In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন আপত্তির জবাব এবং জামাতের পরিচিতি তুলে ধরার উদ্দেশ্যে গত ১০ই অক্টোবর জামাতে আহমদীয়া ইতালী একটি তবলীগি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্থানীয় মেয়র মহোদয় এরূপ একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য জামাতকে পরামর্শ দিয়েছিলেন আর ব্যাপস্থাপনার অধিকাংশ দায়িত্বও তার পক্ষ্য হতেই পালন করা হয়। স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন আপত্তির খন্ডন এবং তাদের সম্মুখে জামাতের সত্যিকার ধর্ম বিশ্বাস তুলে ধরে, তাদের ভুল নিরসন করাই ছিল এই আয়োজনের মূখ্য উদ্দেশ্য।
এদিন সকাল ১০.৩০টায় অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। জামাতে আহমদীয়া ইতালীর প্রেসিডেন্ট সাহেব উপস্থিত সূধীকে জামাতের ধর্ম বিশ্বাস সম্পর্কে সবিস্তারে অবহিত করেন। এ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং ছবি প্রজেক্টরের সাহায্যে প্রদর্শন করা হয়।
একজন ইতালীয়ান নারী জামাত সম্পর্কে তাঁর অনুভূক্তি ব্যক্ত করেন এবং সুইজ্যারল্যান্ড জামাত থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রাপ্ত জামাতের পরিচিতি মূলক চিঠি-পত্র তুলে ধরেন।
স্থানীয় মেয়র মহোদয় ‘রাভীনাহ্’ নগর প্রশাসনের পক্ষ্য হতে জামাতের সম্মানে লেখা একটি পত্র পাঠ করে শুনান। এতে জামাতে আহমদীয়ার সাথে প্রশাসনের দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের সূত্র ধরে জামাতকে দায়িত্বশীল, বিবেচক এবং আইন মান্যকারী একটি সংগঠণ বলে অভিহিত করেন।
এরপর ‘রাভীনাহ্’ শহর থেকে আগত প্রতিনিধি বর্গের পরিচয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় এবং তাদেরকে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদানের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সম্মানিত অতিথিগণ তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, জামাতে আহমদীয়া শান্তিপ্রিয় ও উদার মন-মানসিকতার অধিকারী এবং মানব সেবা মূলক একটি মুসলিম সংগঠণ। এরপর তারা কানাডার প্রধান মন্ত্রী জনাব ষ্টিফেন হারপার এবং যুক্তরাজ্যের আইন মন্ত্রী জনাব জ্যাক ষ্ট্র সহ বেশ ক’জন আন্তর্জাতিক নেতা জামাতে আহমদীয়া সম্পর্কে কি মনোভাব রাখেন তা তুলে ধরেন।
জামাতের পক্ষ্য হতে ‘হিউম্যানিটি ফার্ষ্ট’-এর পরিচিতি এবং ‘শান্তি’ সম্পর্কে হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর একটি বক্তৃতার সারাংশ ইতালীয়ান ভাষায় উপস্থাপন করা হয় আর পাশাপাশি পর্দায় শান্তি সম্মেলনের বিভিন্ন দৃশ্যও প্রদর্শন করা হয়।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শান্তি পূর্ণ সহাবস্থান এবং তাদের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন সংক্রান্ত হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বিভিন্ন উদ্ধৃতি পাঠ করে শুনান জামাতের প্রেসিডেন্ট সাহেব।
সবশেষে একটি জ্ঞানগর্ভ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইসলামে নারীর অধিকার এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি সম্পর্কে জামাতের শিক্ষা, মহানবী (সা.)-এর হাদীস এবং জীবনাদর্শের আলোকে প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়। স্থানীয় পত্র-পত্রিকা এই অনুষ্টানের সংবাদ ফলাও করে প্রকাশ করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
আল্লাহ্ তা’লার অপার কৃপায় গত ২রা ও ৩রা অক্টোবর জামাতে আহমদীয়া কোরিয়ার ১৪তম বার্ষিক জলসা অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর ‘ইয়াগু’র বাইতুয্ যিকর মসজিদে এই জলসা অনুষ্ঠিত হয়।
২রা অক্টোবর জুমার নামায শেষে পতাকা উত্তোলন, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং নযম পাঠের মধ্য দিয়ে জলসার শুভ উদ্বোধন করা হয়। জলসার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে উদ্বোধণী ভাষণ প্রদান করেন, অফিসার জলসা সালানা।
এরপর খিলাফতের গুরুত্ব ও আশিস এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর জীবন চরিত বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় দিন তেলাওয়াত, নযম পাঠ ছাড়াও বক্তারা নামাযের গুরুত্ব, মহানবী (সা.)-এর সাহাবীদের অতুলনীয় কুরবানী, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর রসূল প্রেম এবং তওহীদে বারী তা’লা বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
পরিশেষে ইজতেমায়ী দোয়ার মাধ্যমে এই মহতি জলসা সমাপ্ত হয়।
গত ২রা থেকে ৪ঠা অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে মজলিস খোদ্দামুল আহমদীয়া - অষ্ট্রেলিয়ার ২৬তম বার্ষিক ইজতেমা সিডনির ‘বাইতুল হুদা’ মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন দূরদূরান্তের অঞ্চল, অর্থাৎ ব্রিসবেন, এডিলেড, মেলবোর্ণ এবং ক্যানবেরা থেকে খোদ্দাম ও তিফলরা এতে যোগদান করেন।
জুমুআর নামাযের পর পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং আহাদ নামা পাঠের পর ইজতেমা উপলক্ষ্যে হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.) প্রদত্ত বিশেষ বাণী পাঠ করে শুনান হয়। হুযূর আনোয়ার (আই.) তাঁর বাণীতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায এবং খিলাফতের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
ইজতেমার দিনগুলোতে প্রত্যহ বাজামাত তাহাজ্জুদ নামাযের ব্যবস্থা ছিল। খোদ্দাম ও আতফালের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় ও খেলাধুলা বিষয়ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সকলেই অত্যন্ত উৎসাহের সাথে যোগদান করে।
ইজতেমা তৃতীয় দিন সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন, অষ্ট্রেলিয়ার আমীর এবং মিশনারী ইনচার্জ মওলানা মাহমুদ আহমদ বাঙ্গালী সাহেব।
যুক্তরাজ্যের ডা: ফরিদ আহমদ সাহেব এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী খাদেম ও তিফলদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। ইজতেমায় মোট উপস্থিতির সংখ্যা হচ্ছে, ২৮৭ জন। ইজতেমায়ী দোয়ার মাধ্যমে সভাপতি সাহেব এই মহতি ইজতেমার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে