In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
গত ১৭ই ও ১৮ই নভেম্বর, ২০০৯ বেনিনের চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ ‘কতনৌ’-তে দু’দিনব্যাপী একটি সর্ব-ধর্ম সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সকল ধর্মের প্রতিনিধিবৃন্দ স্ব স্ব ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন।
পবিত্র কুরআন পাঠের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আহমদীয়া জামাতের প্রতিনিধি জনাব লোকমান বাসীর সাহেব বর্তমান সময়ের সমস্যাবলী এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর সমাধান সম্পর্কে অত্যন্ত জোরালো বক্তব্য প্রদান করেন। উপস্থিত সবাই তাঁর বক্তৃতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এরপর তিনি তার বক্তব্য সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর প্রদান করেন।
স্থানীয় ‘উডো’ (Wodou) ধর্ম যাজক বলেন, “ইসলামের সঠিক শিক্ষা সম্পর্কে আজ আমরা আহমদীয়া জামাতের মাধ্যমে অবহিত হলাম”।
খ্রিষ্টধর্মের একজন প্রতিনিধি বলেন, আজ আমরা প্রথম ইসলামের সঠিক শিক্ষা জানতে পারলাম। বর্তমান যুগে সকল মসজিদ এবং ধর্মীয় শিক্ষালয়ে আহমদীয়া জামাত কর্তৃক উপস্থাপিত ইসলামী শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক।
এরপর বিভিন্ন ধর্মের সম্মানিত প্রতিনিধিরা, দাম্পত্ব্য কলহ, উত্তরাধিকার এবং নারীর অধিকার সম্পর্কে তাদের সুচিন্তিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
পরের দিন সর্ব-ধর্ম সম্মেলনের জেনারেল এসেম্বলীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় আর এতে বেনিনের প্রটেষ্টান্ট চার্চের নেতাকে আগামী বছরের জন্য সভাপতি এবং আহমদীয়া জামাত বেনিনের আমীর সাহেবকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
সম্মেলন চলাকালে জামাতের পক্ষ হতে একটি পুস্তক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় এবং সবার মাঝে বই-পুস্তক বিতরণ করা হয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।
আল্লাহ্ তা’লার অপার করুণায় বর্তমানে বুর্কিনাফাঁসোতে আহমদীয়া জামাতের চারটি রেডিও ষ্টেশন চালু আছে আর এর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তবলীগ ও তরবিয়ের কাজ চলছে।
বুর্কিনাফাঁসো সরকারের বেতার বিভাগের প্রধান গত ১৪ই অক্টোবর, ২০০৯ তারিখ দেদগো’তে অবস্থিত আমাদের রেডিও ইসলামিক আহমদীয়া পরিদর্শন করেন। এ সময় আঞ্চলিক গভর্ণর, মেয়র এবং অন্যন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁর সাথে ছিলেন।
সম্মানিত অতিথিদেরকে রেডিও ষ্টেশনে স্বাগত জানান দেশের আমীর এবং রিজিওনাল মিশনারী সাহেব। পরিদর্শন শেষে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করতে গিয়ে দর্শনার্থী বইয়ে নিম্নোক্ত মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন: “রেডিও ইসলামিক আহমদীয়া পরিদর্শন করে আমরা আনন্দিত। জামাতে আহমদীয়া সম্পর্কোন্নয়নের গুরুত্ব অনুধাবনে সক্ষম হয়েছে ফলে তারা কেবল ধর্মীয় শিক্ষাই নয় বরং দেশের উন্নয়নের জন্য সাধারণের সাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে”। এর সাথে যুক্ত সকল কলা-কুশলীকে তারা আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং সাদর আপ্যায়নের ভূয়ষী প্রশংসা করেন।
মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া, বাংলাদেশ-এর জাতীয় বার্ষিক ইজতেমা ২০০৯ অনুষ্ঠিত। আল্লাহ্র অপার কৃপায় গত ১০-১২ই ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া, বাংলাদেশ এর ৩৮তম জাতীয় বার্ষিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ জলসায় দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ছাড়াও আমেরিকা, সিয়েরালিওন এবং ভারতের রাষ্টদূতগণ যোগদান করেন। জলসায় ছয়শতাধিক নিষ্ঠাবান আহমদী ছাড়াও অগণিত অ-আহমদী ভাই-বোন যোগদান করেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও খোদ্দামুল আহমদীয়ার পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শুরু হয়। উদ্বোধনী ভাষণ প্রদান করেন মোহতরম নায়েব ন্যাশনাল আমীর-১ প্রফেসর মীর মোবাশের আলী সাহেব। সভাপতির ভাষণে মোহতরম সদর সাহেব প্রত্যেক খাদেম ও তিফলকে ঐক্যের শৃংখলে আবদ্ধ থেকে ইবাদতের মনোযোগী হবার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আহাদ পাঠের মাধ্যমে সভা সমাপ্ত হয়।
ইজতেমার ৩ দিনই নানাবিধ খেলাধুলা এবং তালিমী প্রতিযোগিতায় মুখর ছিল। দেশের ৫৭টি মজলিস থেকে ছয় শতাধিক খোদ্দাম ও আতফাল এতে অংশগ্রহণ করেন।
১০ই ডিসেম্বর বাদ মাগরিব ‘আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে কুরআন’ শীর্ষক তরবিয়তী অধিবেশনে অতিথি বক্তা হিসাবে বক্তব্য প্রদান করেন মোহতরম মওলানা সালেহ আহমদ সাহেব। এরপর একটি মনোজ্ঞ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
১১ই ডিসেম্বর সকালে অনুষ্ঠিত হয় আতফাল সম্মেলন। মোহতামীম আতফাল জনাব মাহমুদ আহমদ বিপ্লব সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সদর মজলিস স্বীয় উপস্থিতি দ্বারা আতফালদের অনুপ্রাণিত করেন। একইদিনে বেলা ৩:৩০ মিনিটে মোহতরম সদর সাহেবের সভাপতিত্বে সমাপনী অধিবেশন আরম্ভ হয়। পবিত্র কুরআন ও নযম পাঠের পর উপদেশমুলক বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক ন্যাশনাল আমীর আলহাজ্ব মীর মোহাম্মদ আলী ও নায়েব ন্যাশনাল আমীর-২ জনাব মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। সবশেষে সদর, মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন।
এরপর খেলাধুলা, তালিমী প্রতিযোগিতা ও সাংগঠনিক কাজের স্বীকৃতির পুরস্কার প্রদান করা হয়। শ্রেষ্ঠ স্থানীয় মজলিস নির্বাচিত হওয়ায় বি. বাড়িয়া মজলিসের কায়েদ সাহেবের হাতে ‘লাওয়ায়ে খোদ্দামুল আহমদীয়া’ তুলে দেওয়া হয়। আহাদ পাঠ ও দোয়ার মাধ্যমে এই তিনদিনের মিলনমেলা সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
গত ৪ই ও ৫ই ডিসেম্বর, ২০০৯ আহমদীয়া মুসলিম জামাত, নিউজিল্যান্ড এর ২১তম বার্ষিক জলসা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জামাতে আহমদীয়া নিউজিল্যান্ড-এর ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট, ড. মোহাম্মদ শোরাব সাহেব বলেন, তরবিয়ত এবং তবলীগি ময়দানে উল্লেখযোগ্য কাজের ফলে এ বছর জলসার উপস্থিতি রেকর্ড সংখ্যক বৃদ্ধি পেয়েছে।
জুমুআর নামাযের মাধ্যমে জলসার কার্যক্রম আরম্ভ হয়। পতাকা উত্তোলন এবং দোয়ার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জামাতের বুযূর্গগণ বক্তব্য প্রদান করেন। জলসার দ্বিতীয় দিন বিভিন্ন সাংসদ এবং ইহুদী ও শিখ ধর্মের নেতৃবৃন্দকে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা তাদের বক্তব্যে জামাতে আহমদীয়ার শান্তিকামী শিক্ষার ভূয়ষী প্রশংসা করেন।
সবশেষে মওলানা শফিকুর রহমান সাহেব – “ইসলামে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা হতে উদ্ধারে আমাদের করণীয়” সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। ইজতেমায়ী দোয়ার মাধ্যমে এ মহতী জলসা অত্যন্ত সফলতার সাথে সমাপ্ত হয়।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে