In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.
Love for All, Hatred for None.
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ
সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই:)
বাইতুল ফুতুহ্ মস্জিদ, লন্ডন, ইউকে
৮ই আগস্ট ২০০৮ইং
أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*
بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)
উচ্চারণ: আশহাদু আন্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্ যোয়াল্লীন। (আমীন)
হুযূর বলেন, আল্লাহ্তা’লার একটি বৈশিষ্ট্য বা গুণবাচক নাম হচ্ছে, ‘মুহাইমেন’। বিভিন্ন অভিধান গ্রন্থে মুহাইমেন এর যে অর্থ করা হয়েছে তা নিম্নরূপ:-
লিসানুল আরবে আল্ মুহাইমেন এর অর্থ করা হয়েছে,
আল্ যাহরী’তে লেখা হয়েছে, মুহাইমেন এর অর্থ আমিন অর্থাৎ আমানতদার বা বিশ্বস্ত। অনেকে মুহাইমেন এর অর্থ করেছেন, ‘মূতামান’ অর্থাৎ সেই সত্ত্বা যাকে নিরাপদ মনে করা হয়।
মুহাইমেনান আলাইহে’র অর্থ হচ্ছে: সেই সত্ত্বা যিনি সৃষ্টির রক্ষক এবং পরিচর্যাকারী। এছাড়া ‘মুহাইমেন’ এর অর্থ ‘রাকীব’ করা হয়েছে অর্থাৎ তত্ত্বাবধানকারী।
তারপর পবিত্র কুরআন ‘মুহাইমেন আলাইহে’ হবার অর্থ করা হয়েছে, এই গ্রন্থ অতীতের সকল গ্রন্থের উপর পর্যবেক্ষক।
এ শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিসানুল আরবে উহাইব বলেন যে, যখন বান্দা আল্লাহ্তা’লার সত্ত্বায় বিলীন হয়ে যায় এবং সত্যবাদীদের পরিচর্যার গন্ডীভূত হয় তখন এমন কোন জাগতিক বস্তু নেই যা তার হৃদয়কে আকর্ষণ করতে পারে। মুহাইমিনিয়্যাত শব্দ মুহাইমেন থেকে উৎপন্ন। এবং এর অর্থ সত্যবাদী এবং প্রশান্ত হৃদয় অর্থাৎ যখন বান্দা এমন মর্যাদায় উপনীত হয় তখন কোন বস্তু তাকে আকর্ষণ করে না আর আল্লাহ্ ভিন্ন কিছুই তার পছন্দ হয় না।
আকরাবুল মওয়ারেদে বলা হয়েছে: মুহাইমেন, এটি আল্লাহ্তা’লার একটি গুণবাচক নাম। এর অর্থ, আল্ আমীন: নিরাপত্তাদাতা এবং তত্বাবধায়ক। আল্ মুতামান: সেই সত্ত্বা যার কাছে আমানত গচ্ছিত রাখা হয়। যাকে রক্ষক মনে করা হয়। আশ্ শাহেদ: সাক্ষী।
এরপর হুযূর বলেন, পবিত্র কুরআনের সূরা আল্ মায়েদার ৪৯ নাম্বার এবং সূরা আল্ হাশর এর ২৪ নাম্বার আয়াতদ্বয়ে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন সূরা আল্ মায়েদায় আল্লাহ্তা’লা বলেন,
وَ أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً ......
অর্থ:-এবং আমরা তোমার উপর এই কিতাব সত্য সহকারে নাযেল করেছি, যা এর পূর্বে যে কিতাব রয়েছে তার সত্যায়নকারী এবং এর উপর তত্বাবধায়নকারী রূপে, অতএব তুমি তদনুযায়ী তাদের মধ্যে মিমাংসা কর যা আল্লাহ্ নাযেল করেছেন এবং যে সত্য তোমার কাছে এসেছে তা পরিত্যাগ করে তুমি তাদের মন্দ কামনা-বাসনার অনুসরণ কর না।...’(সূরা আল্ মায়েদা:৪৯)
হযরত শেখ ইসমাঈল হাক্কী বরসূভী সূরা আল্ মায়েদার ৪৯ নাম্বার আয়াতের তফসীর করতে গিয়ে লিখেন,
‘কুরআন করীমকে ‘মুহাইমেনান আলাইহে’ বলা হয়েছে; এর অর্থ, এটি সকল ঐশী গ্রন্থের নিগরান বা তত্বাবধায়ক অর্থাৎ কুরআন অন্যান্য ঐশী গ্রন্থের সত্যাসত্যের উপর নিগরান। অতীতের শরিয়তের শুধু সে সকল কথা সত্য ও সঠিক যাকে পবিত্র কুরআন করীম সত্যায়ন করে।’
হুযূর বলেন, পবিত্র কুরআন শেষ ঐশী গ্রন্থ। খোদাতা’লা মহানবী (সা:)-এর উপর এ গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। এর প্রতিটি অক্ষর এবং বাক্য অবিকল সেভাবে সংরক্ষিত আছে যেভাবে খোদাতা’লা নাযেল করেছেন। পবিত্র কুরআন এমন ঐশী গ্রন্থ যা কেবল নিজের নিষ্কলুষতাই প্রমাণ করে না বরং অতীতের সকল ঐশী গ্রন্থের সত্যায়ন করে। আল্লাহ্তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
নিশ্চয় আমরাই এই যিক্র নাযেল করেছি এবং আমরাই এর হিফাযতকারী। (সূরা আল্ হিজর: ১০)
এটি খোদাতা’লার কোন মৌখিক দাবী নয় বরং বাস্তবেই খোদাতা’লা এই গ্রন্থ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছেন। মহানবী (সা:)-এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অগনিত মানুষ কুরআনকে নিজেদের স্মৃতির মনি কোঠায় ধারণ করেছেন আর এটি পবিত্র কুরআন সংরক্ষণের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। এছাড়া বিভিন্ন শতাব্দীতে আগত মুজাদ্দিদ এবং শেষ যুগে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে প্রেরণ করে আল্লাহ্তা’লা পবিত্র কুরআনের হিফাযত করেছেন। ধর্ম নিয়ে যারা গবেষণা করে তারা অনেকেই স্বীকার করে যে, কুরআনের মত অন্য কোন ধর্ম গ্রন্থ এভাবে হিফাযত করা হয়নি। অনেকেই বিভিন্ন যুগে কুরআন সম্পর্কে দুরভিসন্ধিমূলকভাবে সন্দেহ সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে কিন্তু খোদা তাদের সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,
‘স্মরণ রাখা উচিৎ যে, পবিত্র কুরআন অতীতের সকল গ্রন্থ এবং নবীদের উপর অনুগ্রহ করেছে। তাদের শিক্ষামালা যা কাহিনীর আকারে ছিল তাকে সত্য বলে সাব্যস্ত করেছে। আমি সত্য সত্য বলছি, কোন মানুষ এই কেচ্ছাকাহিনীর বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারে না যতক্ষণ না সে কুরআন পাঠ করে। কুরআনের অনুপম বৈশিষ্ট্য إِنَّهُ لَقَوْلٌ فَصْلٌ وَمَا هُوَ بِالْهَزْلِ (সূরা আত্ তারেক: ১৪-১৫) কুরআন হলো মাপকাঠি, তত্বাবধায়ক, জ্যোতি, আরোগ্য এবং রহমত। যারা পবিত্র কুরআন পাঠ করে এবং একে গল্প মনে করে, তারা মূলত: কুরআন পাঠ করেনি বরং এর অসম্মান করেছে। আমাদের বিরুদ্ধবাদীরা যে আমাদের বিরোধিতায় উঠে পড়ে লেগেছে তার কারণ হ���ো আমরা পবিত্র কুরআনকে যেভাবে খোদাতা’লা বলেছেন, সেভাবে এটিকে মূর্তিমান জ্যোতি, প্রজ্ঞা এবং মা’রেফত দেখাতে চাই আর তারা কুরআনকে কেচ্ছা-কাহিনীর ঊর্ধ্বে কো��� ���র্যাদা না দিতে প্রস্তুত নয়। আমরা তাদের এমন কথা মেনে ন�����তে পারি ��া। খোদ��তা’লা স্বীয় অনুগ্রহে আমাদের উপর পবিত্র কুরআনকে এক সমুজ্জল ও জীবন্ত গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশ করেছেন। তাই আমরা তাদের বিরোধিতার প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করি না। এক কথায় যারা আমার সাথে সম্পর্ক রাখে আমি বারংবার এই কাজের প্রতি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছি, এবং নসীহত করি যে, খোদাতা’লা সত্যের বিকাশের জন্যই এ জামাত প্রতিষ্ঠা করেছেন, কেননা এছাড়া ইহজীবনে কোন নূর বা জ্যোতি লাভ হতে পারে না। এবং আমি চাই সৎ কর্মের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য পৃথিবীতে বিকশিত হোক; খোদাতা’লা আমাকে এ কর্মের জন্য প্রত্যাদিষ্ট করেছেন। সুতরাং পবিত্র কুরআনকে অধিকহারে পাঠ করো, কিন্তু কোন কাহিনী মনে করে নয় বরং একটি সত্যদর্শন হিসেবে।’
হুযূর বলেন, তোমাদের সবার উচিত সেবা ও পুণ্যের ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিযোগিতা করা। কুরআনের শিক্ষা হলো, তোমরা সব কিছুর উপর পবিত্র কুরআনকে প্রাধান্য দাও। পূববর্তী ঐশী গ্রন্থের অনুসারীরা যদি তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন না করত তাহলে ঈমান হারাতো না অধিকন্তু মহানবী (সা:)-এর প্রতি ঈমান আনতে সক্ষম হতো।
এ পর্যায়ে হুযূর পবিত্র কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ পাঠ করেন:
إِنَّ الَّذِينَ هُمْ مِنْ خَشْيَةِ رَبِّهِمْ مُشْفِقُونَ وَالَّذِينَ هُمْ بِآَيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ وَالَّذِينَ هُمْ بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ وَالَّذِينَ يُؤْتُونَ مَا آَتَوْا وَقُلُوبُهُمْ وَجِلَةٌ أَنَّهُمْ إِلَى رَبِّهِمْ رَاجِعُونَ أُولَئِكَ يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَهُمْ لَهَا سَابِقُونَ
অর্থাৎ, নিশ্চয় যারা নিজেদের প্রভুর ভয়ে কম্পমান। এবং যারা তাদের প্রভুর আয়াতসমূহের প্রতি ঈমান আনে। এবং যারা তাদের প্রভুর সাথে শরীক করে না। এবং যারা (হকদারকে) যা কিছু দান করে তা এমন অবস্থায় দান করে যে, তাদের অন্তর ভীত-সন্ত্রস্ত থাকে এ বলে যে, একদিন তারা তাদের প্রভুর কাছে ফিরে যাবে। এরাই পুণ্য কর্মে তৎপরতা অবলম্বন করে এবং তারা পুণ্য কর্মের ক্ষেত্রে পরস্পর প্রতিযোগিতা করে। (সূরা আল্ মু’মিনুন: ৫৮-৬২)
আল্লাহ্তা’লা উপরোক্ত আয়াতগুলোতে মু’মিনদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তারা সবসময় পরকালমুখী হয়ে থাকেন ইহকালের প্রতি তাদের কোন আকর্ষণ থাকেনা। খোদাকে পাবার বাসনায় সকল কর্ম করেন। খোদার ভয় তাদের হৃদয়ে ছেয়ে থাকে ফলে তারা খোদা প্রদত্ত শিক্ষার উপর শতভাগ প্রতিষ্ঠিত হবার চেষ্টা করেন। তারা জানে যে, খোদার সত্ত্বা সদা ও সর্বত্র বিরাজমান, কুরআনের শিক্ষা তাদের জন্য আলোকবর্তিকা স্বরূপ, তাঁরা অন্যান্য ধর্মের উপর ইসলাম এবং কুরআনকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেন।
শেষ যুগের নিদর্শনাবলীর মধ্যে মসীহ্ মওউদ (আ:) হলেন অন্যতম নিদর্শন। হুযূর বলেন, আজ সবাই দোয়া করে,
اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ
অর্থাৎ: হে খোদা! আমাদেরকে সরল সুদৃঢ় পথে পরিচালিত করো।
অথচ কেউই যুগ মসীহ্র আহবানে সাড়া দিতে প্রস্তুত নয়। খোদা প্রদত্ত সরল-সুদৃঢ় পথে চলার পরিবর্তে যুগ মসীহ্কে অস্বীকার করে মাগযুব ও যাল্লিন অর্থাৎ অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্টতার শিকার হচ্ছে। কেবল মৌখিকভাবে কুরআনকে শ্রেষ্টত্ব প্রদান করলেই চলবে না বরং খোদার নিদর্শন দেখে তা মানতে হবে। বর্তমানে যুগ মসীহ্কে মানা ছাড়া খোদার দয়া লাভ সম্ভব নয়।
হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেন,
‘মানুষের মাঝে যখন সত্যিকার ঈমান জন্ম নেয় তখন সে তার কর্মে একটি বিশেষ স্বাদ অনুভব করে। এবং তার তত্বজ্ঞানের চোখ খুলে যায়। সে সেভাবে নামায পড়ে যেভাবে নামায পড়া আবশ্যক। পাপের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়। অপবিত্র বৈঠকের প্রতি ঘৃণা জন্মে এবং আল্লাহ্তা’লা ও তাঁর রসূলের শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ব্য প্রকাশের জন্য আপন হৃদয়ে একটি বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা অনুভব করে। এমন ঈমানের ফলে মানুষ মসীহ্র মত ক্রুশ বিদ্ধ হতেও ভয় পায় না। সে খোদাতা’লার জন্য হযরত ইব্রাহীম (আ:)-এর মত আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়েও সন্তুষ্ট থাকে। যখন সে খোদার ইচ্ছাকেই নিজের ইচ্ছা বলে মনে করে তখন আল্লাহ্তা’লা যিনি অদৃশ্যের বিষয়ে সম্যক অবহিত তিনি তার রক্ষক ও তত্বাবধায়ক নিযুক্ত হন, এবং তাকে ক্রুশ থেকে জীবন্ত রক্ষা করেন আর আগুন থেকেও নিরাপদে উদ্ধার করেন। কিন্তু এসব অলৌকিক নিদর্শন কেবল তারাই প্রত্যক্ষ করেন যারা খোদার উপর পুরোপুরি ঈমান রাখেন।’
হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর কথা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, যারা নেকী বা পুণ্যের ক্ষেত্রে উন্নতি করে তারা খোদার মোকাবেলায় জাগতিক কর্মকে প্রাধান্য দেয় না। মসীহ্র যুগের আলামত বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ্তা’লা বলেছেন, সে যুগে মানুষ বস্তুবাদীতাকে খোদার ইবাদতের উপর প্রাধান্য দিবে এবং সৎকর্মের প্রতি দৃষ্টি থাকবে না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্তা’লা পবিত্র কুরআনে বলেন,
وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انْفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا
অর্থাৎ: এবং যখন তারা কোন ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা আমোদ-প্রমোদ দেখতে পায়, তখন তারা তোমাকে একাকী দন্ডায়মান অবস্থায় ছেড়ে তার দিকে দৌড়ে যায়। আজ অধিকাংশ মুসলমানের বেলায় এই আলামত পূর্ণ হতে দেখা যায়। (সূরা আল্ জুমু‘আ: ১২)
আহ্মদীদেরকেও নিজেদের আত্মিক অবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে, যাতে কোথাও আত্মপ্রতারণায় লিপ্ত হয়ে ঐশী শাস্তির না শিকার হয়।
হুযূর বলেন, পুণ্যার্জনের জন্য মু’মিন শুধু চেষ্টাই করে না বরং এক্ষেত্রে সম্মুখে এগিয়ে যেতে প্রাণান্ত চেষ্টা করে। নিরাপত্তাদাতা, প্রবল প্রতিবিধায়ক, অতীব গরিয়ান এবং সকল মাহাত্ব্য ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী খোদা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভের অবিরাম চেষ্টা করে যেতে হবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্তা’লা বলেন,
هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
অর্থ: তিনিই আল্লাহ্ যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই, তিনি অদৃশ্য এবং দৃশ্য সকল বিষয়ে পরিজ্ঞাত। তিনি অযাচিত-অসীম দাতা, পরম দয়াময়। তিনিই আল্লাহ্ যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই, যিনি সর্বাধিপতি, অতীব পবিত্র, পরম শান্তিময়, পূর্ণ নিরাপত্তাদাতা, সর্বোত্তম রক্ষাকর্তা, মহাপরাক্রমশালী, প্রবল প্রতিবিধায়ক, অতীব গরিয়ান তারা যাকে শরীক করে আল্লাহ্ তা হতে পবিত্র। তিনি আল্লাহ্, একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, আদি সুনিপূণ স্রষ্টা, সর্বোত্তম আকৃতিদাতা; সুন্দরতম নামসমূহ তাঁরই। আকাশ সমূহ এবং পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর গুণ ও পবিত্রতা বর্ণনা করছে এবং তিনিই মহা পরাক্রমশালী, পরম প্রজ্ঞাময়। (সূরা আল্ হাশর:২৩-২৫)
আল্লামা তাবরুসী সূরা আল্ হাশরের ২৪ নাম্বার আয়াতের তফসীর করতে গিয়ে লিখেন,
‘হযরত আবু হুরায়রা (রা:) কর্তৃক বর্ণিত যে, আমি আমার প্রিয় রসূল (সা:)-এর কাছে ‘ইসমে আযম’ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি (সা:) বলেন, সূরা আল্ হাশরের শেষ আয়াত অধিকহারে পাঠ করার চেষ্টা করো।’ হযরত আবু উমামাহ্ (রা:) নবী আকরাম (সা:) হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি (সা:) বলেছেন, যে কেউ রাতে বা দিনে সূরা আল্ হাশরের আয়াতসমূহ্ পাঠ করে এবং সেই দিন বা রাতে যদি সে মারা যায় তাহলে তার জন্য জান��নাত নির্ধারিত হয়ে যাবে।’
হুযূর বলেন, এস্থানে এটিও স্পষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয় যে, নিছক তেলাওয়াতই মানুষকে মুক্তি দিবে না। সুললিত কন্ঠে কুরআন তেলাওয়াত কর�� উত��তম কিন্তু মনে রাখা দরকার যে, অবশ্যই খোদার ইবাদতকে অগ্র��ধি��ার দিতে হবে। পবিত্র কুরআন বলে, অনেকের ইবাদত তাদের জন্য অভিশাপ বয়ে আনবে, কারণ তাদের ইবাদত খোদার জন্য নয় বরং তা লোক দেখানো ইবাদত। আল্লাহ্র গুণাবলী বুঝে যদি কেবল তাঁর জন্যই ইবাদত কর, নেকী ও পুণ্যের বিষয়ে ভাব আর সে মোতাবেক আমল করো, খাঁটি হৃদয়ে তাঁর মহিমা ও গুণ কীর্তন করো তাহলেই তোমরা খোদার নৈকট্য লাভ করবে। দৃশ্য অদৃশ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত খোদার সমীপে যখন যাবে মনে রাখবে যে, তাঁকে ধোঁকা দেয়া যায় না। অর্থাৎ যে খোদার কালাম পাঠ করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে শুধু তার জন্যই এ আয়াতগুলো কল্যাণের কারণ হবে। অর্থাৎ বাহ্যিক চেষ্টা-প্রচেষ্টার পাশাপাশি যদি সে আন্তরিকভাবে এ আয়াতগুলো পাঠ করে তাহলে অবশ্যই সে খোদার নৈকট্য লাভ করবে এবং মুক্তি পাবে।
সানী খুতবায় হুযূর আনোয়ার (আই:) জামেয়া আহ্মদীয়া কাদিয়ানের দু’জন ছাত্র ওয়াসীম আহমদ এবং হাফিয আতহার আহমদ এর হৃদয়বিদারক মৃত্যু সংবাদ প্রদান করেন এবং জুমুআর নামায শেষে তাদের গায়েবানা জানাযার নামায পড়ান।
প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে