আপত্তিঃ মির্যা সাহেব হিন্দুদের ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলেন


আপত্তি: মির্যা নাকি হিন্দুদের উপাস্যকে জঘন্য অশ্লীল ভাষায় উল্লেখপূর্বক হিন্দুদের ক্ষেপিয়ে দিয়েছিলেন যার কারণে তারা রসূল(সা.) অবমাননায় উঠেপড়ে লেগেছিল। এরই ফলে নাকি হিন্দুরা ‘রঙ্গিলা রসুল’ নামে বই রচনা করেছে!

জবাব: সুধী পাঠক, নকল করতেও বুদ্ধি লাগে। একইভাবে মিথ্যা কথা বলতেও মৌলিক সাধারণ জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। যেভাবে ‘আল্লামা’ বলেছেন, ঘটনা আদৌ সেভাবে ঘটে নি। যার ইতিহাস সম্বন্ধে সামান্য জ্ঞানও আছে সে জানে,’রঙ্গিলা রসূলের’ লেখক ১৯২৪ সালে এই জঘন্য পুস্তিকা রচনা করে এবং এর ফলে মুসলমানদের আবেগ অনুভূতিতে চরম আঘাত লাগে এবং একজন বিভ্রান্ত মুসলমান সেই আবেগ সহ্য করতে না পেরে তাকে হত্যাও করে ফেলে।

পাঠক, মির্যা সাহেব ১৯০৮ সালে ইন্তেকাল করেন আর ‘রঙ্গিলা রসূল’ লেখা হয় ১৯২৪ সালে। অতএব ইতিহাস প্রমাণ করে মির্যা সাহেবের লেখার প্রতিক্রিয়ায় আদৌ ‘রঙ্গিলা রসূল’-এর রচনা হয় নি। এটি ইসলাম বিদ্বেষীদের পরবর্তী সময়ের অপকর্ম। অতএব আল্লামা আব্দুল মজিদের ইতিহাস বিষয়ে পাণ্ডিত্য এখন সর্বজন বিদিত!

আরও আশ্চর্যের বিষয় হল, যে বিষয়টি অপরাধ হিসেবে হযরত মির্যা সাহেবের প্রতি আরোপ করা হয়েছে সেটি আদৌ মির্যা সাহেবের কথাই নয়। বরং এই কুরুচীপূর্ণ বিশ্বাস আর্য-সমাজীরাই লালন করত। একথাই মিযা সাহেব লিখেছেন। মির্যা সাহেব একাধারে আর্যদের অযৌক্তিক বক্তব্য খণ্ডন করে শেষে এসে বলেছেন, অত্যন্ত নোংরা ও লজ্জাকর একটি শিক্ষা তারা লালন করে আর তাদের সেই শিক্ষা হলপরমেশ্বর নাকি নাভীর দশ আঙ্গুল নিচে অবস্থিত!” (রূহানী খাযায়েন, চশমায়ে মারেফাত পৃষ্ঠা-১১৪)

যেস্থলে মির্যা সাহেব নিজে বলছেন এটি লজ্জাকর ও নোংরা একটি বিশ্বাস সেক্ষেত্রে ‘আল্লামা’ আব্দুল মজিদ সাহেব কীভাবে এটিকে তার বক্তব্য হিসাবে উপস্থাপন করতে পারেন? এটি প্রকাশ্য খেয়ানত বই কিছুই নয়।

‘আল্লামা’ বিষয়টির সত্যাসত্য জানেন না এটা সঠিক নয়। তিনি বিজ্ঞ প্রাজ্ঞ আলেম, উর্দু আরবীর জ্ঞান রাখেন। তিনি নিশ্চয় পড়েই আপত্তি করেছেন। তাই এই চাতুরী থেকে বোঝা যায় তিনি তার পূর্বসূরিদের মতই জনগণকে উস্কে দেয়ার জন্য এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এমন আপত্তি উত্থাপন করেছেন।

অন্যান্য উত্তর