In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
ঐতিহ্য মোতাবেক যুক্তরাজ্যের বার্ষিক জলসার পর হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.)-এর সাথে গত ১৭ই অক্টোবর, ২০০৯ বাইতুল ফুতুহ্ মসজিদ সংলগ্ন তাহের হলে এম.টি.এ’এর বার্ষিক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
এম.টি.এ’এর সকল কর্মকর্তা, কর্মী ও কলাকুশলী ছাড়াও জামাতে আহমদীয়া - যুক্তরাজ্য এবং কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিগণ এতে যোগদান করেন।
পবিত্র কুরআন পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। এরপর এম.টি.এ’এর আধুনিক গ্রাফিক্স সিষ্টেম এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে সংগৃহীত ফুটেজের আলোকে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর অনুমতিক্রমে জনাব মোবারক সিদ্দিকী কবিতার বিভিন্ন পঙতি আবৃত্তি করেন।
এ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, আমাদের প্রাণ প্রিয় ইমাম হযরত আমীরুল মু’মিনীন স্বয়ং এতে উপস্থিত থেকে এম.টি.এ’এর সকল কর্মকর্তা, কর্মী ও কলাকুশলীকে অনুপ্রাণীত করেন।
গত ৩০শে অক্টোবর থেকে ১লা নভেম্বর, ২০০৯ পর্যন্ত ত্রিনিদাদের জাতীয় সম্মিলন কেন্দ্রে - আহমদীয়া মুসলিম জামাত, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বার্ষিক জলসা অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ জলসায় দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ছাড়াও আমেরিকা, সিয়েরালিওন এবং ভারতের রাষ্টদূতগণ যোগদান করেন। জলসায় ছয়শতাধিক নিষ্ঠাবান আহমদী ছাড়াও অগণিত অ-আহমদী ভাই-বোন যোগদান করেন বলে জানা গেছে।
জুমুআর নামাযের মাধ্যমে জলসার কার্যক্রম আরম্ভ হয়। জুমুআর খুতবায় মওলানা ওয়াসীম আহমদ জাফর সাহেব খিলাফতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করেন। জুমুআর নামাযের পর জামাতে আহমদীয়া ও ত্রিনিদাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় আর জলসার সার্বিক সফলতা কামনা করে ইজতেমায়ী দোয়া করা হয়। এদিন বিকালের অধিবেশনে পবিত্র কুরআন এবং নযম প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বাজামাত তাহাজ্জুদ নামাযের মাধ্যমে দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। এদিন সকালের অধিবেশনে জামাতের আমীর এবং মিশনারী ইনচার্জ সাহেব জলসা উপলক্ষ্যে প্রদত্ত হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর বিশেষ বাণী পাঠ করে শুনান। হুযূর তাঁর বাণীতে জলসার আশিস ও কল্যাণ এবং তবলীগ সম্পর্কে জামাতের সদস্যদের দায়-দায়িত্বের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
এ অধিবেশনে জামাতের বিভিন্ন উলামা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির উপর জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য প্রদান করেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত এবং নযম পাঠের মধ্য দিয়ে তৃতীয় দিনের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। নামাযের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি বক্তৃতার পর পুনরায় আমীর সাহেব হুযূর (আই.)-এর বাণী পাঠ করে শুনান। এরপর আমীর সাহেব জলসার সমাপনি ভাষণ প্রদান করেন, তিনি তাঁর ভাষণে ‘ইসলামই শান্তি’ শিরোনামে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
এরপর সম্মানিত অতিথিগণ শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া জলসা উপলক্ষ্যে প্রেরিত দেশের প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনান তাঁর বিশেষ প্রতিনিধি। তিনি তাঁর বার্তায়, জামাতের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ড ও অনুপম শিক্ষার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং জামাতের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
দোয়ার মধ্য দিয়ে এই মহতি জলসা সমাপ্ত হয়েছে।
গত ২২শে নভেম্বর, ২০০৯ ফ্রিপোর্ট-এ মজলিস আনসারুল্লাহ্ - ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর বার্ষিক ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পবিত্র কুরআন পাঠের মধ্য দিয়ে ইজতেমা আরম্ভ হয়। এরপর বিভিন্ন বিষয়ে বক্তারা আলোকপাত করেন। এতে নামাযের গুরুত্ব ও আনসারুল্লাহ্র দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করা হয় আর এ সম্পর্কে মহানবী (সা.) এবং তাঁর নিষ্ঠাবান সেবক হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সম্মানিত সাহাবীদের পবিত্র জীবনচরিত থেকে বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।
হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.)-এর নির্দেশের আলোকে মসজিদ, মসজিদ হাউস নির্মাণ এবং তবলীগের প্রতিও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আমীর সাহেব তাঁর বক্তৃতায় ফ্রিপোর্ট মিশন হাউস উদ্বোধনের উল্লেখ করতে গিয়ে বিশেষ দোয়ার আবেদন করেন এবং সবাইকে নবনির্মিত মিশন হাউস পরিদর্শন করার আমন্ত্রণ জানান।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে