আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বিভিন্ন সময়ে তাঁর চিঠিপত্র এবং এম.টি.এ (MTA)-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি ও অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্কে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন তার মধ্য হতে কিছু বিষয় সর্বসাধারণের কল্যাণার্থে আল ফজল ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংকলক - জহির আহমদ খান, লন্ডনস্থ প্রাইভেট সেক্রেটারী অফিসের রেকর্ড বিভাগ | ভাষান্তর – আহমদ তারেক মুবাশ্বের

এসব নির্দেশনা ওয়েবসাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

১২ই অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার গুলশানে ওয়াক্‌ফে নও অনুষ্ঠানে একটি মেয়ে হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর সমীপে জিজ্ঞেস করে যে, মেয়েদের কোন্ বয়সে স্ক্যার্ফ বা ওড়না পরা উচিত?


হুযূর আনোয়ার (আই.) এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বলেন, “যখন তোমার বয়স পাঁচ বছর হয়ে যাবে তখন লেগিংস (তথা পায়জামা) ছাড়া তোমার ফ্রক পরা উচিত হবে না। তোমার পা আবৃত থাকা উচিত যাতে তুমি অনুভব করো যে, ধীরে ধীরে আমাদের যে পোশাক আছে তা দিয়ে আমাদের শরীরকে আবৃত করতে হবে। হাতাবিহীন ফ্রক পরা উচিত নয়। এরপর যখন ছয়-সাত বছরের হয়ে যাবে তখন লেগিংস (তথা পায়জামা) পরার ক্ষেত্রে আরো সাবধান হতে হবে। আর তুমি যখন দশ বছরে পদার্পণ করবে তখন কিছুটা স্কার্ফ বা ওড়না পরার অভ্যাস করবে; আর যখন এগারো বছর হয়ে যাবে তখন পুরোপুরি স্কার্ফ বা ওড়না পরতে হবে। স্কার্ফ পরতে তো কোনো সমস্যা নেই। এখানেও মানুষ শীতের সময় স্কার্ফ পরিধান করে। শীত পড়লে (মানুষ) নিজেদের কান ঢাকে না? সেটিও স্কার্ফই হয়ে থাকে। এমন স্কার্ফ (তথা ওড়না) পরিধান করো।
কোনো কোনো মেয়ে আছে যাদের দশ বছর বয়স হয়ে গেলেও দেখতে ছোটই মনে হয়, আবার কতেক এমন আছে যাদেরকে দশ বছর বয়সেই বারো বছরের মেয়েদের মতো দেখা যায়। তাদের উচ্চতা বেড়ে যায়। কাজেই, প্রত্যেক মেয়ে নিজের দিকে দেখুক! যদি সে দেখতে বড় মনে হয় তাহলে তার স্কার্ফ পরা উচিত। অল্প বয়সে স্কার্ফ পরার অভ্যাস করতে পারলে বড় হয়ে গেলে আর লজ্জা লাগবে না, নতুবা সারাজীবন লজ্জাই পেতে থাকবে। যদি তুমি বলো যে, বারো বছর বয়সে, তের বছর বয়সে, চৌদ্দ বছর বয়সে গিয়ে স্কার্ফ পরবো তাহলে শুধু ভাবতেই থাকবে আর এরপরে তোমরা লজ্জা পেতে আরম্ভ করবে। তখন তোমরা বলবে ওহ্ হো, মেয়েরা (বা আমার সহপাঠীরা) পাছে আবার আমাকে নিয়ে হাসি-ঠাট্রা করতে আরম্ভ না করে। আমি স্কার্ফ পরলে তারা আমাকে নিয়ে হাসবে। তাই (এখন থেকেই) কখনো কখনো স্কার্ফ পরার অভ্যাস করো। সাত, আট, নয় বছরে স্কার্ফ পরা শুরু করো। আর অন্য মেয়েদের সামনেও পরো যাতে তোমাদের দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর হয়ে যায়। এরপর যখন তুমি দেখতে বড় মনে হবে তখন পুরোপুরি স্কার্ফ পরো, ঠিক আছে, বুঝতে পেরেছ? তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট। আর বড় মেয়েদের এতটুকু জানা আবশ্যক যে, আসলে পর্দার উদ্দেশ্য হলো লজ্জা-সম্ভ্রম বোধ থাকা উচিত। আর যারা ইউরোপিয়ান কিংবা পাশ্চাত্যের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়, অতীত কালে তাদের (ইউরোপিয়ানদের) পোশাকও এই পর্যন্ত হতো, (এ সময় হুযূর আনোয়ার তাঁর হাতের কব্জি পর্যন্ত ইঙ্গিত করে বলেন- সংকলক) লম্বা ম্যাক্সি বা ফ্রক পরিধান করতো। এখন তো এরা স্বল্পবসনা হয়ে ঘোরাফেরা করে, তাই না?
প্রশ্ন হলো, পুরুষদের মার্জিত ও সুবেশী তখন বলা হয় যখন সে ফুল-প্যান্ট পরে, কোট গায়ে দেয় এবং টাই লাগায় আর নারীদের বলে, তোমাদেরকে সুবেশী তখন বলা হবে যখন তোমরা মিনি স্কার্ট পরিধান করবে। এর দর্শন কী তা আমি বুঝি না।
তাই পুরুষদের দিকে দেখবে না, আর নারীরাও যারা নিজেদেরকে উলঙ্গ বা স্বল্পবসনা করে তারা নিজেদের অসম্মান করে। তাই আহমদী মেয়ে, আহমদী নারীদের সম্মান এতেই নিহিত যে, আপনারা নিজেদের সম্মান-সম্ভ্রম প্রতিষ্ঠা করুন। কেননা, আসল জিনিস/বিষয় হলো, আত্মসম্ভ্রমবোধ। আর এই আত্মসম্ভ্রমবোধই অন্যদেরকে তোমাদের প্রতি নোংরা দৃষ্টি ফেলতে বাধা দেয়।”

আল্ ফযল ইন্টারন্যাশনাল (https://www.alfazl.com/2020/11/01/23968/)

পর্দা