In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
গত ১৬ই মে জামাতে আহমদীয়া, বাসে (Basse) একটি নতুন মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছে। আহমদীয়া মুসলিম জামাত, গাম্বিয়ার সম্মানিত আমীর এ উপলক্ষ্যে মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীতা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা’লা বলেছেন, এ পৃথিবীতে যে ব্যক্তি আল্লাহ্র ঘর নির্মাণ করবেÑ জান্নাতে আল্লাহ্ তা’লা তার জন্য ঘর বানাবেন।
উক্ত মসজিদে তিনশত মুসল্লী নামায আদায় করতে পারবেন। আহমদীয়া মুসলিম জামাতের রীতি অনুসারে সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমেই বেশীর ভাগ কাজ সমাধা করেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
এ সময় আমীর সাহেব, জামাতের প্রত্যেক সদস্যের কাছে হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর সালাম এবং দোয়াপূর্ণ বাণী পৌঁছে দেন। যাতে হুযূর (আই.) গাম্বিয়ার শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেছেন।
এ সময় গাম্বিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য আপার রিজিওনের (Upper Region) গভর্ণর মহোদয় জামাতকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
উক্ত অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শহরের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে জামাতের নিষ্ঠাবান বন্ধুরা যোগদান করেন বলেও সূত্র জানিয়েছে।
গত ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০১০ তারিখে বোবো রিজিওনের তোলুভতামাহ্ গ্রামে একটি নব নির্মিত মসজিদের উদ্বোধন করা হয়। প্রকাশ থাকে যে, এটি বোবো শহর হতে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত আর এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা আহমদী।
উক্ত মসজিদ নির্মাণে স্থানীয় জামাত উল্লেখযোগ্য ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং ১৫০ জন সদস্য স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে নিয়মিত মাটি, বালু এবং পাথর সরবারহ করেছেন। এছাড়া রাজ মিস্ত্রির পুরো কাজও জামাতের সদস্যরা করেছেন।
উক্ত মসজিদ উদ্বোধনের উদ্দেশ্যে মোহতরম আমীর সাহেবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ওগাডুগু থেকে সেখানে যান। অনুরূপভাবে বোবো শহর থেকেও জামাতের নিষ্ঠাবান সদস্যরা সেখানে আসেন।
এলাকার আলেম সমাজ এবং চীফগণ ছাড়াও আশপাশের ২০টি জামাত হতে সাত শতাধিক আহমদী উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। এ সময় একজন অ-আহমদী সত্য গ্রহণ করে আহমদীয়া মুসলিম জামাতভূক্ত হন।
বুর্কিনাফাঁসোতে আর একটি মসজিদের উদ্বোধন করা হয়েছে ডোরী শহর থেকে ৩৫ কি: মি: দূরে অবস্থিত পুরোহিসো গ্রামে। সেখানে মসজিদের সাথে একটি অতিথিশালাও নির্মিত হয়েছে।
গত ২২শে ফেব্রুয়ারী ২০১০ তারিখে বুর্কিনাফাঁসোর আমীর সাহেব উক্ত মসজিদের শুভ উদ্বোধন করেন। পার্শ্ববর্তী ১৯টি গ্রামের ৭৫০জন বন্ধু উক্ত অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং দু’জন সম্মানিত কাউন্সিলরও উক্ত অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন।
মসজিদ নির্মাণ উপলক্ষ্যে স্থানীয় জনগন আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং জামাতের বিভিন্ন গঠনমূলক উদ্যোগের ভূয়সি প্রশংসা করেন। আল্লাহ্ তা’লা নিজ করুণায় আমাদের এই দুর্বল প্রচেষ্টা গ্রহণ করুন।
গত ২৪ – ২৬শে এপ্রিল আহমদীয়া মুসলিম জামাত, ব্রাজিলের ১৭তম বার্ষিক জলসা অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবারই প্রথম আমেরিকা থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই জলসায় যোগদান করেন। জলসার শেষ দিন স্থানীয় কাউন্সিলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিবর্গ ছাড়াও আশিজন স্থানীয় বাসিন্দা যোগদান করেন।
শহরের মেয়র মহোদয় স্বয়ং জলসায় যোগদান করতে না পারলেও একটি ফ্যাক্স বার্তায় জলসার সার্বিক সাফল্য কামনা করেছেন।
হুযূর আনোয়ার (আই.) জলসা উপলক্ষ্যে জামাতকে মোবারকবাদ জানান এবং ব্রাজিলের দশভাগ মানুষের কাছে আহমদীয়াতের বাণী পৌঁছানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও নযম পাঠের পর ব্রাজিল জামাতের প্রেসিডেন্ট এবং মিশনারী ইনচার্জ সাহেব জলসার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য বর্ণনা করেন। এরপর মজলিস আনসারুল্লাহ্, ব্রাজিলের সদর সাহেব তাঁর বক্তৃতায় সেখানে নির্মিত প্রথম আহমদীয়া মসজিদ সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন এবং দোয়া করান। এরপর পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের মাঝে পৃথক পৃথকভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় কাউন্সিলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জলসার আয়োজন দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং জামাতকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।
জলসার দ্বিতীয় দিন এ বছরের জলসার মূল প্রতিপাদ্য ‘ধর্মের গুরুত্ব এবং যৌক্তিকতা’ সম্পর্কে বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিবর্গকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। পবিত্র কুরআন ও নযম পাঠের মাধ্যমে উক্ত বিশেষ অধিবেশন আরম্ভ হয়। এরপর বক্তারা জামাতে আহমদীয়ার পরিচিতি এবং ইসলামে মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা এবং সামাজিক কর্মকান্ডের কেন্দ্র হচ্ছে মসজিদ। যেথায় খোদার ইবাদতের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যারও সমাধান করা হয়ে থাকে।
জামাতের শ্রদ্ধেয় প্রেসিডেন্ট ও মিশনারী ইনচার্জ উপস্থিত সকলকে এই মহতি জলসায় যোগদানের জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান আর মুক্তির জন্য ধর্মীয় শিক্ষার কোন বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। বিভিন্ন ধর্মের সম্মানিত প্রতিনিধিরা তাঁদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জামাতে আহমদীয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
দু’টি জাতীয় পত্রিকা জলসার সচিত্র সংবাদ ফলাও করে প্রকাশ করেছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে