আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বিভিন্ন সময়ে তাঁর চিঠিপত্র এবং এম.টি.এ (MTA)-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি ও অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্কে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন তার মধ্য হতে কিছু বিষয় সর্বসাধারণের কল্যাণার্থে আল ফজল ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংকলক - জহির আহমদ খান, লন্ডনস্থ প্রাইভেট সেক্রেটারী অফিসের রেকর্ড বিভাগ | ভাষান্তর – আহমদ তারেক মুবাশ্বের

এসব নির্দেশনা ওয়েবসাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

একজন নারী পবিত্র রমযানের এ’তেকাফ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন যে, বাড়িতে এ’তেকাফে বসা যায় কিনা এবং তিন দিনের জন্য এ’তেকাফে বসা যায় কিনা?


হুযূর আনোয়ার (আই.) তাঁর ৯ই আগস্ট, ২০১৫ তারিখে পত্রে এই প্রশ্নের নিম্নোক্ত উত্তর প্রদান করেন।
হুযূর (আই.) উত্তরে বলেন, “রমযান মাসের মসনূন (বা সুন্নত) এ’তেকাফের যতটুকু সম্পর্ক তা তো পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে প্রমাণিত যে, বাড়িতে বসা যায় না আর তিন দিনের জন্যও হতে পারে না।
মহানবী (সা.)-এর সুন্নত দ্বারা সাব্যস্ত হয়, মহানবী (সা.) পবিত্র রমযানে কমপক্ষে দশদিন এবং মসিজদে এ’তেকাফে বসতেন। অতএব, হাদীসে এসেছে,

عَنْ عَائِشَةَ رضى الله عنها زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ،
অর্থাৎ, মহানবী (সা.)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, মহানবী (সা.) আমৃত্যু রমযানের শেষ দশদিন এ’তেকাফ করতেন। (সহীহ্ বুখারী, কিতাবুল এ’তেকাফ)

একইভাবে পবিত্র কুরআনে (সূরা আল্ বাকারা: ১৮৮) আল্লাহ্ তা’লা যেখানে রমযানের নিয়ম-কানুন বর্ণনা করেছেন সেখানে এ’তেকাফ সম্পর্কে নির্দেশনাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,

وَلاَ تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ
অর্থাৎ, রমযানের এ’তেকাফের (সময়) প্রথমত স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের (মিলনের) অনুমতি নেই, আর দ্বিতীয়ত, এ’তেকাফের বসার জায়গা হলো, মসজিদ।

বিভিন্ন হাদীসেও এ বিষয়ের বিশদ ব্যাখ্যা রয়েছে যে, রমযানের এ’তেকাফের জন্য মসজিদেই বসতে হবে। অতএব, এ প্রসঙ্গে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন,

السُّنَّةُ عَلَى الْمُعْتَكِفِ: أَنْ لَا يَعُودَ مَرِيضًا، وَلَا يَشْهَدَ جَنَازَةً، وَلَا يَمَسَّ امْرَأَةً، وَلَا يُبَاشِرَهَا، وَلَا يَخْرُجَ لِحَاجَةٍ، إِلَّا لِمَا لَا بُدَّ مِنْهُ، وَلَا اعْتِكَافَ إِلَّا بِصَوْمٍ، وَلَا اعْتِكَافَ إِلَّا فِي مَسْجِدٍ جَامِعٍ ،
অর্থাৎ, এ’তেকাফকারীর জন্য সুন্নত হলো, সে কোনো রোগী দেখতে যাবে না, জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না, স্ত্রীকে স্পর্শ করবে না এবং তার সাথে সহবাস করবে না; আর একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাবে না, রোযা না রাখলে এ’তেকাফ হবে না এবং জামে মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও এ’তেকাফ করা যথার্থ নয়। (সুনান আবী দাউদ, কিতাবুস্ সওম)

কাজেই, পবিত্র কুরআন মহানবী (সা.)-এর হাদীস মোতাবেক পবিত্র রমযানের মসনূন (সুন্নত) এ’তেকাফ কমপক্ষে দশ দিন; আর এজন্য মসজিদেই বসা হয়।
তবে, রমযান ছাড়া সাধারণ দিনে পুণ্যের খাতিরে এবং সওয়াবের আশায় কেউ নিজের বাড়িতে কয়েকদিনের জন্য এ’তেকাফ করতে চায়, তাহলে তারও অনুমতি আছে; আর এ সম্পর্কে কোন নিষেধাজ্ঞা কোথাও পাওয়া যায় না। এছাড়া, কোনো কোনো ফিকাহ্‌বিদ নারীদের বাড়িতে এ’তেকাফ করাকে উত্তম আখ্যা দিয়েছেন। অতএব, ফিকাহ্‌শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হিদায়াহ্’তে লেখা আছে যে,

امااِلمرأۃ تِعتکف فِی مِسجدبِیتها۔
অর্থাৎ, নারী নিজের বাড়িতে নামায পড়ার স্থানে এ’তেকাফে বসতে পারে। (হিদায়াহ্, এ’তেকাফ অধ্যায়)

সৈয়্যদনা হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) এ সম্পর্কে বলেন,

“মসজিদের বাইরেও এ’তেকাফ করা যেতে পারে তবে, মসজিদের মতো সওয়াব পাওয়া যাবে না।” (দৈনিক আল্ ফযল, ৬ই মার্চ, ১৯৯৬)

আল্ ফযল ইন্টারন্যাশনাল (https://www.alfazl.com/2020/11/01/23968/)

রমযান এ’তেকাফে