In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় ওয়াইওগিয়া রিজিওনের বিভিন্ন জামাত অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দিপনার সাথে খিলাফত দিবস পালন করেছে।
ওয়াইওগিয়া শহরে খিলাফত দিবস উদযাপিত হয় গত ৩০শে মে। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং নযম পাঠের মধ্য দিয়ে খিলাফত দিবসের অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। এরপর বক্তৃতা পর্বে ‘খিলাফত ভয়-ভীতির অবস্থাকে কিভাবে নিরাপত্তায় পরিবর্তন করে দেয়’ এবং ‘খিলাফতের প্রতি আনুগত্য’ বিষয়বস্তুর উপর বক্তব্য প্রদান করা হয়। দোয়া ও নামাযের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। অতঃপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথিকে আপ্যায়িত করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
‘দেনিয়া’ এবং ‘কিমবারাহ্’ জামাতও গত ৪ই জুন খিলাফত দিবস উদ্যাপন করেছে। এসময় ‘খিলাফতের আশিস ও কল্যাণ’ এবং ‘খিলাফতের প্রয়োজনীয়তা’ সম্পর্কে বক্তারা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন। এরপর দোয়া করা হয় এবং লাহোরের শহীদদের গায়েবানা জানাযার নামায আদায় করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রায় ১২৫ জন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় গত ২৮শে ও ২৯শে মে, ২০১০ তারিখে আহমদীয়া মুসলিম জামাত, টোগো’র বার্ষিক জলসা অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পার্শ্ববর্তী দেশ বেনিন, নাইজার এবং বুর্কিনাফাঁসো জামাতের আমীর সাহেবানও যোগদান করেন। এম.টি.এ’র মাধ্যমে হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর খুতবা সরাসরি শোনার মধ্য দিয়ে জলসার কার্যক্রম আরম্ভ হয়। এরপর মিশনারী ইনচার্জ সাহেব জুমুআর নামায পড়ান।
বিকাল তিনটায় বুর্কিনাফাঁসোর আমীর সাহেবের সভাপতিত্বে জলসার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ বছর জলসার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম’।
সভাপতি সাহেব তাঁর বক্তৃতায় বলেন, একমাত্র খিলাফতের মাধ্যমেই আজ গোটা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
মাগরিব ও ইশার নামাযের পর একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
পরের দিন সকাল সাড়ে আটটায় নাইজারের আমীর সাহেবের সভাপতিত্বে জলসার দ্বিতীয় অধিবেশন আরম্ভ হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং নযম পাঠের পর জামাতের উলামাগণ ‘ইমাম মাহদী (আ.)-এর আবির্ভাব’, ‘শান্তির ধর্ম ইসলাম’ এবং ‘আহমদী কে’ বিষয়বস্তুর উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
জলসায় ৫৮টি জামাত থেকে মোট ৭২৮ জন যোগদান করেছেন বলে জানা গেছে।
জলসা চলাকালীন সময় লাহোরের আহমদীদের উপর নৃশংস আক্রমনের সংবাদ সেখানে পৌঁছে। শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের ধৈর্য ধারণ এবং গুরুতর আহতের পূর্ণ সুস্থতা কামনা করে জলসায় বিশেষ দোয়া করা হয়। আর এই নির্মম ঘটনার কারণে নির্ধারিত সময়ের একদিন পূর্বেই জলসার কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়।
গত ১০ই জুন ২০১০ রোজ বৃহস্পতিবার ব্রাসেলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে লাহোরের শহীদদের সম্মানে একটি শোক সভার আয়োজন করা হয়। এতে বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী Mrs. Joelle Milquet উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি স্বয়ং এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো এবং নিরিহ আহমদীদের হতাহতের কারণে জামাতে আহমদীয়াকে সমবেদনা জানানোর আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন।
আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বেলজিয়ামের আমীর জনাব হামেদ মোহাম্মদ শাহ্ সাহেব, উপ-প্রধানমন্ত্রী’কে উক্ত অনুষ্ঠানে স্বাগত জানান।
এ সময় একটি প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয় আর এ প্রদর্শনী থেকে সম্মানিত অতিথিরা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এবং জামাতের খলীফাদের সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত হন।
এরপর তাদেরকে হিউম্যানিটি ফার্ষ্ট এবং এর বিভিন্ন প্রজেক্ট, যার মাধ্যমে ধর্ম, বর্ণ ও জাতি, নির্বিশেষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবসেবা করা হচ্ছে সে ব্যাপারে সবাইকে অবহিত করা হয়।
লাহোরে সন্ত্রাসীদের পৈশাচিক ও নির্মম আক্রমনের উপর একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় আর এই নৃশংস ঘটনায় নির্মমভাবে শাহাদতবরণকারী ও গুরুতর আহতদের বিবরণ তুলে ধরা হয়।
প্রদর্শনী দেখার পর পবিত্র কুরআন পাঠের মধ্য দিয়ে যথারীতি অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। মোহতরম আমীর সাহেব তাঁর বক্তৃতায় সম্মানিত অতিথির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং লাহোরের ঘটনায় আহমদীরা এবং বিশেষ করে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ইসলামী শিক্ষার আলোকে কিভাবে ধৈর্য প্রদর্শন করা হয়েছ তা তুলে ধরেন।
এরপর বেলজিয়ামের মিশনারী মওলানা হাফেজ এহসান সেকান্দর সাহেব, সাবেক সাংসদ মোহতরামা সওয়য়াদ রযূক সাহেবা এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য প্রদান করেন।
সবশেষে দোয়ার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয় বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে