In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
গত ৩ নভেম্বর, ২০১১ আহমদীয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় (Kanfenda) কানফেন্ডার স্টাফ কোয়ার্টারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন গাম্বিয়ার নুসরত জাঁহা স্কিমের সেক্রেটারী মহোদয়। প্রকাশ থাকে যে, উক্ত স্কুলটি প্রায় দু’বছরের বেশি সময় ধরে এলাকার মানুষকে শিক্ষা সেবা দিয়ে যাচ্ছে আর এখন এর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দু’শতাধিক। মোট নয় কক্ষের এই স্টাফ কোয়ার্টারে স্কুলের শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের আবসনের ব্যবস্থা করা হবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। আগামী চার মাসের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে আর এতে মোট ব্যয় হবে বিশ হাজার পাউন্ড।
গত ৬ নভেম্বর ২০১১ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে গাম্বিয়াতে ঈদুল আযহা উদ্যাপিত হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই জামাতের সদস্যরা আল্লাহ্র মাহাত্ম্য এবং প্রশংসা গীত গাইতে গাইতে দেশের প্রতিটি আহমদীয়া মসজিদে দলে দলে উপস্থিত হতে থাকেন। অনুরূপভাবে গাম্বিয়ার প্রধান মসজিদ বাইতুস সালামেও আহমদীরা দলে দলে সমবেত হন। রাষ্ট্রীও রেডিও চ্যানেল পবিত্র ঈদুল আযহার খুতবা এখান থেকে সরাসরি সম্প্রচার করে। এছাড়া জাতীয় টেলিভিশন এবং পত্র-পত্রিকাও ফলাও করে এই সংবাদ পরিবেশন করে।
ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে দেশের দরিদ্র, অভাবী, জেলখানার কয়েদী এবং রোগীদের মধ্যে সুস্বাদু খাবার এবং উপহার বিতরণ করা হয়। এছাড়া দরিদ্র মানুষদের মধ্যে ব্যাপকভাবে কুরবানীর মাংস বিতরণ করা হয়।
এ উপলক্ষ্যে মোহতরম আমীর সাহেব তাঁর বিশেষ বাণীতে বলেন, ঈদুল আযহা আমাদেরকে এই বার্তা দেয় যে, যখন আমরা আমাদের আমিত্ব এবং অহংকারকে পুরোপুরি বিসর্জন দিতে পারবো তখনই সত্যিকার অর্থে আমরা খোদাভীতি, নিষ্ঠা, বিনয়, আন্তরিকতা ও সত্যের রঙে রঙিন হতে পারবো। মহানবী (সা.)-এর সাহাবীদেরকে জন্তু-জানোয়ারের মতো নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে আর সত্য প্রতিষ্ঠায় তাঁদেরকে রক্ত দিতে হয়েছে আবার তাঁরাই জীবনের শেষ বিন্দু দিয়েও মহানবী (সা.)-এর আনুগত্য করেছেন। বর্তমান যুগে চলমান নৈরাজ্যেরও মূল কারণ হচ্ছে, অহংকার, আত্মশ্লাঘা, অন্যায়-অবিচার এবং মানুষের নৈতিক অবক্ষয়। আমরা যদি ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারি তাহলে আমাদের আমিত্ব বিসর্জন দিতে হবে আর তাহলেই বিশ্ববাসী শান্তি এবং নিরাপত্তা লাভে সক্ষম হবে। ৭ ও ৮ নভেম্বর দেশের সকল জাতীয় পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম হিসেবে আমীর সাহেবের এই বার্তা প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর পক্ষ থেকে সালাম, দোয়া এবং পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছাও রেডিও, টিভি এবং পত্রপত্রিকার মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
গত ২০ নভেম্বর, ২০১১ গাম্বিয়ার বাঞ্জুল প্রদেশে একটি আমীন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, এতে মোট ১৯জন ছেলে-মেয়ে অংশ গ্রহণ করে। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ৮৬জনকে উদ্দেশ্য করে আমীর সাহেব বলেন, কুরআন পাঠ এবং এর প্রতি গভীর অভিনিবেশেই আমাদের সফলতা নিহিত। যথারীতি নামায, দোয়া এবং খিলাফতের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার কল্যাণ বর্ণনা করে তিনি বলেন, আপনারা দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করুন কেননা আজ আহমদীয়াতের বিজয় ও সফলতা একমাত্র দোয়ার মাধ্যমেই অর্জিত হবে। অনুষ্ঠান শেষে আমীনে অংশ নেয়া প্রত্যেক ছেলে-মেয়েকে আমীর সাহেব মূল্যবান উপহার প্রদান করেন।
এমটিএ’র মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী অগণিত মানুষ কাদিয়ানের ১২০তম বার্ষিক জলসা উপভোগ করেন। কাদিয়ানের পুণ্যভূমিতে অনুষ্ঠিতব্য এই বার্ষিক জলসা বিশ্বের সকল আহমদীর জন্য খুবই তাৎপর্য বহন করে।
এ জলসার সমাপ্তি অধিবেশন গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১১ইং তারিখে একযোগে কাদিয়ান এবং লন্ডনের বাইতুল ফুতুহ মসজিদ হতে MTA-র মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
প্রতি বছর এ মাহত্ম্যপুর্ণ জলসার সফলতা উপলক্ষ্যে হুযূর (আই.) সমাপ্তি ভাষন প্রদান করেন।
কাদিয়ানে সতের হাজারের অধিক এবং লন্ডনে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ হুযূরের এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ শোনার জন্য সমবেত হয়।
ঈমান-উদ্দিপক এই ভাষণে হুযূর (আই.) আল্লাহ্র এক অপার নিয়ামত হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) যাঁর মাধ্যমে তিনি ইসলামকে সত্য ধর্ম হিসেবে পৃথিবীর বুকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন তার উল্লেখ করেন। হুযূর (আই.) বলেন, নবুয়ত, কুরআন ও খিলাফত আল্লাহ্র বিশেষ নিয়ামত। আমাদেরকে নিজেদের বিশ্বাসকে দৃঢ় করতে হবে ও আল্লাহ্র সন্তুটির উদ্দেশ্যে খোদাভীরুতায় আরো সমৃদ্ধ হতে হবে।
কাদিয়ান, লন্ডন এবং পৃথিবীর সর্বত্র আহমদীরা মুহুর্মুহু জয়ধ্বনির মাধ্যমে হুযূর (আই.)-এর বাণীর প্রতি সমর্থন জানান।
হুযূর (আই.) আরো ব্যাখ্যা করেন যে, ইমাম মাহদী (আ.)-এর আগমনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ও পরস্পরের হৃদয়ে ভালবাসা সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, বিশ্ববাসীরা আজ ধন-সম্পদ, পার্থিবতার পূজা ও লোভ-লালসায় মগ্ন এমতাবস্থায় প্রত্যেক আহমদীর দায়িত্ব কুরআন বর্ণিত শান্তির বাণী পৃথিবীতে প্রচার করা।
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বছর জুড়ে অনুষ্ঠিত সালানা জলসা আহমদীয়াত এবং এর পবিত্র প্রতিষ্ঠাতা হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর সত্যতার একটি জলন্ত প্রমাণ।
গত ৩ ডিসেম্বর আহমদীয়া মুসলিম জামাত Australia-র Victoria জামাত মেলবোর্ন এর Chisholm college-এ তাদের প্রথম কুরআন প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
৬টি সংবাদপত্র, দু’টি রেডিও Station ও একটি স্থানীয় টেলিভিশনে পূর্ব হতেই এর বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতে থাকে।
পুলিশ বিভাগের সদস্য, স্কুল ও কলেজ শিক্ষক, সংসদ সদস্য, স্থানীয় Mayor এবং Councillors সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের ১৮৩ জন আতিথি এই প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। এছাড়া অনেক আহমদীও এতে যোগদান করেন যাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যান্য প্রদেশ থেকে এই প্রদর্শনীতে অংশ গ্রহণ করার জন্য আগমন করেন।
কুরআন তিলাওয়াত এর মাধমে অনুষ্ঠান শুরু হয় তারপর বিভিন্ন উপস্থাপনা ও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করা হয় যার মধ্যে Victoria জামাত এর প্রেসিডেন্ট জনাব সফদার জাভেদ সাহেব প্রদর্শনীর পরিচিতি ও অভ্যর্থনামূলক ও National Tabligh Secretary ড. উমর শাহাব খান পবিত্র কুরআনের মহান শিক্ষা সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি কুরআন ও অন্যান্য ঐশী ধর্মগ্রন্থ সমূহের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে গিয়ে বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের অপর ধর্মগ্রন্থ সমূহে বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অংশ।
‘কুরআন পরিচিতি’ সম্পর্কে অনুষ্ঠানের মুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মালিক ইমরান আহমদ। এছাড়া কুরআন সংকলনের ইতিহাস এবং কুরআন খোদা প্রেরিত গ্রন্থ শীর্ষক দু’টি প্রবন্ধও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এরপর প্রদেশের সাংসদ জানাব Luke Donnelan এবং স্থানীয় দু’জন Councillors জনাব Wayne Smith ও মিসেস Amanda Stapledon সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করেন। এ সময় আন্তধর্ম সমিতির একজন সদস্য প্রদর্শনী সম্পর্কে নিজের মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈকালীন অধিবেশনে আরেকজন প্রাদশিক সাংসদ মিস Judith Graley বক্তব্য রাখেন। সকল বক্তাই জামাতের এই আয়জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সারাদিন এ অতিথিদের আগমন ও বিভিন্ন আয়জনে প্রদর্শনীস্থল মুখরিত ছিল। এ উপলক্ষে প্রধান হল বিভিন্ন Banner দিয়ে সাজানো হয়। আলাইসাল্লাহু খচিত আংটি সহ আলাঙ্কারিক একটি প্রদর্শনী দর্শকবৃন্দের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি করে।
কুরআনের অনুবাদ সমগ্র একটি ভিন্ন স্থানে অভূতপূর্ব উপায়ে উপস্থাপন করা হয় যাতে হল এর পিছনে তিনটি দেয়াল কুরআনের আয়াত খচিত তোরণ দিয়ে সংযুক্ত করে মিনারের আকৃতি দেয়া হয়। এতে প্রত্যেকটি তোরণে কুরআন এর অনুবাদ ও ভাষার নাম সংযুক্ত থাকে। আল্লাহ্র বিভিন্ন গুণবাচক নাম নিয়েও পৃথক একটি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়।
আহমদী মহিলাদের চিত্রকর্ম নিয়ে স্থাপিত একটি আর্ট গ্যালারি উপস্থিত দর্শকবৃন্দকে খুবই আকৃষ্ট করে।
তিনটি Interractive Media Station এর ব্যবস্থা করা হয় এবং পুরোদিন জামাত এর বিভিন্ন ভিডিও চিত্র প্রদর্শনীতে আগত অতিথিদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য জামাতের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন এর মাধ্যমে খুবই সফলভাবে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে