আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বিভিন্ন সময়ে তাঁর চিঠিপত্র এবং এম.টি.এ (MTA)-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি ও অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্কে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন তার মধ্য হতে কিছু বিষয় সর্বসাধারণের কল্যাণার্থে আল ফজল ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংকলক - জহির আহমদ খান, লন্ডনস্থ প্রাইভেট সেক্রেটারী অফিসের রেকর্ড বিভাগ | ভাষান্তর – আহমদ তারেক মুবাশ্বের

এসব নির্দেশনা ওয়েবসাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

১২ই অক্টোবর, ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার ওয়াক্‌ফে নও মেয়েদের উক্ত অনুষ্ঠান গুলশানে ওয়াক্‌ফে নও- এ একটি মেয়ে হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর সমীপে প্রশ্ন করে যে, আমরা কোন্ বয়সে রমযান মাসের রোযা রাখা শুরু করবো?


এই প্রশ্নের উত্তরে হুযূর আনোয়ার (আই.) বলেন, “রোযা তোমার জন্য তখন ফরয হবে যখন তোমরা পুরোপুরি ম্যাচিউর বা পরিণত বয়সে পৌঁছুবে। তুমি যদি শিক্ষার্থী হও আর তোমার পরীক্ষা চলতে থাকে তাহলে সেদিনগুলোতে যদি তোমার বয়স তের, চৌদ্দ বা পনের বছর হয় তাহলে তুমি রোযা রাখবে না। (আর) যদি তুমি সহ্য করতে পারো তাহলে পনের-ষোলো বছর বয়সে রোযা রাখতে পারো। কিন্তু, সাধারণত, ফরয রোযা সতের-আঠারো বছর বয়সে ফরয বা আবশ্যক হয়, এরপর অবশ্যই রোযা রাখা উচিত। এছাড়া, শখ করে কেউ যদি একটি, দু’টি, তিনটি বা চারটি রোযা রাখতে চায় তাহলে আট-দশ বছর বয়সেও রাখতে পারো, কিন্তু তোমাদের জন্য (রোযা রাখা) ফরয বা বাধ্যতামূলক নয়। তোমরা যখন বড় হবে তখন তোমাদের জন্য রোযা ফরয হবে, যখন রোযা রাখার কষ্ট সহ্য করতে পারবে। (এখানে অস্ট্রেলিয়াতে- সংকলক) বিভিন্ন ঋতুতে সময়ের কতটা ব্যবধান হয়? দিনের আলো কত ঘণ্টা থাকে? সেহেরী এবং ইফতারীর মধ্যে কত ঘণ্টার ব্যবধান হয়? বারো ঘণ্টা আর গ্রীষ্মকালে তা কত ঘণ্টা হয়? (দিন) উনিশ ঘণ্টা হয় কি? হ্যাঁ, তোমরা উনিশ ঘণ্টা ক্ষুধার্ত থাকতে পারবে না। যুক্তরাজ্যেও বর্তমানে, গত যে গ্রীষ্মকাল ছিল তখন তোমাদের রোযার দিন ছোট ছিল আর সেখানে রোযার দিন অনেক দীর্ঘ ছিল। সাড়ে আঠারো ঘণ্টা রোযা রাখতে হতো। সুইডেন প্রভৃতি দেশে বাইশ ঘণ্টার রোযা হয়। সেখানে তো সময়কে এডজাস্ট বা সামঞ্জস্য করতে হয়। কেননা, এত দীর্ঘ সময়ও রোযা রাখা সম্ভব নয়। কিন্তু, যখন তোমরা প্রাপ্তবয়স্কা হবে তখনই (রোযার কষ্ট) সহ্য করতে পারবে। কমপক্ষে সতের-আঠারো বছরের হলে তখন ঠিক আছে, তখন রোযা রাখো। বুঝতে পেরেছ? তোমার আব্বা-আম্মা কী বলেন, দশ বছর বয়সে তোমার জন্য রোযা ফরয হয়ে গেছে? কিন্তু, অভ্যাস রপ্ত করার চেষ্টা করো। অল্প বয়স্কদেরও প্রতিবছর দু’-তিনটি রোযা রাখা উচিত, যাতে সে বুঝতে পারে যে, রমযান আসছে। কিন্তু, রোযা না রাখলেও প্রভাতে উঠো এবং বাবা-মায়ের সাথে সেহেরী খাও। নফল নামায পড়ো, নিয়মিত সব নামায পড়ো। তোমাদের, শিক্ষার্থীদের এবং অল্প বয়স্কদের রোযা এটিই যে, রমযানে প্রভাতে অবশ্যই ওঠো এবং সেহেরী খাও। অভ্যাস করো আর এর পূর্বে দু’-চার রাখাত নফল নামায পড়ো। এরপর অন্যান্য নামায নিয়মিত পড়ো। নিয়মিত পবিত্র কুরআন পাঠ করো।”

আল্ ফযল ইন্টারন্যাশনাল (https://www.alfazl.com/2020/11/01/23968/)

রমযান