In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
হযরত মসীহ্ মাওউদ (আঃ) রোযার মাহাত্ম্য সম্বন্ধে লিখেছেন,
“অল্প আহার এবং ক্ষুধা সহ্য করা ও আত্মশুদ্ধির জন্যে আবশ্যক। এতে দিব্য-দর্শন শক্তি (কাশ্ফী তাক্ত) বৃদ্ধি পায়। মানুষ শুধু খাদ্য গ্রহণ করে বাঁচে না। যে অনন্ত জীবনের প্রতি লক্ষ্য করা একেবারেই পরিত্যাগ করে, সে নিজের ওপর “ঐশীক্রোধ” (কহরে ইলাহী) আনয়ন করে। কিন্তু রোযাদারকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, রোযার অর্থ শুধু এটা নয় যে, মানুষ অনাহারে থাকবে; বরং খোদার যিক্র অর্থাৎ তাঁর স্মরণে মশগুল থাকা উচিত। আঁ হযরত (সঃ) রমযান শরীফে অনেক বেশি ইবাদত করতেন। এ দিনগুলোতে পানাহারের চিন্তা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে আল্লাহ্তাআলার প্রতি মনোনিবেশ (তাবাত্তুল ইলাল্লাহ্) করা চাই। দৃর্ভাগ্য ঐ ব্যক্তির, যে দৈহিক প্রয়োজনে খাদ্য গ্রহণ করে কিন্তু আধ্যাত্মিক খাদ্যের জন্যে পরওয়া করে না। বাহ্যিক খাদ্য দ্বারা দৈহিক শক্তি লাভ হয়, একইভাবে আধ্যাত্মিক খাদ্য আত্মাকে কায়েম রাখে এবং তদ্বারা আত্মার শক্তিগুলো সতেজ হয়। খোদার নিকট সাফল্য চাও। কারণ, তিনি সামর্থ্য দিলেই সকল দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে।”
“কেবল অভুক্ত এবং পিপাসার্ত থাকাই রোযার উদ্দেশ্য নয় বরং এর একটি তাৎপর্য এবং প্রভাব আছে যা অভিজ্ঞতার দ্বারা বোঝা যায়। মানুষের প্রকৃতির মধ্যেই এটা নিহিত আছে যে, মানুষ যতো কম খায়, ততই তার আত্মশুদ্ধি এবং কাশ্ফী তাক্ত বা দিব্য-দর্শন শক্তি বৃদ্ধি পায়। খোদার অভিপ্রায় এটাই যে, একটি খাদ্যকে কম করে অপর একটি খাদ্যকে বর্ধিত করা। রোযাদারের সর্বদাই এর প্রতি দৃষ্টি দেয়া কর্তব্য। খোদা তাআলার যিক্র বা স্মরণের মধ্যেই সময় কাটানো উচিত যেন সংসারের মোহ দূর হয় এবং আল্লাহ্র প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করা যায়। অতএব, রোযার উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন এক খাদ্য ত্যাগ করে অন্য খাদ্য গ্রহণ করে যা আত্মার প্রশান্তির এবং তৃপ্তির কারণ হয়। যে লোক শুধু খোদার জন্যই রোযা রাখে এবং আচার-অনুষ্ঠানের রোযা রাখে না তার উচিত, সে যেন সর্বদা হাম্দ (প্রশংসা কীর্তন), তসবীহ্ (আল্লাহ্র পবিত্রতা ও মাহাত্ম্য ঘোষণা) এবং তাহ্লীলের (আল্লাহ্র তৌহীদ ঘোষণা) মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখে, যাতে তার দ্বিতীয় খাদ্যের (আধ্যাত্মিক খাদ্যের) সৌভাগ্য লাভ হয়”।
(আল হাকাম, ১৭/১/১৯০৭)
“তৃতীয় বিষয়, যা ইসলামের মূল ভিত্তি, তাহ’ল রোযা। রোযার প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কেও মানুষ অনবহিত। প্রকৃত কথা এই যে, যে দেশে মানুষ যায় না এবং যে জগৎ সম্পর্কে সে অবহিত নয় সে এর অবস্থা কী বর্ণনা করবে? রোযা কেবল এটাই নয় যে, মানুষ এ দিনে ক্ষুধা ও পিপাসার্ত থাকে। বরং এর একটি তাৎপর্য ও এটার একটি প্রভাব আছে, যা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানা যায়। মানুষের প্রকৃতিতে এটা আছে যে, সে যত কম খায় ততই তার আত্মা পবিত্র হয় এবং ‘কাশ্ফী শক্তি’ (দিব্য-দর্শনের শক্তি) বৃদ্ধি লাভ করে। এতে খোদা তাআলার ইচ্ছা এটাই যে, একটি খাদ্য কম কর এবং অন্যটিকে বাড়াও”।
(মলফূযাত, নবম খন্ড পৃঃ ১২৩)
“সর্বদা রোযাদারের এ কথা দৃষ্টিতে রাখা উচিত যে, ক্ষুধার্ত থাকাই তার উদ্দেশ্য নয়। বরং তার উচিত সে খোদা তাআলার যিক্র-এ মগ্ন থাকবে যাতে দুনিয়া ত্যাগ করে আল্লাহ্ মুখী হওয়া যায়। অতএব রোযার উদ্দেশ্য এটাই যে মানুষ একটি রুটি ছেড়ে দিয়ে যা কেবল দেহ প্রতিপালন করে দ্বিতীয় রুটি লাভ করে যা আত্মার প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তির কারণ। যারা কেবল খোদার জন্য রোযা রাখে এবং নিছক রুসূম হিসেবে রাখে না, তাদের উচিত আল্লাহ্তাআলার ‘হামদ’ (প্রশংসা), ‘তসবীহ্’ (গুণ কীর্তন করা) ও তাহ্লীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্) পাঠে মগ্ন থাকা, যদ্দরুন অন্য খাদ্যও তারা পেয়ে যায়”।
(মলফূযাত, নবম খন্ড পৃঃ ১২৩)