In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
লাজনা ইমাইল্লাহ্, আইভরিকোষ্টের তৃতীয় বার্ষিক ইজতেমা গত ৯ ও ১০ই এপ্রিল, ২০১০ আবিদজানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ৯টি রিজিওন থেকে লাজনারা এতে যোগদান করেন। স্থানীয় একটি স্কুলে এ ইজতেমার আয়োজন করা হয় আর ১৮ই এপ্রিল রাত থেকেই অতিথিরা সেখানে সমবেত হতে আরম্ভ করেন।
প্রকাশ থাকে যে, ইজতেমার একদিন পূর্বেই লাজনা ও নাসেরাত বোনেরা স্কুলের তিনতলা বিল্ডিং এর ১৮টি কক্ষ ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করেন। এবং ইজতেমাকে সফল করার জন্য সকলেই অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দিপনার সাথে সর্বাত্মক চেষ্টা ও সহযোগিতা করেন।
তাহাজ্জুদ নামায এবং কুরআনের দরসের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। এরপর পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, নযম ও আহাদ পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সদর সাহেবা এবং সেক্রেটারী তালীম ও তরবিয়তের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পর বিভিন্ন ধর্মীয় বিষয়ে প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়।
দ্বিতীয় দিন বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, এতে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করেন। ইজতেমা উপলক্ষ্যে একটি হস্তশিল্প প্রদর্শনিরও আয়োজন করা হয়। লাজনা এবং নাসেরাত বোনেরা প্রতিটি প্রতিযোগিতায় একান্ত উৎসাহ ও উদ্দিপনার সাথে অংশ গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উত্তম ফলাফলকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। উক্ত ইজতেমায় মোট ৯০৯জন উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
ইউগান্ডার একটি জেলা বোডোডা যা আম্বালা শহর থেকে প্রায় ৫৫ কি:মি: পূর্বদিকে অবস্থিত, সেখানে ভারী বর্ষণের কারণে গত ১লা মার্চ, ২০১০ ভয়াবহ ভূমি ধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে ফলে মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে পুরো একটি গ্রাম। আর মারা গেছে ৩৬০জন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী অন্য আরো দু’টি গ্রামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিক ক্ষয়-ক্ষতির আশংকায় সরকার পাহাড়ে বসবাসকারী প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে আর তাদেরকে বিভিন্ন সাময়িক শিবিরে আশ্রয় দিয়েছে।
হিউম্যানিটি ফার্ষ্টের স্বেচ্ছাসেবিরা সেখানে পৌঁছে প্রথমে জরিপ করে দেখেন যে, প্রথমে তাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। তাই সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা শিবির স্থাপন করা হয় এবং স্থানীয় সরকারের সহায়তায় ১০ই মার্চ থেকে ২৬শে এপ্রিল পর্যন্ত দুর্যোগ কবলিত আর্ত মানবতাকে বিভিন্নভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। এ সময় হিউম্যানিটি ফার্ষ্টের ডাক্তাররা পাঁচ সহস্রাধিক রোগীর চিকিৎসা করেন, যাদের মধ্যে ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, প্রসূতি ও বিভিন্ন আঘাত জনিত রোগী ছিল।
পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে তাই হিউম্যানিটি ফার্ষ্ট বর্তমানে এই শিবিরের দায়িত্ব স্থানীয় সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে, তবে এখনও সেখানে তিন-চার মাসের বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী ও ঔষধ-পত্র মওজুদ আছে।
আর্ত-পীড়িতদের সাহায্যার্থে উক্ত চিকিৎসা শিবির প্রতিষ্ঠার জন্য, সরকার, বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় জনসাধারণ হিউম্যানিটি ফার্ষ্টের ভূয়সি প্রশংসা করেন এবং কৃতজ্ঞতা জানান।
আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত ১৫ই মে ২০১০ রোজ শনিবার একটি তবলীগি সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। তবলীগি সভায় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা জোনের ইনচার্জ মওলানা মোহাম্মদ সোলায়মান, ন্যাশনাল সেক্রেটারী তবলীগি মোহতরম মোহাম্মদ তাসাদ্দক হোসেন এবং নায়েব ন্যাশনাল আমীর ও মিশনারী ইনচার্জ মওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী।
উক্ত তবলীগি সভায় বকশীবাজার, তেজগাঁও, মিরপুর, নাখালপাড়া, আশকোনা, ফতুল্লাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় শতাধিক জেরে তবলীগ ভাই অংশগ্রহণ করেন। আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত নতুন কোন ধর্ম নয় এ বিষয়টি মওলানা আব্দুল আউয়াল খান চৌধুরী সাহেব আগত অতিথিদের সামনে কুরআন ও হাদীসের আলোকে তুলে ধরেন। আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত যাকে ইমাম মাহদী (আ.) মনে করেন তিনিই যে সত্য মাহদী তা কীভাবে অন্যরা শনাক্ত করতে পারবে এ বিষয়ে আগত মেহমানদের মধ্য থেকে অনেকেই প্রশ্ন করলে মিশনারী ইনচার্জ সাহেব পবিত্র কুরআন ও হাদীসের আলোকে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। হযরত ইমাম মাহদী (আ.)-কে অমান্য করলে যে হযরত রসূল করীম (সা.)-এর আদেশ অমান্য করা হয় সে বিষয়টিও সভায় গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়। হযরত ঈসা (আ.)-এর আকাশে জীবিত থাকা সম্পর্কে এক প্রশ্নের উত্তরে মওলানা সাহেব বলেন, পবিত্র কুরআন হাদীসের কোথাও হযরত ঈসা (আ.)-এর জীবিত থাকার কোন প্রমাণ নেই বরং তিনি যে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন তার অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে।
মিশনারী ইনচার্জ সাহেব বলেন, হযরত ইমাম মাহদী (আ.) এসেছেন বিশ্ব-মানবতাকে এক পতাকা তলে সমবেত করার জন্য। দলাদলি বন্ধ করে সবাই যদি আজ সত্য মাহদীর হাতে বয়’আত করে এক হয় তাহলে অবশ্যই পৃথিবীতে পুনরায় শান্তি ফিরে আসবে। আলহাজ্জ মওলানা আব্দুল আযীয সাদেক সাহেব-এর দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে