In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.

পবিত্র কুরআনের আল্লাহ্ তা’আলার প্রতিশ্রুতি এবং হযরত রসূল করীম (সঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতায় বিশ্বনবীর বিশ্বধর্ম ইসলামের শরীয়তের শিক্ষাকে বিশ্বব্যাপী রূপদানের উদ্দেশ্যে উম্মতি বিশ্বনবী হযরত মসীহ মাওউদ (আঃ) আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর অন্তর্ধানের পর ইসলামের শরীয়তের শিক্ষার এ প্রবাহমান ধারাকে অব্যাহত রাখার প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর প্রতিটি ঐশী জামাতের অনুবর্তিতায় পুনরায় নবুয়তের পদ্ধতিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। এ ধারাবাহিকতা আখেরী জামানার দ্বিতীয় কুদরত হিসাবে প্রদর্শিত। ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ঐশী খেলাফতের আগামী ২০০৮ সালে শতবর্ষ পূর্তি হবে। তাই আজ যারা আল্লাহ্ তা’আলার হেদায়েত প্রাপ্তিতে এ খেলাফতের অনুবর্তিতার সৌভাগ্যবান তাদেরকে আল্লাহ্ তা’আলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন এবং জামাতে আহ্মদীয়ার বিশ্ব বিজয়ের জন্য দোয়া করা অপরিহার্য। সে জন্য এ খেলাফতের ক্রমধারায় বর্তমান পঞ্চম খলীফা হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আল-খামেস (আই:) খিলাফত জুবিলী উদযাপন উপলক্ষে জামাতে বিশেষ দোয়ার তাহরীকে করেছেন। সে দোয়াগুলি হলোঃ
১। সূরা ফাতিহা প্রত্যহ কমপক্ষে ৭বার পাঠ করুন।
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ
الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَঅর্থঃ আল্লাহ্র নামে, যিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়।
সকল প্রশংসা আল্লাহ্রই, যিনি জগৎ সমুহের প্রতিপালক।
অযাচিত-অসীমদাতা পরম দয়াময়
বিচার দিবসের মালিক।
আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।
তুমি আমাদিগকে সরল-সুদৃঢ় পথে পরিচালিত কর,
তাহাদের পথে, যাহাদিগকে তুমি পুরস্কৃত করিয়াছ, কোপগ্রস্তদের (পথে) নহে, পথভ্রষ্টদেরও (পথে) নহে।
২। সূরা বাকারা-এর ২৫১ নম্বর আয়াত প্রত্যহ কমপক্ষে ১১বার পাঠ করুন।
رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাওঁ ওয়াসাব্বিত আক্বদামানা ওয়ানসুরনা আলাল ক্বাওমিল কাফিরীন।
অর্থঃ হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে অগাধ ধৈর্য দান কর এবং আমাদেরকে দৃঢ়তা প্রদান কর এবং কাফির জাতির বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।
৩। সূরা আলে ইমরান-এর ৯ নম্বর আয়াত প্রত্যহ কমপক্ষে ৩৩বার পাঠ করুন।
رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
রাব্বানা লা তুযিগ কুলূবানা বা’দা ইয হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রহমাতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্হাব
অর্থঃ হে আমাদের প্রভু-প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে সঠিক পথ দানের পর আমাদের হৃদয়কে বক্র হতে দিও না, আর তোমার নিকট থেকে আমাদেরকে রহমত দান কর, নিশ্চয় তুমিই মহান দাতা।
৪। আবু-দাউদ শরীফ এর নিম্নোক্ত দোয়া টি প্রত্যহ কমপক্ষে ১১বার পাঠ করুন।
اللَّهُمَّ إِنَّا نَجْعَلُكَ فِي نُحُورِهِمْ وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شُرُورِهِمْ
আল্লাহুমা ইন্না নাজআলুকা ফি নূহূরিহিম ওয়া না’উযুবিকা মিন শুরুরিহিম।
অর্থঃ হে আল্লাহ্! নিশ্চয় আমরা (অবিশ্বাসীদের মকাবেলায়) তোমাকে তাদের অন্তরে (ঢালস্বরুপ) রাখছি। আর তাদের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
৫। এস্তেগফার প্রত্যহ কমপক্ষে ৩৩বার পাঠ করুন।
اَسْتَغْفِرُاللہَ رَبیِّ مِنْ کُلِّ ذَنْبٍ وَّ اَتُوْبُ اِلَیْہِ
আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়াতুব ইলাইহে।
অর্থঃ আমি আমার প্রভু-প্রতিপালক আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আমার সমুদয় পাপ হতে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তারই সমীপে প্রত্যাবর্তন করি।
৬। নিম্নোক্ত দোয়া টি প্রত্যহ কমপক্ষে ৩৩বার পাঠ করুন।
سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللهِ العَظِيْمِ اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّآلِ مُحَمَّدٍ.
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহাম্দিহি সুব্হানাল্লাহিল আযীম আল্লাহুম্মা সল্লিআলা মুহাম্মদিত্তঁ ওয়া আলে মুহাম্মদিন।
অর্থঃ আল্লাহ্ তা’আলা তাঁর প্রশংসাসহ অতি পবিত্র। তিনি অতি পবিত্র অতি মহান। হে আল্লাহ্! মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতি ও তাঁর অনুসারীদের প্রতি আশিস বর্ষন কর।
৭। দুরূদ শরীফ প্রত্যেহ কমপক্ষে ৩৩ বার পড়ুন।
اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبَرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ.
اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَّعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبَرَاهِيْمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ.আল্লাহুম্মা সাল্লি ’আলা মুহাম্মাদিঁওয়া ’আলা আলি মুহাম্মাদিন্ কামা সাল্লায়তা ’আলা ইব্রাহীমা ওয়া ’আলা ’আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজিদ
আল্লাহুম্মা বারিক ’আলা মুহাম্মাদিঁওয়া ’আলা আলি মুহাম্মাদিন্ কামা বারাকতা ’আলা ইব্রাহীমা ওয়া ’আলা ’আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজিদঅর্থঃ হে আল্লাহ! অনুগ্রহ (আশীষ) বর্ষণ করো মুহাম্মদ (সাঃ) এবং মুহাম্মদ (সাঃ)-এর অনুগামীদের প্রতি যেরূপ তুমি অনুগ্রহ (আশীষ) বর্ষণ করেছিলে ইব্রাহীম (আঃ) এবং ইব্রাহীম (আঃ)-এর অনুগামীদের প্রতি। নিশ্চয় তুমি মহা প্রশংসাময়, মহামর্যাদাবান।
হে আল্লাহ! বরকত (কল্যাণ) বর্ষণ করো মুহাম্মদ (সাঃ) এবং মুহাম্মদ (সাঃ)-এর অনুগামীদের প্রতি যেরূপ তুমি বরকত (কল্যাণ) বর্ষণ করেছিলে ইব্রাহীম (আঃ) এবং ইব্রাহীম (আঃ)-এর অনুগামীদের প্রতি। নিশ্চয় তুমি মহা প্রশংসাময়, মহামর্যাদাবান।
৮। প্রত্যেক দিন দু’ রাকাআত নফল নামায পড়ে জামাতের উন্নতির জন্যে দোয়া করুন।
৯। প্রত্যেক মাসে একটি নফল রোযা রাখুন।
উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালে আহ্মদীয়া জামাতের পঞ্চাশ বছর পূর্তি, হযরত মুসলেহ মাওউদ (রাঃ)-এর জন্ম ও তাঁর কীর্তিমান জীবন আলেখ্���ের পঞ্চাশ বছরের পূর্ণতা এবং হযরত খলীফাতুল মসীহ সানী (রাঃ)-এর গৌরবময় খেলাফতের পঁচিশ বছরের পূর্ণতার জুবিলী উৎসব জাঁকজমকভাবে পালন করা হয়। অনুরূপভাবে ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত জামাতের ১৯৮৯ সালে শতবর্ষ পূর্তিতে বিশ্বব্যাপী আহ্মদীয়া জামাতে শতবার্ষিকী জুবিলী আনন্দমুখর পরিবেশে বর্ণাঢ্যভাবে উদযাপন করা হয়। এ শতবার্ষিকী জুবিলী আগমনের ষোল বছর পূর্বে ১৯৭৩ সালে হযরত খলীফাতুল মসীহ সালেস (রাহেঃ) বিভিন্ন দোয়ার তাহরীক করেছিলেন। পরবর্তীতে ব্যাপক কর্মসূচীতে উৎসব মুখর পরিবেশে আহ্মদীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে তা যথার্থভাবে পালন করেন। তাই আজ হুযূর আকদাস হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আল-খামেস (আই:)-এর আগামী ২০০৮ সালের খিলাফত জুবিলী উপলক্ষে প্রদত্ত তাহরীক যথার্থভাবে পালনে আমাদের দোয়া, নামায ও রোযা রাখা প্রয়োজন। বলাবাহুল্য ইমামুজ্জামান আমীরুল মোমেনীন ওয়াক্তের ঐশী নেতা যখন যে তাহরীক করেন তা অনুবর্তিদের পালন অত্যাবশ্যকীয়। আর তা হলেই আমরা খোদা তা’আলার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন এবং আহ্মদীয়াতের বিশ্ব বিজয়ের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলনে সৌভাগ্যবান হবো। খোদার সন্তুষ্টি অর্জনে জীবন সার্থক হবে। আল্লাহ্ তা’আলা আমাদের সকলকে এ খিলাফত জুবিলী যথার্থভাবে পালনে তৌফীক দান করুন। আমীন।