শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ - নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীগণ: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)

রোজ শুক্রবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ইং

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

এই জুমু’আর খুতবার সারাংশটিতে কোনো প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তার দায়ভার আহ্‌মদীয়া বাংলা টীম গ্রহণ করছে।

আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্‌, আমীরুল মু’মিনীন হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) গত ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ইং ইসলামাবাদের মসজিদে মুবারকে প্রদত্ত জুমুআর খুতবায় সাম্প্রতিক ধারা অনুসরণে নিষ্ঠাবান বদরী সাহাবীদের বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। এ খুতবায় হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)’র খিলাফতকালে সংঘটিত ইয়ারমূকের যুদ্ধজয়ের উল্লেখ করেন।

তাশাহ্‌হুদ, তাআ’ঊয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর (আই.) বলেন, হযরত উমর (রা.)’র যুগের ঘটনাবলীর স্মৃতিচারণ চলছিল; আজ ইয়ারমূকের যুদ্ধ সম্পর্কে বর্ণনা করব। ইয়ারমূকের যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়েছিল তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কারও মতে তা ১৫ হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিল, আবার কারও মতে দামেস্ক জয়ের পূর্বে ১৩ হিজরীতে তা সংঘটিত হয়। অবশ্য ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বুঝা যায়, ইয়ারমূকের যুদ্ধ দামেস্ক জয়ের পরেই সংঘটিত হয়েছিল। রোমানরা একের পর এক পরাজয় বরণ করে দামেস্ক ও হিমস থেকে পালিয়ে আন্তাকিয়া গিয়ে আশ্রয় নেয়। সম্রাট হিরাক্লিয়াস তাদের মধ্য থেকে কয়েকজন বিচক্ষণ ব্যক্তিকে নিজের দরবারে ডেকে পাঠায় ও জিজ্ঞেস করে, ‘আরবরা শক্তিমত্তা, সংখ্যা ও অস্ত্র-শস্ত্রের দিক থেকে তোমাদের চেয়ে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও তোমরা কেন বারবার পরাজিত হচ্ছ?’ সবাই লজ্জায় নির্বাক থাকলেও একজন অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ বলে, “মুসলমানরা নৈতিক দিক দিয়ে আমাদের চেয়ে বহুগুণে শ্রেয়; তারা রাতভর ইবাদত করে ও দিনে রোযা থাকে, কোন অত্যাচার-অনাচার করে না, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ”। অন্যদিকে রোমানদের চরিত্র এর ঠিক উল্টো। সম্রাট সিজার যদিও সিরিয়া থেকে সরে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল, কিন্তু তবুও সে একবার নিজ সাম্রাজ্যের পূর্ণ শক্তি মুসলমানদের বিরুদ্ধে প্রদর্শন করতে মনস্থ করে এবং রোম, কনস্টানটিনোপোল, আর্মেনিয়াসহ সকল স্থানে নির্দেশ পাঠায় যেন সেখানকার সকল সৈন্য নির্দিষ্ট একটি তারিখের পূর্বেই আন্তাকিয়ায় সমবেত হয়। নির্দেশ মোতাবেক লক্ষ লক্ষ রোমান সৈন্য আন্তাকিয়া অভিমুখে অগ্রসর হতে আরম্ভ করলে হযরত আবু উবায়দাহ্ (রা.)’র কানেও এই সংবাদ পৌঁছে। এমতাবস্থায় কী করণীয়- সে বিষয়ে তিনি নিজ বাহিনীর সাথে পরামর্শ করেন। ইয়াযিদ বিন আবু সুফিয়ান, শারাহবিল বিন হাসানা, মুআয বিন জাবাল (রা.) প্রমুখ সেনাধ্যক্ষরা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন এবং অনেক আলোচনার পর কৌশলগত কারণে সাময়িকভাবে হিমস থেকে কিছুটা পিছু হটার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্তের পর তারা সেখানকার খ্রিস্টান অধিবাসীদের কাছ থেকে গৃহীত জিযিয়ার অর্থ এই যুক্তিতে ফিরিয়ে দেন যে, তাদের কাছ থেকে জিযিয়া বা কর নেওয়া হয়েছিল তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য জামানতস্বরূপ; এখন যেহেতু মুসলমানরা তাদের নিরাপত্তা প্রদানে অপারগ তাই জিযিয়ার অর্থ তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। হুযূর (আই.) বলেন, সাধারণত যোদ্ধারা যখন কোন স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয় তখন তারা সেই দেশে আরও বেশি লুটপাট চালায় এবং দেশের ক্ষতি সাধন করে কিন্তু মুসলমানদের এই অসাধারণ মহানুভবতা ও বিশ্বস্ততা দেখে খ্রিস্টানরা কেঁদে কেঁদে দোয়া করে বলেছিল- খোদা আবারও তোমাদেরকে আমাদের শাসক হিসেবে ফিরিয়ে আনুন!

হিমস থেকে পিছু হটার সিদ্ধান্তের সংবাদে হযরত উমর (রা.) প্রথমে অসন্তুষ্ট হন, কারণ এটি ছিল মুসলমানদের রীতি ও নীতিবিরুদ্ধ একটি কাজ; কিন্তু যখন তিনি জানতে পারেন যে, সমগ্র মুসলিম বাহিনী ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তখন মন্তব্য করেন, সবার একসাথে এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে নিশ্চয়ই কোন ঐশী প্রজ্ঞা রয়েছে। হুযূর (আই.) বলেন, এরূপ বর্ণনাও পাওয়া যায় যে, মুসলিম বাহিনী তাদের অভিমত হযরত উমর (রা.)’র সমীপে প্রেরণ করলে তিনি নিজেই এর অনুমতি প্রদান করেন, তবে সেইসাথে স্থানীয়দের জিযিয়ার অর্থও ফিরিয়ে দিতে বলেন। তিনি আবু উবায়দাহ্ (রা.)-কে পত্র মারফৎ এ-ও বলেন যে, তিনি সাঈদ বিন আমরের নেতৃত্বে সাহায্যকারী বাহিনী পাঠাবেন, তবে মুসলমানদের জয়-পরাজয় কখনোই সৈন্যসংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। এর অর্থ ছিল, আল্লাহ্‌র সাহায্যই হল মুসলমানদের মূল শক্তি। হযরত আবু উবায়দাহ্ (রা.) দামেস্ক পৌঁছে সব সেনাধ্যক্ষের সাথে পরামর্শ করছিলেন, এমন সময়ে সেখানে আমর বিন আ’সের চিঠি এসে পৌঁছে যে, রোমান বাহিনীর অগ্রসর হওয়া ও মুসলমানদের হিমস থেকে পিছু হটার খবরে জর্ডানের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। প্রত্যুত্তরে আবু উবায়দাহ্ (রা.) জানান, হিমস থেকে তারা ভীত হয়ে পিছু হটেন নি, বরং এটি শত্রুকে প্রলুদ্ধ করে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয় থেকে বের করে আনার এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মুসলিম সৈন্যদের একত্রিত করার একটি রণকৌশল। তিনি হযরত আমরকে তার অবস্থানে অবিচল থাকতে বলেন এবং স্বয়ং নিজ বাহিনী নিয়ে সেখানে আসছেন বলে জানান। পরদিনই আবু উবায়দাহ্ (রা.) বাহিনী নিয়ে যাত্রা করেন এবং জর্ডানের সীমান্তে ইয়ারমূক পৌঁছে শিবির স্থাপন করেন আর হযরত আমর বিন আস-ও এসে তাদের সাথে যোগ দেন। ইয়ারমূক সিরিয়ার প্রান্তে জর্ডান নদীর অববাহিকায় অবস্থিত একটি নিচু উপত্যকা ছিল। রোমান বাহিনীর গতিবিধি ও তাদের শক্তিমত্তা সংক্রান্ত খবর শুনে সাধারণ সৈন্যদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হচ্ছিল; আবু উবায়দাহ্ (রা.) সব বৃত্তান্ত লিখে আরেকটি চিঠি হযরত উমর (রা.)’র কাছে প্রেরণ করেন। হযরত উমর (রা.) মুহাজির ও আনসারদের জড়ো করে চিঠিটি পড়ে শোনালে তারা সবাই কাঁদতে কাঁদতে খলীফার কাছে যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। আব্দুর রহমান বিন অওফ (রা.) স্বয়ং খলীফাকেই তাদের নেতৃত্ব দিয়ে সেখানে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন, কিন্তু কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাহাবী তা নিষেধ করেন এবং আরও সৈন্য প্রেরণের পরামর্শ দেন। হযরত উমর (রা.) দূতের হাতে একটি চিঠি দিয়ে পাঠান এবং মুসলিম বাহিনীর প্রতিটি লাইনে গিয়ে সেই চিঠিটি পড়ে শোনানোর নির্দেশ দেন। চিঠিতে তিনি অত্যন্ত জ্বালাময়ী ভাষায় মুসলমানদের যুদ্ধের জন্য অনুপ্রাণিত করেন ও সাহস দেন; আল্লাহ্‌র প্রতি নির্ভর করতে এবং শত্রুদেরকে পিঁপড়ের চেয়েও তুচ্ছ জ্ঞান করতে বলেন। উমর (রা.)’র এই প্রাণসঞ্চারী বাণী এবং হযরত সাঈদ বিন আমরের নেতৃত্বে এক হাজার সৈন্য একই দিনে পৌঁছে, ফলে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে সাহস ফিরে পান ও দৃঢ়চিত্তে ও পূর্ণোদ্যমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন।

মুসলমান বাহিনীকে বিভিন্ন অংশে বিন্যস্ত করা হয়, ওদিকে দু’লক্ষের অধিক রোমানসেনাও এসে হাজির হয়। রোমান বাহিনী থেকে একজন বীরযোদ্ধা দ্বন্দ্বযুদ্ধের আহ্বান জানালে হযরত খালিদ (রা.), কায়েস নামক একজন মুসলিম বীরকে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রেরণ করেন। কায়েসের এক আঘাতেই সেই রোমান ধরাশায়ী হয়। খালিদ (রা.) মন্তব্য করেন, লক্ষ্মণ শুভ, আল্লাহ্ চাইলে জয় আমাদেরই হবে। একের পর এক রোমান দল হযরত খালিদ (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের আক্রমণ করতে এসে পরাজিত হয়ে ফিরে যায়। প্রথমদিনের যুদ্ধ শেষে কোণঠাসা রোমান বাহিনীর সেনাপতি বাহান রাতের বেলা নিজ বাহিনীর সাথে আলোচনা করে বলে, আরবদেরকে অর্থের লোভ দেখিয়ে এখান থেকে ফিরে যেতে বলাই শ্রেয় হবে। পরের দিন সে হযরত আবু উবায়দাহ্ (রা.)’র কাছে দূত পাঠিয়ে বলেন- কোন মর্যাদাবান সেনাধ্যক্ষকে পাঠাও, আমরা সন্ধি নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আবু উবায়দাহ্ (রা.) একাজের জন্য খালিদ (রা.)-কে নির্বাচন করেন। সেই রোমান দূতের নাম ছিল জর্জ, আর সে সন্ধ্যার সময় পৌঁছে; সেখানে সে মুসলমানদেরকে জামাতবদ্ধ হয়ে নামায পড়তে দেখে এবং এই অসাধারণ আধ্যাত্মিক পরিবেশ দ্বারা খুবই প্রভাবিত হয়। আলোচনার সময় অন্যান্য প্রশ্নের সাথে সে এ-ও জিজ্ঞেস করে, মুসলমানদের দৃষ্টিতে হযরত ঈসা (আ.)-এর অবস্থান কী? আবু উবায়দাহ্ (রা.) সূরা আলে ইমরানের ৬০ ও সূরা নিসার ১৭২-১৭৩নং আয়াতগুলো পাঠ করেন যেখানে ঈসা (আ.)-এর জন্মরহস্য, তাঁর মর্যাদা ও ঈশ্বরত্বের খণ্ডন রয়েছে। এসব শুনে জর্জ তৎক্ষণাৎ সাক্ষ্য দেয়- ইসলাম সত্যধর্ম ও মহানবী (সা.) সত্যনবী; সে ইসলাম গ্রহণ করে ও রোমানদের কাছে ফিরে যেতে অনীহা প্রদর্শন করে, কিন্তু আবু উবায়দাহ্ (রা.) তাকে বিশ্বস্ততা রক্ষার খাতিরে ফিরে যেতে বলেন ও পরদিন খালিদ (রা.)’র সাথে চলে আসতে বলেন। পরদিন যখন খালিদ (রা.) রোমান শিবিরে যান তখন তারা পূর্ব-পরিকল্পনা অনুসারে খুব করে নিজেদের জাঁকজমক প্রদর্শন করে, কিন্তু খালিদ (রা.) তাচ্ছিল্যের সাথে তাদের উপেক্ষা করে বাহানের সাথে গিয়ে আলোচনায় বসেন। বাহানও নিজের বক্তব্যে অনেক বাগাড়ম্বর করে এবং মুসলমানদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। এই ধূর্ত চালের পর সে মুসলমানদের অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে যাওয়ার প্রলোভন দেখায়। হুযূর (আই.) বলেন, এরা নিজেরাই আগ বাড়িয়ে যুদ্ধ করতে এসেছিল; কিন্তু যখন দেখে যে অবস্থা বেগতিক, তখন এসব উল্টোপাল্টা কথাবার্তা আরম্ভ করে। হযরত খালিদ (রা.) নিজের বক্তৃতায় আরবদের পূর্বের হীন অবস্থা স্বীকার করেন এবং আল্লাহ্‌র কৃপায়, ইসলাম ও তাঁর রসূলের মাধ্যমে আরবদের এক নতুন জাতিতে পরিণত হওয়ার কথা তুলে ধরেন, তাদেরকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানান কিংবা জিযিয়া প্রদানের শর্তে সন্ধির সুযোগের প্রস্তাব দেন। বাহান হতাশ হয়ে বলে, তারা মরে গেলেও জিযিয়া বা কর প্রদান করবে না, ফলে গোটা আলোচনাই ভেস্তে যায়। বাহান জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে রোমান বাহিনীকে উজ্জীবিত করে এবং পরদিন তারা প্রবল উত্তেজনা ও পরাক্রমের সাথে আক্রমণ করে। হযরত খালিদ (রা.) তখন আরবদের প্রচলিত রীতির বিপরীতে গিয়ে নতুনভাবে মুসলিম বাহিনীকে বিন্যস্ত করেন; পুরো বাহিনীকে ৩৬টি অংশে বিভক্ত করে প্রত্যেকের পূর্বের অবস্থান একদম বদলে দেন। অন্যদের সাথে আবু সুফিয়ানও খুবই জ্বালাময়ী বক্তৃতাদ্বারা মুসলমানদের উজ্জীবিত করেন। যুদ্ধ শুরু হলে রোমানদের আক্রমণের মুখে প্রথমদিকে মুসলমানরা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ হাজারের মত যা রোমানদের তুলনায় নিতান্তই নগণ্য, আর রোমানরাও প্রলয়ংকরী রূপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুসলিম বাহিনীর অংশবিশেষ মূল বাহিনী থেকে বিচ্ছিন্নও হয়ে পড়ে এবং কেউ কেউ পিছু হটারও চেষ্টা করে, কিন্তু এ যুদ্ধে মুসলমান নারীদের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে স্মরণ রাখার মত। তারা পুরুষদের এমনভাবে তিরস্কার করে ও আত্মমর্যাদায় আঘাত করে যে, তারা পুনরায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে এবং বিপুল বিক্রমে যুদ্ধে ফিরে যায়; আর এক্ষেত্রে আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা, তার কন্যা জুভায়রিয়া ও হযরত খওলা (রা.)’র ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুসলিম বাহিনীতে একশ’ জন বদরী সাহাবী ছিলেন এবং এক হাজার এমন সেনা ছিলেন যারা স্বচক্ষে মহানবী (সা.)-কে দেখেছিলেন। এই যুদ্ধে প্রত্যেক মুসলিম সেনা অসাধারণ আত্মনিবেদন ও বীরত্ব প্রদর্শন করেন। হযরত মুআয বিন জাবাল (রা.) ও তাঁর পুত্র, আমর বিন তুফায়েল, কায়েস, হাব্বাস, ইকরামা ও হযরত খালিদ (রা.) প্রমুখ অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করেন, যার কিছু বর্ণনা হুযূর তুলে ধরেন। ইকরামা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও চারশ’ বীর যোদ্ধা সাথে নিয়ে রোমান বাহিনীর একদম কেন্দ্রে আক্রমণ করেন আর সেই অংশের সেনাধ্যক্ষ ও তার বাহিনীকে হত্যা করেন; তিনি ও তার সাথীরা প্রায় সবাই হাসিমুখে শাহাদতের অমিয় সুধা পান করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে পানি পানের বিষয়ে মুসলমানদের একে অপরকে প্রাধাণ্য দেওয়ার এবং প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাটিও হুযূর (আই.) এখানে উল্লেখ করেন। এমনকি মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও ইকরামা মহানবী (সা.) ও তাঁর নিকটজনদের প্রতি গভীর ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেন যা হুযূর (আই.) হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.)’র বরাতে উপস্থাপন করেন। অবশেষে মুসলমানরা এই যুদ্ধে জয়ী হন; ৭০ হাজার মতান্তরে ১ লক্ষ রোমান সৈন্য নিহত হয় এবং প্রায় ৩ হাজার মুসলমান শহীদ হন। হযরত উমর (রা.), যিনি এই যুদ্ধের চিন্তায় কয়েক রাত নির্ঘুম কাটিয়েছিলেন এবং একটানা দোয়ারত ছিলেন, তিনি জয়ের সংবাদ শুনে আল্লাহ্ তা’লার প্রতি কৃতজ্ঞায় সিজদাবনত হন। হুযূর (আই.) বলেন, স্মৃতিচারণের এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ্।

Top