In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বুর্কিনাফাঁসো তাদের শততম বার্ষিক জলসার আয়োজন করেছিল গত ২৩ থেকে ২৫ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে।
প্রকাশ থাকে যে, এ বছর বুর্কিনাফাঁসোতে আহমদীয়া জামাতের রেজিষ্ট্রেশনের ২৫বছর পূর্তি হচ্ছে।
২৩ ডিসেম্বর শুক্রবার অপরাহ্ন সাড়ে চারটায় বিশ্ব জামাতে আহমদীয়ার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জলসার উদ্বোধন হয়। পবিত্র কুরআন ও নযম পাঠের মধ্যদিয়ে জলসার আনুষ্ঠানিকতা আরম্ভ হয়। এরপর বুর্কিনাফাঁসোর আমীর সাহেব তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বাণীর আলোকে আহমদীয়াতের উজ্জ্বল ভবিষ্যত সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
উক্ত জলসায় দেশবরেণ্য ব্যক্তিবর্গ যোগদান করেন, যাদের মধ্যে বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ বাহিনী ও অন্যান্য সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও চীফের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে একজন সাংসদ যোগদান করেন।
এদিন লন্ডন থেকে প্রচারিত হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর জুমুআর খুতবা প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হয় এরপর লাহোরের শহীদদের উপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় চলতি বছরে যেসব আহমদী শাহাদত বরণ করেছেন তাদের বিবরণও তুলে ধরা হয়।
সন্ধায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় অধিবেশনে পাশ্ববর্তী দেশ থেকে আগত বিভিন্ন অতিথি তাদের অভিব্যক্তি তুলে ধরেন।
এদিন সন্ধায় আঞ্চলিক ভাষায় জলসার কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং একটি প্রশ্নোত্তর পর্বেরও আয়োজন করা হয়েছিল। আলোচনা এতোই প্রাণবন্ত ছিল যে, গভীর রাত পর্যন্ত শীত উপেক্ষা করে লোকজন তা শুনতে থাকেন।
সমাপনী অধিবেশনে পবিত্র কুরআন ও নযম পাঠের পর বিভিন্ন ফির্কার ইমাম এবং চীফ মহোদয় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন এবং জলসায় নিমন্ত্রণের জন্য জামাতকে ধন্যবাদ জানান।
২৫বছর পূর্তি উপলক্ষে আহমদীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্র একটি মানপত্র পাঠ করে। এছাড়া একটি স্থিরচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয় যা দর্শকদের দৃষ্টি কাঁড়তে সক্ষম হয়েছে। জামাতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত পঞ্চাশটি ভাষায় অনুদিত কুরআনেরও একটি প্রদর্শনী ছিল।
এরপর চলতি বছর শিক্ষাক্ষেত্রে উত্তম ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও উপহার বিতরণ করা হয়।
আমীর সাহের তাঁর সমাপনী ভাষণে জলসায় যোগদানের জন্য জামাতের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর শিক্ষামালার আলোকে নিজেদের মাঝে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন এবং দোয়া করান।
প্রকাশ থাকে যে, ২২ ডিসেম্বর থেকেই দেশের দুর্গম এলাকা থেকে দলে দলে মানুষ জলসায় যোগদানের জন্য আসেন।
দেশের তিনটি প্রসিদ্ধ দৈনিকে জলসার সচিত্র সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় ও আঞ্চলিক টিভি এবং বেশক’টি রেডিওতে জলসার সংবাদ ফলাও করে প্রচার করেছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২ তারিখে বাংলাদেশের ৮৮তম সালানা জলসা খুবই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে|
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং নযম পাঠের পর আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বাংলাদেশ, লন্ডন ও MTA-র মাধ্যমে বিশ্বের সকল প্রান্তের সমবেত শ্রুতি মন্ডলীর উদ্দেশ্যে জলসার সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন| হুযূর আনোয়ার (আই.) তাঁর বক্তব্যে সমসাময়িক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মূল কারণ সম্পর্কে আলোকপাত করেন|
হুযূর (আই.) পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে প্রতিশ্রুত মসীহ্ ও ইমাম মাহদী (আ.)-কে মানার গুরুত্ব ও পথভ্রষ্ট অ-আহমাদি মৌলভিদের বিভিন্ন অপপ্রচার সম্পর্কেও আলোকপাত করেন। হুযূর (আই.) আহমদীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আহমদীয়া জামাতের জলসার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বাণী শোনা এবং তদনুযায়ী অনুশীলন করা।
বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৪০ জন এই জলসায় উপস্থিত ছিলেন যার মধ্যে প্রায় ৬০০ অ-আহমাদি অতিথি উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। এছাড়া লন্ডনের বাইতুল ফুতুহ্ মসজিদেও তাহের হলেও প্রায় দু’হাজার নিষ্ঠাবান আহমদী নারী-পুরুষ হুযূরের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্য সববেত হন।
এমটিএ ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও লন্ডন হতে একযোগে এই অনুষ্ঠান বিশ্বময় প্রচার করেছে। এবং এমটিএ’র কল্যাণে বিশ্বের কোটি কোটি আহমদী হুযূরের এই মূল্যবান বক্তব্য শোনার এবং এই বরকতময় জলসাং অংশ গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছে।
গত ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১২ হযরত খলীফাতুল মসীহ আল খামেস (আই.) লন্ডনের ক্যাটফোর্ডে ফলক উন্মোচন এবং দোয়ার মাধ্যমে তাহের মসজিদ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন।
অতঃপর হুযুর (আই:) মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি বৃক্ষ রোপন করেন। এরপর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় যেখানে স্থানীয় প্রায় সকল আহমদী ভাই ও বোন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় হুযুর তার বক্তৃতায় জোর দিয়ে বলেন, “সবসময় মনে রাখতে হবে একটি মসজিদ তৈরীর মূল উদ্দেশ্য কি?”
স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ এবং হুযুর (আই) এর মধ্যকার ব্যক্তিগত সাক্ষাতের পর একটি আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়, যেখানে জামাতের কর্মকর্তাবৃন্দ এই মসজিদ নির্মানে নানা ও অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
এ সময় স্থানীয় এম.পি Heidi Alexandar এবং Lewisham এর মেয়র Sir Steve Bolloc আহমদীয়া মুসলিম জামাতকে নতুন মসজিদের সূচনা উপলক্ষ্যে অভিনন্দন জানায় এবং আহমদীয়া জামাত কে স্থানীয় দাতাসংস্থাগুলোতে মুক্ত হস্তে দান করায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।
সবশেষে সমাপনী ভাষণে হুযুর (আই.) বলেন, “সকল আহমদী মসজিদ নির্মান করা হয় কেবলমাত্র আল্লাহতায়ালার উপাসনা এবং মানব কল্যাণের জন্য।”
Lewisham এ আহমদীয়া মুসলিম জামাত প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে একজন স্থানীয় আহমদীর বাসায় নিয়মিত বা‘জামাত নামায আদায় করার মাধ্যমে। বিগত কিছু বছর ধরে অন্যান্য আহমদীরাও নিজেদের বাসায় বা‘জামাত নামায আদায়ের ব্যবস্থা করে আসছে, যার ফলে স্থানীয় জামাত ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়।
তাহির মসজিদ কমপ্লেক্স টি আহমদীয়া মুসলিম জামাত ক্রয় করবার পূর্বে Lewisham Council এর অধীনে ছিল। এ মসজিদে সর্বমোট ২৮০ জন মুসল্লি একইসময়ে নামায আদায় করতে পারবেন, যা প্রায় ৪০০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে