In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.)-এর নিদের্শানুসারে গত ৮ই নভেম্বর, ২০০৯ আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বুর্কিনাফাঁসো ‘কওউডুগো’ (Koudougou) রিজিওনে বিনামূল্যে একটি চিকিৎসা শিবির স্থাপন করা হয়।
এই শহরের সম্মানিত মেয়র মহোদয় অফিসিয়ালী এই শিবির স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এবং এই চিকিৎসা শিবির সংক্রান্ত সকল প্রচার-প্রচারণার ব্যয়ভারও মেয়র মহোদয় স্বয়ং বহন করেন। তাঁর বক্তব্য ছিলো, জামাতে আহমদীয়া দরিদ্র এবং অসহায় মানুষের সেবায় এতো কিছু করে তাই এ লক্ষ্যে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে, তাই আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব তা আমরা করবো।
মোকররম ডাক্তার মাহমুদ বানু সাহেব প্রায় এক’শ কি:মি: দূরত্ব পাড়ি দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য এখানে আসেন। সারাদিন রোগীর সমাগম হয় এবং সন্ধা পর্যন্ত এই শিবির মোট ৪৯৬ জন রোগীকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে এবং তাদের মাঝে বিনামূল্যে ঐষধ সরবরাহ করে।
এসময় শহরের মেয়র মহোদয়ও শিবির পরিদর্শন করতে আসেন এবং আন্তরিক মানব সেবা দেখে জামাতের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এছাড়া হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর নির্দেশ মোতাবেক ১৩ জন রোগীকে চোখের ছানী অপারেশনের জন্য নির্বাচিত করা হয় আর অচিরেই জামাত বিনামূল্যে এসব রোগীর অপারেশন করার ব্যবস্থা করবে।
গত ১৩ থেকে ১৫ই অক্টোবর, ২০০৯ মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া - ভারতের ৪০তম এবং আতফালুল আহমদীয়া - ভারতের ৩১তম বার্ষিক ইজতেমা কাদিয়ান - দারুল আমানে আশিসপূর্ণ এক আধ্যাত্মিক পরিবেশে অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত ইজতেমায় লন্ডনস্থ কেন্দ্রীয় ইন্ডিয়া ডেস্কের প্রধান - জনাব ফাতেহ্ আহমদ ডাহেরী সাহেব, সদর আঞ্জুমানে আহমদীয়ার প্রধান - মোহতরম প্রফেসর সালেহ্ মোহাম্মদ আলাদ্বীন সাহেব এবং নাযের আলা এবং কাদিয়ানের আমীর - মোহতরম মওলানা মোহাম্মদ এনাম গৌরী সাহেব বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ইজতেমায় ভারতের ১১টি প্রদেশের ১৭৮টি মজলিস হতে মোট ১৬৭৮জন খোদ্দাম ও আতফাল যোগদান করেন। এছাড়া ১১টি প্রদেশের আঞ্চলিক কায়েদ সাহেবানও স্ব-স্ব অঞ্চলের পক্ষ্যে প্রতিনিধিত্ব করেন।
মজলিসি কার্যক্রমের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ মজলিস হিসেবে আলমে এনামী’র পুরস্কার লাভ করে মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া, কাদিয়ান। এছাড়া শীর্ষ ১০টি মজলিস এবং আরো ৪১টি মজলিসকে দায়িত্ব পালনে বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য সনদ প্রদান করা হয়।
অনুরূপভাবে খেলাধুলা ও ধর্মীয় বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী খোদ্দাম ও আতফালের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন লন্ডনস্থ কেন্দ্রীয় ইন্ডিয়া ডেস্কের প্রধান - জনাব ফাতেহ্ আহমদ ডাহেরী সাহেব।
খোদ্দামুল আহমদীয়ার মাঝে বিজ্ঞান বিষয়ে আকর্ষণ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে উক্ত ইজতেমায় একটি বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। আর এতে বক্তব্য প্রদানের উদ্দেশ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয় সদর আঞ্জুমানে আহমদীয়ার প্রধান - মোহতরম প্রফেসর সালেহ্ মোহাম্মদ আলাদ্বীন সাহেবকে। তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে ঘন্টাব্যাপি একটি গবেষণালব্ধ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
ইজতেমা চলাকালীন মজলিসে শূরা অনুষ্ঠিত হয় আর এতে আগামী টার্মের জন্য মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া -ভারতের সদর নির্বাচন করা হয়েছে।
১৯টি পত্র-পত্রিকা এবং ৪টি স্থানীয় টিভিতে উক্ত ইজতেমার সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
মজলিস আনসারুল্লাহ্ - ভারতের ৩২তম বার্ষিক ইজতেমা কাদিয়ান দারুল আমানে অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত ইজতেমায় লন্ডনস্থ কেন্দ্রীয় ইন্ডিয়া ডেস্কের প্রধান - জনাব ফাতেহ্ আহমদ ডাহেরী সাহেব, সদর আঞ্জুমানে আহমদীয়ার প্রধান - মোহতরম প্রফেসর সালেহ্ মোহাম্মদ আলাদ্বীন সাহেব এবং নাযের আলা এবং কাদিয়ানের আমীর - মোহতরম মওলানা মোহাম্মদ এনাম গৌরী সাহেব বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের ২০টি প্রদেশের ১৮৮টি মজলিস হতে মোট ৭৫০জন আনসার উক্ত ইজতেমায় যোগদান করেন। হুযূর আনোয়ার (আই.) ইজতেমা উপলক্ষ্যে একটি মনোমুগ্ধকর বাণী প্রদান করেন এবং তা উদ্বোধনী ও সমাপনী অধিবেশনে পাঠ করে শুনানো হয়।
উত্তম কর্মকান্ডের জন্য বিভিন্ন মজলিসকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়। শ্রেষ্ঠ মজলিস হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করে - পশ্চিম বাংলার কেশবপুর মজলিস আর এই মজলিসকে ‘আলমে এনামী’র পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এ সময় শীর্ষ দশটি মজলিস ছাড়াও আরো ৩২টি মজলিসকে উত্তম কর্মকান্ডের নিরিখে সনদ প্রদান করা হয়। অনুরূপভাবে ৪৮টি অঞ্চলের মধ্য হতে উত্তর প্রদেশের আগ্রা সার্কেল প্রথম স্থান অধিকারের গৌরব অর্জন করেন।
উপরন্তু শিক্ষামূলক, খেলাধুলা এবং ধর্ম বিষয়ক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় উত্তম ফলাফল অর্জনকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন, নাযের আলা এবং কাদিয়ানের আমীর - মোহতরম মওলানা মোহাম্মদ এনাম গৌরী সাহেব।
আহমদীয়া জামাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং এর গুরুত্ব শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুরূপভাবে মোকাররম ডাঃ আব্দুল মাজেদ সাহেব স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্পর্কে আনসার ভাইদেরকে বিভিন্ন টিপস প্রদান করেন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি যতœবান থাকার আহবান জানান।
ইজতেমার সময় মজলিসে শূরারও আয়োজন করা হয় আর এতে আগামী ২০১০ ও ২০১১ টার্মের জন্য মজলিস আনসারুল্লাহ্ - ভারতের ‘সদর’ এবং ‘নায়েব সদর সফে দওম’ এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৮টি পত্র-পত্রিকা এবং ২টি স্থানীয় টিভিতে উক্ত ইজতেমার সংবাদ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে