দশায় মারা যায়। অনুরুপভাবে আমার বিরুদ্ধবাদীও আমার ইন্তেকালের পরে জীবিত থাকবে। আমরা তো এ ধরনের কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে যাই। দেখ! আমাদের কথাকে কেমন বিকৃত করে উপস্থাপন করে। সে কথাকে উল্টানোর কাজে ইহুদীদেরও কান কেটে দিয়েছে। (হায়াতে তাইয়েবা, দ্বিতীয় খণ্ড)

অনুবাদ: মাওলানা জাফর আহমদ”