আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বিভিন্ন সময়ে তাঁর চিঠিপত্র এবং এম.টি.এ (MTA)-এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি ও অন্যান্য বিষয়ে সম্পর্কে যেসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন তার মধ্য হতে কিছু বিষয় সর্বসাধারণের কল্যাণার্থে আল ফজল ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সংকলক - জহির আহমদ খান, লন্ডনস্থ প্রাইভেট সেক্রেটারী অফিসের রেকর্ড বিভাগ | ভাষান্তর – আহমদ তারেক মুবাশ্বের

এসব নির্দেশনা ওয়েবসাইটে প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

নারীদের (ঋতুস্রাবের) বিশেষ দিনগুলোতে তাদের মসজিদে যাওয়া সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীস এবং বর্তমান যুগে নারীদের এদিনগুলোতে নিজেদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদির জন্য বিভিন্ন আধুনিক সামগ্রীর উল্লেখ পূর্বক, একজন নারী একটি নোট হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর সমীপে উপস্থাপন করে, মসজিদে আয়োজিত জামা’তের মিটিং ও সভা-সমাবেশ ইত্যাদিতে এমন নারীদের যোগদান এবং এমন অ-মুসলমান নারীদের মসজিদ ইত্যাদি পরিদর্শন করানোর বিষয়ে হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর সমীপে নির্দেশনা কামনা করেন।


এ বিষয়ে হুযূর আনোয়ার (আই.) তাঁর ১৪ই মে, ২০২০ তারিখের পত্রে নিম্নোক্ত উত্তর প্রদান করেন:
হুযূর (আই.) উত্তরে বলেন, “ঋতুবতী নারীরা মসজিদ থেকে কোন জিনিস আনার বা কোন কিছু মসজিদে রেখে আসার এবং মসজিদে গিয়ে বসা সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশাবলী অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে হুযূর পাক (সা.) আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। অতএব, যেমনটি আপনি আপনার পত্রেও উল্লেখ করেছেন যে, মহানবী (সা.) তাঁর সহধর্মিণীদের এই অবস্থায় চাটাই ইত্যাদি বিছানোর জন্য মসজিদে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করতেন। কিন্তু (ঋতুবতী) অবস্থায় মসজিদে গিয়ে বসার যতটুকু সম্পর্ক এ সম্পর্কেও মহানবী (সা.)-এর নিষেধাজ্ঞা খুবই স্পষ্টভাবে বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত আছে। অতএব, দুই ঈদের সময় মহানবী (সা.) কুমারী মেয়েদের, তরুণী ও পর্দানশীন এবং ঋতুবতী সব ধরনের নারীদের ঈদের জন্য যেতে জোরালো নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি এরূপ নারী যার কাছে কোন ওড়না নেই তাকেও বলেছেন, সে যেন তার কোন বোনের কাছ থেকে ওড়না ধার করে হলেও (ঈদের নামাযে) যায়। এর পাশাপাশি ঋতুবতী নারীদের জন্য এই নির্দেশনাও দিয়েছেন যে, তারা যেন নামাযের জায়গা থেকে পৃথক হয়ে দোয়ায় অংশগ্রহণ করে।
একইভাবে, বিদায় হজ্জের সময় যখন হজ্জের পূর্বে অন্যান্য মুসলমানরা উমরা করছিলেন, তখন হযরত আয়েশা (রা.) তাঁর (ঋতুস্রাবের) বিশেষ দিনগুলোতে ছিলেন। অতএব, মহানবী (সা.) তাকে উমরা করার অনুমতি দেন নি; কেননা, তওয়াফ করার জন্য মসজিদে অনেক সময় থাকতে হয়। এরপর তিনি (রা.) যখন বিশেষ দিনগুলো থেকে মুক্ত হন তখন হজ্জের পর তাঁকে পৃথকভাবে উমরা করার জন্য প্রেরণ করেন।
কাজেই, বিভিন্ন হাদীসে এত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করার পর আর কোনো কারণ বাকি থাকতে পারে না যে, আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করার জন্য নিত্য-নতুন পথের সন্ধান করবো।
একথার সাথে যতটুকু সম্পর্ক যে, অতীতকালে মহিলাদের নিজেদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এমন উপকরণ সহজলভ্য ছিল না, যতটা বর্তমানে আছে। ঠিক আছে, এমন আধুনিক উপকরণাদি (তখন) সহজলভ্য ছিল না, কিন্তু এর অর্থ কোনোভাবেই এমন নয় যে, তারা নিজেদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি খেয়ালই রাখতে পারতেন না আর তাদের ঋতুস্রাবের রক্ত এদিকে-সেদিকে পড়তে থাকতো। মানুষ প্রত্যেক যুগেই নিজেদের প্রয়োজনাদি পূরণের জন্য ভালো ভালো পদ্ধতি অর্জন/ব্যবস্থা বা অবলম্বনের চেষ্টা করেছে। কাজেই, অতীতকালেও মহিলারা নিজেদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য উত্তম ব্যবস্থা করতেন।
এছাড়া, আধুনিক যুগের এই পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার উপকরণের মধ্যেও ক্ষতিকর দিক রয়েছে। এমন মহিলা যাদের অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হয়, অনেক সময় তাদের প্যাড লিক বা ছিদ্র হয়ে যাওয়ার কারণে কাপড়-চোপড় নষ্ট হয়।
অতএব, ইসলামের শিক্ষা স্থায়ী এবং সকল যুগের জন্য সমান। এর ওপর প্রত্যেক যুগে সেভাবেই আমল বা অনুশীলন করা হবে যেভাবে মহানবী (সা.)-এর যুগে হতো।
কিন্তু কোথাও যদি অপারগতা থাকে, নামাযের কক্ষ ছাড়া আর কোন জায়গা না থাকে তাহলে সেই কক্ষেরই শেষ প্রান্তে দরজার কাছে এমন একটি জায়গা নির্ধারণ করা যেতে পারে যেখানে নামায পড়া হয় না, সেখানে এমন নারীরা বসতে পারে অথবা মসজিদের শেষ প্রান্তে এমন নারীদের জন্য চেয়ার পেতে তাদের বসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যাতে নামায পড়ার জায়গা নোংরা হওয়ার তিল পরিমাণ সন্দেহও/সম্ভাবনাও অবশিষ্ট না থাকে।
অমুসলমান নারীদের মসজিদ পরিদর্শনের যতটুকু সম্পর্ক, প্রথমত, মসজিদ পরিদর্শনের সময় তাদেরকে মসজিদে বসানো হয় না; বরং, শুধুমাত্র মসজিদ ঘুরে দেখানো হয়। যার সময়কাল প্রায় ততটুকুই হয় যতটা মসজিদ থেকে চাটাই আনার অথবা চাটাই বিছাতে সময় লাগে। কিন্তু, কোথাও যদি তাদেরকে মসজিদের বসাতেই হয় তাহলে মেঝেতে নামায পড়ার জায়গায় বসানোর পরিবর্তে তাদেরকে মসজিদের শেষ প্রান্তে চেয়ারে বসানো যেতে পারে।
(এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতুবতী নারীদের ঈদের দিন দোয়ার অংশগ্রহণ করার ওপরে মহানবী (সা.)-এর তাকিদপূর্ণ নির্দেশনার যে উল্লেখ করা হয়েছে, এর বরাতে ঈদের খুতবা শোনা সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের হুযূর (আই.) মহানবী (সা.)-এর হাদীসের আলোকে যে উত্তর প্রদান করেছেন তাও বন্ধুদের জ্ঞাতার্থে এখানে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে- সংকলক)

আল্ ফযল ইন্টারন্যাশনাল (https://www.alfazl.com/2020/11/01/23968/)

ঋতুবতী