ভালবাসা সবার তরে, ঘৃণা নয় কারো 'পরে
হুযূর আনোয়ার (আইঃ) সম্প্রতি ১৫ই এপ্রিল থেকে ৬ই মে পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ সফল সফর শেষে লন্ডন ফিরে এসেছেন। প্রথমেই হুযূর ঘানা গমন করেন এবং ঘানার ৭৮তম বার্ষিক জলসায় যোগদান করেন। এরপর হুযূর বেনিন যান এবং সেখানেও হুযূর আনোয়ার (আইঃ)-এর উপস্থিতিতে জলসা অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে হুযূর নাইজেরিয়া গমন করেন এবং সেখানেও হুযূর জলসায় আগতদেরকে খিলাফতের অফুরন্ত কল্যাণ দ্বারা আশিস মন্ডিত করেন। পরিশেষে হুযূর নাইজেরিয়া থেকে সরাসরি লন্ডন ফিরে আসেন। গত ৬ই মে দুপুর তিন ঘটিকায় হুযূরকে বহনকারী উড়োজাহাজ লন্ডনের মাটি স্পর্শ করে। এয়ারপোর্টর বাইরে অপেক্ষমান যুক্তরাজ্যের আমীর সাহেব তার আমেলা এবং এডিশনাল উকিলদের সঙ্গে নিয়ে হুযূরকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। হুযূরের কাফেলা মসজিদ ফযল লন্ডন পৌঁছামাত্র সেখানে উপস্থিত শত শত নারী-পুরুষ-যুবা-বৃদ্ধ ও শিশু-কিশোর বিভিন্ন ধ্বনি উচ্চকিত করে হুযূরকে সাদরে বরণ করে নেয়। হুযূর হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তারপর হুযূর আপন বাসগৃহে গমন করেন।
খিলাফত জুবিলি উপলক্ষ্যে মহানবী (সাঃ)-এর পবিত্র জীবনী সম্পর্কে নরওয়েবাসীকে অবহিত করার মানসে গত ১৪ই এপ্রিল, ২০০৮ তারিখ বিশাল সিরাতুন্নবী জলসা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের একটি ভাড়া করা হলে অনুষ্ঠিত জলসায় জামাতের আমীর জনাব জারতাশত মুনির আহমদ খান সাহেব অভ্যাগতদের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। কুরআন তেলাওয়াত ও এর অনুবাদ ছাড়া নরোযেজিয়ান ভাষায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জনাব নূর আহমদ বুলসতাদ সাহেব। তিনি তার বক্তব্যে মহানবী (সাঃ)-এর অনুপম গুণাবলীর উপর আলো্কপাত করেন এবং তাঁর পুত-পবিত্র জীবনের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীগনকে অবহিত করেন।
জনাব নূর আহমদ তওরাত ও ইঞ্জিলের বরাতে মহানবী (সাঃ)-এর সত্যতা প্রতিপন্ন করেন। তিনি নরওয়েতে ‘ব্লাসফেমী’ আইন সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং এ সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেন। তার বক্তৃতার পর এ অনুষ্ঠানের জন্য নির্মিত মহানবী (সাঃ)-এর জীবনি নিয়ে নির্মিত অনুষ্ঠান দেখানো হয়।
এজলসায় অংশ গ্রহণকারী ‘কভেনটি’-এর প্রধাণ কর্মকর্তা বলেন, এ অনুষ্ঠানটি খুবই তথ্য নির্ভর একটি অনুষ্ঠান। সাধারণ মানুষ এ সম্পর্কে জানে না তাই তারা ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করে। তাদের কাছে সত্য ও সঠিক তথ্য পৌঁছানো উচিত এবং এধরনের অনুষ্ঠান বারবার হওয়া উচিত।
একজন মহিলা মহনাবী (সাঃ)-এর যুদ্ধের কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। কেননা বর্তমানে পাশ্চাত্ব্যে এর ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাকে অবহিত করা হয় যে, মহানবী (সাঃ) কখনই জোর জরদস্তির আশ্রয় নেননি এবং নিরুপায় হয়ে কেবল আত্ম রক্ষার্থে প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ করেছেন।
এছাড়া আরো অনেকেই বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। জলসার শেষাংশে আমীর সাহেব আগত অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেনএবং নরোয়েজিয়ান অতিথিদের সম্বোধন করে বলেন, ১৮ বা ১৯শ শতাব্দীতে ইউরোপের সুশীল সমাজ বাক স্বাধীনতার আন্দোলন করেন তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, যাতে মানুষ সত্য ও সঠিক পথ অবলম্বন করতে পারে। অথচ আজ এ বাক স্বাধীনতার নামে অন্যের সম্মান ও তার ধর্ম গুরুর সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। জ্ঞান হচ্ছে বাস্তবতা যদি মানুষ সঠিক জ্ঞান লাভ করে তাহলে সকল নৈরাজ্য ও বিশৃংখলা দূরীভূত হতে পারে। ইসলাম ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তিনি জামাতের ম্লোগান ‘ভালবাসা সবার তরে, কারো পরে ঘৃণা নয়’ উল্লেখ করেন। আমীর সাহেব, ‘কভেনটি’-এর নেতাকে পবিত্র কুরআন উপহার দেন। প্রায় পনেরজন নরোয়েজিয়ান বন্ধু এ জলসায় যোগদান করেন বলে জানা গেছে।