In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
গত ১৫ই ও ১৬ই আগস্ট মজলিস খোদ্দামুল আহ্মদীয়া ইউগান্ডার জাতীয় বার্ষিক ইজতেমা ‘জানজা’ অঞ্চলের আঞ্চলিক কেন্দ্রে অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী খোদ্দাম ও আতফালরা অত্যন্ত উৎসাহ ও উদ্দিপনার সাথে ১৫ই আগস্ট ইজতেমা গাহে সমবেত হয়।
এবছর ৫ জন খোদ্দাম ৪০ কি:মি: দূরত্ব পায়ে হেটে এবং ১৪ জন খোদ্দাম ৭৫ কি:মি: দূর হতে সাইকেল চালিয়ে ইজতেমায় যোগদান করেছে।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং আহাদ নামা পাঠের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম যথারীতি আরম্ভ হয়। এরপর ইজতেমা উপলক্ষ্যে হুযূর আনোয়ার (আই.)-কর্তৃক প্রেরিত বিশেষ বাণী ইংরেজী ও স্থানীয় ভাষায় পাঠ করে শুনানো হয়।
নযম পাঠের পর পবিত্র কুরআনের আলোকে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর আবির্ভাবের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করা হয়।
এরপর ব্যক্তিগত ও দলগত ভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় ও খেলাধুলা প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয় আর খোদ্দাম ও আতফাল এতে স্বানন্দে যোগদান করে বলে সূত্র জানিয়েছে। এদিন সন্ধায় একটি মনোজ্ঞ প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়।
পরের দিন ১৬ই আগস্ট বাজামাত তাহাজ্জুদ এবং ফজরের নামাযের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম আরম্ভ হয়। এদিন বিভিন্ন প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন দুপুরে ইউগান্ডার আমীর সাহেবের সভাপতিত্বে ইজতেমার সমাপনি অধিবেশন আরম্ভ হয়। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের পর পুনরায় হুযূর আনোয়ার (আই.)-এর অমূল্য বাণী পাঠ করে শুনানো হয়। পুরস্কার বিতরণের পর মোহতরম আমীর সাহেব তার সমাপনি ভাষণে খিলাফতের আশিস ও কল্যাণমালার উল্লেখ করতে গিয়ে হাদীসের আলোকে খোদ্দামুল আহ্মদীয়া এবং জামাতের সদস্যদেরকে খিলাফত এবং জামাতের নেতৃবৃন্দের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
এবছর ইজতেমায় উপস্থিতি ছিল সাত শতাধিক যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দু শতাধিক বেশি বলে সূত্র জানিয়েছে।
গত ৮ই আগস্ট বেনিনের Bohicon অঞ্চলের একটি নবাগত জামাত ‘বাফু’র নবনির্মিত মসজিদ উদ্বোধন করা হয়, উক্ত অনুষ্ঠানে বেনিনের আমীর সাহেব ৮ জন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সহ যোগদান করেন।
এটি সেই স্থান যেখানে অ-আহ্মদী ইমামগণ আমাদের মসজিদের সাথে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে দ্বিতল মসজিদ নির্মাণের আগাম ঘোষণা দিয়েছিল কিন্তু এলাকার খৃষ্ট ধর্মাবলম্বী প্রধান তাদেরকে বলেছিলেন, তোমরা চাইলে সাত তলা মসজিদ বানাতে পারো কিন্তু আমাদের এলাকার প্রথম মসজিদ হিসেবে আহ্মদীয়া মসজিদই স্বীকৃতি পাবে। হুযূর (আই.) এ বছর জলসার দ্বিতীয় দিন তাঁর ভাষণে এই ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন।
দশ মিটার প্রশস্ত এই শ্বেত-শুভ্র মসজিদটি নির্মাণের জন্য জামাতের আপামর সদস্যরা দিন-রাত ওয়াকারে আমল করে অসাধ্য সাধন করেছেন। গ্রামের নবাগত আহ্মদীরা মসজিদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আগত কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিবর্গকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। ছোট্ট শিশুরা সুললিত কন্ঠে আরবী কাসিদা পাঠ করে শুনায়। এরপর স্থানীয় জামাতের প্রেসিডেন্ট সাহেব আগত সূধী মন্ডলীকে স্বাগত জানান।
এই অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিবৃন্দ ছাড়াও উক্ত এলাকার সাবেক মেয়র এবং অ-আহ্মদী ইমামও যোগদান করেন আর তারা নিজ নিজ শুভেচ্ছা বক্তব্যে জামাতে আহ্মদীয়ার বিভিন্ন কর্মকান্ডের ভূয়ষি প্রশংসা করেন।
মোহতরম আমীর সাহেব তার সভাপতির ভাষণে প্রত্যেক আহ্মদীকে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশাবলীর উপর সত্যিকার অনুশীলনের মাধ্যমে অন্যদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ স্থাপনের আহবান জানান।
এরপর আমীর সাহেবের নেতৃত্বে উপস্থিত সবাই কলেমা তৈয়বার ধ্বনি উচ্চকিত করে দলবেধে মসজিদে প্রবেশ করেন। এরপর যোহর আসরের নামায আদায়ের মাধ্যমে মসজিদের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে মোট ৪৩৫ জন নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
গত ৩রা ও ৪ঠা অক্টোবর, ২০০৯ মজলিস খোদ্দামুল আহ্মদীয়া, ইতালীর তৃতীয় বার্ষিক ইজতেমা ‘বাইতুত্ তৌহীদে’ অত্যন্ত সফলতার সাথে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টায় পতাকা উত্তোলন, কুরআন তেলাওয়াত এবং নযম পাঠের মধ্য দিয়ে ইজতেমার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। এরপর সদর মজলিস খোদ্দামুল আহ্মদীয়া জনাব আফতাব আহমদ সাহেব তার উদ্বোধনী ভাষণে, হযরত মুসলেহ মওউদ (রা.)’র নির্দেশনার আলোকে খোদ্দাম ও আতফাল সংগঠণ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। আর বিনয় ও নম্রতার সুফল সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
এরপর বিভিন্ন ধর্মীয় ও খেলাধুলা প্রতিযোগিতা আরম্ভ হয়। এদিন রাতে একটি জ্ঞানগর্ভ প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয় আর সুইজারল্যান্ডের মোবাল্লেগ মোকাররম সাদাকাত আহমদ সাহেব, খোদ্দাম ও আতফালের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।
ইজতেমার দ্বিতীয় দিনেও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আর জামাতের বুযুর্গগণ এদিন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য প্রদান করেন। সবেশেষে পুরস্কার বিতরণ এবং সমাপনি অনুষ্ঠান হয়। সমাপনি ভাষণে মোকাররম সাদাকাত আহমদ সাহেব কুরআন, হাদীস ও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর রচনার আলোকে সমসাময়ীক বিষয়ের উপর খোদ্দামদের গুরুত্বপূর্ণ নসীহত করেন। তিনি ইজতেমার আয়োজকদেরও ধন্যবাদ জানান।
রোববার বিকাল ৫টায় ইজতেমা সমাপ্ত হয় এতে মোট উপস্থিতির সংখ্যা ছিল ২৪৮ জন।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে