In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের ৪র্থ বাষিক জলসা গত ২রা ও ৩রা এপ্রিল রোজ শুক্র ও শনিবার আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, শালসিঁড়িতে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। মোহতরম ন্যাশনাল আমীর সাহেবের সভাপতিত্বে দোয়ার মাধ্যমে বিকাল ৩.০০ টায় জলসার প্রথম অধিবেশন আরম্ভ হয়। উদ্বোধনী ভাষণ প্রদান করেন মোহতরম ন্যাশনাল আমীর সাহেব। তিনি তার ভাষণে জলসার গুরুত্ব এবং যোগদানকারীদের করণীয় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। অতপর মওলানা সালেহ আহমদ, জনাব শরীফ আহমদ, মওলানা সোলায়মান সুমন, মওলানা বশীরুর রহমান সাহেব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। সন্ধা ৭টায় এমটিএ-এর মাধ্যমে সরাসরি হুযূর (আই.)-এর জুমুআর খুতবা শোনা হয়।
জনাব ইসরাইল দেওয়ান - প্রেসিডেন্ট, আহমদীয়া মুসলিম জামাত, শালসিঁড়ি সাহেবের সভাপতিত্বে জলসার দ্বিতীয় অধিবেশন শনিবার সকাল ৯.৩০ মিনিটে শুরু হয়। এদিন বিভিন্ন বিষয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন মওলানা রইস আহমদ, জনাব মোহাম্মদ তাসাদ্দক হোসেন এবং লাজনার উদ্দেশ্যে নসিহতমূলক বক্তব্য রাখেন জনাব মোবাশ্বের উর রহমান, ন্যাশনাল আমীর আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত, বাংলাদেশ। এ অধিবেশনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড় জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব বনমালী ভৌমিক। তিনি সরকারি দপ্তরসমূহে ন্যাশনাল আমীর সাহেবসহ বিভিন্ন আহমদীদের সততার সাথে কাজ করার ভুয়সী প্রশংসা করেন। এ ধরণের শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সম্মেলনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন।
মোহতরম ন্যাশনাল আমীর সাহেবের সভাপতিত্বে জলসার সমাপনী অধিবেশন শুরু হয় বিকাল ৩.০০টায়। এ অধিবেশনেও জামাতের উলামারা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। মোহতরম ন্যাশনাল আমীর সাহেবের সমাপ্তি ভাষণ ও দোয়ার মাধ্যমে জলসার অনুষ্ঠান শেষ হয়। জলসায় পুরুষ-মহিলাসহ মোট ১ হাজার ৬শ লোক উপস্থিত ছিলেন এছাড়া দুই জন নতুন বয়াত করে আহমদীয়া জামাতভূক্ত হন বলেও জানা গেছে।
জামেয়া আহমদীয়া - জার্মানীর প্রথম বার্ষিক খেলাধুলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিশনারী ইনচার্জ মোহতরম হায়দার আলী জাফর সাহেবের সভাপতিত্বে পবিত্র কুরআন পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। জামেয়া আহমদীয়ার.প্রিন্সিপাল সাহেব তাঁর বক্তৃতায় খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। নিয়মতান্ত্রীকভাবে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কীভাবে পালন করা যায় তা শেখনোর উদ্দেশ্যে এ প্রতিযোগিতার সার্বিক আয়োজনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল জামেয়ার শিক্ষার্থীদের উপর।
১০০ মিটার এবং এক কিলোমিটার দৌড় এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দু’টি দলের মধ্যে ফুটবল, ভলিবল এবং বিভিন্ন একক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দোয়ার মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়েছে।
গত ২৩শে মার্চ আহমদীয়া মুসলিম জামা’ত জার্মানীর সকল মসজিদে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এতে জামাতের সকল শ্রেণীর সদস্যরা অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে অংশগ্রহণ করেন। উক্ত দিবস উপলক্ষ্যে স্থানীয় মিশনারী এবং জামাতের কর্মকর্তারা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর পবিত্র জীবন চরিতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
গত ১লা এপ্রিল আহমদীয়া মুসলিম জামাত জার্মানীর উদ্যোগে RIEDBERG শহরে একটি বৃক্ষরোপণ করা হয়। প্রকাশ থাকে যে, এ শহরে আহমদীয়া জামাতের ‘বাইতুল আযীয’ নামী একটি মসজিদ রয়েছে। হুযূর আনোয়ার (আই.) ২০০৯ সনের ডিসেম্বর মাসে উক্ত মসজিদের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছিলেন।
RIEDBERG শহর এবং জামাতে আহমদীয়ার মাঝে সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসাবে এই বৃক্ষটি রোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্মানিত অতিথি যোগদান করেন। এদের মধ্যে জার্মানীর আমীর এবং RIEDBERG শহরের মেয়র মহোদয় অন্যতম। বৃক্ষরোপণ শেষে উপস্থিত সবাই স্থানীয় কাউন্সিলের ক্যাফেটরিয়াতে সমবেত হন, সেখানে আমীর সাহেব এবং মেয়র মহোদয় বক্তব্য রাখেন।
মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া জার্মানীর উদ্যোগে গত ১৮ই এপ্রিল, ফ্রাঙ্কফুটে ‘বায়তুস সুবুহ’ -তে বার্ষিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৫০ জন খাদেম যোগদান করেন। ইতিপূর্বে তারা স্থানীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য স্থান লাভ করেন, তাই তাদেরকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
উদ্বোধনী ভাষণে জামেয়া আহমদীয়া - জার্মানীর প্রিন্সিপাল সাহেব ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
ইজতেমায় বিভিন্ন বিষয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কুরআন তেলাওয়াত উর্দু এবং জার্মান ভাষায় বক্তৃতা এর অন্যতম।
পুরস্কার বিতরণ শেষে মোহতরম আমীর সাহেব সমাপনী ভাষণ প্রদান করেন। দোয়ার মাধ্যমে এই মহতি ইজতেমা সমাপ্ত হয়েছে।
জার্মানীর Bensheim শহরে বশীর মসজিদে শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কুরআন পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান সম্পর্কীত গবেষণার উপর গুরুত্ব প্রদানই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। এ অনুষ্ঠানে একজন জার্মান সাংসদও বক্তব্য রাখেন। এছাড়া আরেকজন বক্তা Dr. Eppert বক্তব্য প্রদান করেন, যিনি ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন অব নিউক্লিয়ার -এ ১০ বছর ধরে কাজ করেছেন। তিনি তার বক্তৃতায় প্রফেসর ড. আব্দুস সালাম সাহেবের ভূয়সী প্রশংসা করেন। উপস্থিত সকলে এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। আবার অনেকে এম.টি.এ জার্মান শাখাকে সাক্ষাতকার প্রদান করতে গিয়ে বলেন, তারা চার্চে কখনো এ ধরণের বক্তৃতা শুনতে পাননি। তাই ভবিষ্যতে এ ধরণের আরও আয়োজন করা হবে বলে তারা আশা ব্যক্ত করেন।
মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া নরওয়ের উদ্যোগে গত ২৫শে এপ্রিল, ২০১০ তারিখে দ্বিতীয়বারের মতো মাহমুদ টূর্ণামেন্টের আয়োজন করা হয়। এতে নরওয়ের খোদ্দাম ছাড়াও ডেনমার্ক এবং সুইডেন থেকে চল্লিশ জনের অধিক খোদ্দাম যোগদান করে এবং ফুটবল, ভলিবল এবং ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে।
মোহতরম মুরব্বী সাহেবের সভাপতিত্বে এদিন সকাল ৯ ঘটিকায় পবিত্র কুরআন পাঠের মধ্য দিয়ে টূর্ণামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। মুরব্বী সাহেব তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে প্রত্যেক খাদেমকে ভালো খেলোয়াড় প্রমাণ করার জন্য উত্তম আদর্শ দেখানোর আহবান জানান।
ফুটবল ম্যাচে নরওয়ের তিনটি, ডেনমার্কের দু’টি এবং সুইডেনের একটি টিম অংশগ্রহণ করে। অনুরূপভাবে ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনেও ছয়টি দল প্রতিযোগিতা করে।
ফুটবল ও ভলিবলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নরওয়ের দু’টি দল। অপরদিকে ব্যডমিন্টন প্রতিযোগিতায় একক ও দ্বৈত চ্যাম্পিয়ন হয় সুইডেন।
নরওয়ের আমীর মোহতরম জারতাশত মুনির সাহেবের সভাপতিত্বে পবিত্র কুরআনের পাঠের মাধ্যমে টূর্ণামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। এসময় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সভাপতি সাহেব তাঁর সমাপনী ভাষণে টূর্ণামেন্টে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল এবং অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দোয়ার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শেষ হয়।
প্রকাশ থাকে যে, এই টূর্ণামেন্টে প্রায় দেড় শতাধিক খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন।
গত ১১ই এপ্রিল আহমদীয়া মুসলিম জামাত, ক্যালগরী’র উদ্যোগে মসজিদ ‘বায়তুন নূর’ -এ এক মহান সিরাতুন্নবী (সা.) জলসা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) রচিত নযম পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। এরপর বক্তারা মহানবী (সা.)-এর পবিত্র জীবন চরিতের উপর বিশদ আলোচনা করেন এবং তাঁর পবিত্র জীবনের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর ভূমিকার উপর আলোকপাত করেন। এ সময় মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা ও মাহত্ব সম্পর্কে হযরত মসীহ মওউদ (আ.) লিখিত বিভিন্ন উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা হয়। সবশেষে একটি জ্ঞানগর্ভ প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। উক্ত জলসায় এম.এল.এ জনাব দেভিন্দর শোরী বিশেষ অতিথি হিসাবে যোগদান করেন এবং পারষ্পরিক মূল্যবোধ ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জামাতে আহমদীয়ার আন্তর্জাতিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার প্রায় ৮৬০ জন নারী ও পুরুষ উক্ত জলসায় উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে