আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বিভিন্ন সময়ে তাঁর চিঠিপত্র এবং এম.টি.এ (MTA)-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি ও অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্কে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন তার মধ্য হতে কিছু বিষয় সর্বসাধারণের কল্যাণার্থে আল ফজল ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংকলক - জহির আহমদ খান, লন্ডনস্থ প্রাইভেট সেক্রেটারী অফিসের রেকর্ড বিভাগ | ভাষান্তর – আহমদ তারেক মুবাশ্বের

এসব নির্দেশনা ওয়েবসাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

এক বন্ধু জানতে চেয়েছেন, দার কুতনীতে একটি হাদীস আছে যে, মহানবী (সা.) ঈদের নামাযের পর বলেন, “আমরা খুতবা প্রদান করবো; যে চায় তা শোনার জন্য বসে থাকুক আর যে যেতে চায় সে চলে যাক।” এই হাদীসটি কি সঠিক?


এ সম্পর্কে হুযূর আনোয়ার (আই.) তাঁর ২০শে অক্টোবর, ২০২০ তারিখের পত্রে নিম্নোক্ত উত্তর প্রদান করেন।
হুযূর (আই.) উত্তরে বলেন, “ঈদের খুতবা না শোনা সম্পর্কিত হাদীস, যা আপনি দার কুতনী শরীফের বরাতে আপনার পত্রে উল্লেখ করেছেন, তা সুনান আবু দাঊদ-এও বর্ণিত হয়েছে।
একথা সঠিক যে, মহানবী (সা.) ঈদের খুতবা শোনার ব্যাপারে ততটা জোরালো তাকিদ প্রদান করেন নি যেভাবে জুমুআর খুতবা শোনার জন্য উপস্থিত হতে এবং তা পুরো নীরবতার সাথে শ্রবণ করার ব্যাপারে করেছেন। এর ভিত্তিতে আলেম-ওলামা এবং ফিকাহ্বিদগণ ঈদের খুতবাকে সুন্নত এবং মুস্তাহাব [কাঙ্ক্ষিত আমল, যা মহানবী (সা.) স্বয়ং আমল করেছেন] আখ্যা দিয়েছেন।
তবে, এর পাশাপাশি একথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, মহানবী (সা.) ঈদের নামায পড়ার জন্য যেতে এবং মুসলমানদের সাথে দোয়ায় অংশগ্রহণ করাকে পুণ্য এবং কল্যাণের কারণ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি (সা.) এ বিষয়ে এতটা জোর দিয়েছেন যে, এমন নারী যার কাছে নিজের ওড়না নেই, তিনি যেন কোন বোনের কাছ থেকে ওড়না ধার করে হলেও ঈদের নামাযের জন্য গমন করেন। আর ঋতুবতী নারীদেরকেও ঈদের নামাযে যাওয়ার জন্য জোরালো তাকিদ প্রদান করেছেন, তারা যেন নামাযের জায়গা থেকে পৃথক বসে দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন।”

আল্ ফযল ইন্টারন্যাশনাল (https://www.alfazl.com/2020/11/01/23968/)

ঋতুবতী